গলার স্বর বদলানোয় মানসিক অবসাদ, গান ছাড়ার ভাবনা! অরিজিতের সান্নিধ্য়ে নতুন আলো দেখছেন সারেগামাপা জয়ী শ্রেয়ান

গলার স্বর বদলে মানসিক বিষাদ, গান ছাড়ার চিন্তাভাবনা! কঠিন লড়াই পেরিয়ে অরিজিৎ সিংয়ের সান্নিধ্যে নতুন আলো দেখছেন ‘সারেগামাপা’ খ্যাত শ্রেয়ান ভট্টাচার্য। 

Published on: Nov 1, 2026, 11:45:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

২০১৭ সালে জি টিভির জাতীয় স্তরের রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস’-এর মঞ্চ মাতানো সেই ছোট শ্রেয়ান আজ ২১ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ। বাল্যকালেই দেশজুড়ে আকাশছোঁয়া খ্যাতি পাওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে জীবনের এক অন্ধকার ও কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

গলার স্বর বদলানোয় মানসিক অবসাদ! অরিজিতের সান্নিধ্যে পালটে গেল শ্রেয়ানের ভাবনা
গলার স্বর বদলানোয় মানসিক অবসাদ! অরিজিতের সান্নিধ্যে পালটে গেল শ্রেয়ানের ভাবনা

কণ্ঠ পরিবর্তন ও মানসিক অবসাদের দিনগুলি:

১২-১৩ বছর বয়সে হঠাৎ মেলে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা। কিন্তু বয়সের সন্ধিক্ষণে পৌঁছানোর সাথে সাথেই শুরু হয় মূল সংকট। বয়সের স্বাভাবিক নিয়মে গলার স্বর বদলাতে শুরু করায় গানের আগের সেই রেঞ্জ ও কনফিডেন্স পেতে সমস্যা হচ্ছিল শ্রেয়ানের। স্টেজ শো-তে ঠিকমতো সাউন্ড ফিডব্যাক না মেলা এবং ছোটবেলার সেই আকাশছোঁয়া পরিচিতি ধরে রাখার মানসিক চাপে তীব্র ‘ওভারথিংকিং’ ও ডিপ্রেশনে (মানসিক অবসাদ) আক্রান্ত হন তিনি।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একপ্রকার মানসিক যন্ত্রণা থেকে গানবাজনা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও তাঁর মনে দানা বেঁধেছিল।

পরিবারের অটুট সমর্থন ও সঠিক অভিভাবকত্ব:

অনেক চাইল্ড আর্টিস্টের ক্ষেত্রে পরিবারের অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ দেখা গেলেও শ্রেয়ানের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভয়েস চেঞ্জের এই সংবেদনশীল সময়ে গান গাইলে ভোকাল কর্ডের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে বুঝতে পেরে তাঁর বাবা-মা সচেতনভাবেই তাঁকে বাণিজ্যিক শো বা লাইভ কনসার্ট থেকে দূরে রাখেন।

পরিবারের ইতিবাচক মানসিক সমর্থনে শ্রেয়ান বিরতির এই সময়টাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন এবং শো-এর পেছনে না ছুটে কেবল মিউজিক চর্চা ও রেয়াজে মনোযোগ দেন।

অরিজিৎ সিংয়ের সান্নিধ্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প:

এই কঠিন সময় পার করার পরই সংগীত জগতের অন্যতম নক্ষত্র অরিজিৎ সিং-এর সংস্পর্শে আসেন শ্রেয়ান। অরিজিতের একটি বিশেষ সিনেমার প্রজেক্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর মিউজিক্যাল কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

স্টুডিওর অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা: মুম্বাইয়ে অরিজিৎ সিংয়ের নিজস্ব স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ের সময় অরিজিতের মাটির মানুষসুলভ আচরণ এবং গান নিয়ে বহুমূল্য পরামর্শ শ্রেয়ানকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। গলার পরিবর্তনজনিত মানসিক ভীতি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কেবল মিউজিকের প্রতি সৎ থেকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন অরিজিৎ।

বর্তমান ব্যস্ততা ও নতুন অবতার:

বর্তমানে মুম্বাই থেকে মিউজিক প্রোডাকশনের ওপর প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেছেন শ্রেয়ান ভট্টাচার্য। কেবল গায়ক হিসেবেই নয়, স্বাধীনভাবে গান তৈরি (Music Composition) ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো আয়ত্ত করে নিজেকে একজন সার্থক ও পরিণত মিউজিশিয়ান হিসেবে গড়ে তুলছেন তিনি। ছোটবেলার সেই চাইল্ড স্টার সমস্ত সামাজিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ সম্পূর্ণ নতুন রূপে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করছেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More