Aamir Khan: ‘সাহস কী করে হয় দেরিতে আসার?’ সহকারী পরিচালকের ‘না’, আঁতে লাগে প্রযোজক আমিরের
সচিন তেন্ডুলকরের অবসর পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য এক ঘণ্টার ছুটি নিয়েছিলেন আমির। পার্টির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেরি হয়ে যায় নায়কের, বেজায় চটেছিলেন পরিচালক রিমা কাগতি।
সচিন তেন্ডুলকরের অবসর গ্রহণের জমকালো পার্টি, আর সেখানে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে শুটিং সেটে চার-পাঁচ ঘণ্টা লেট! ভাবা যায়, স্বয়ং বলিউডের ‘মিষ্টার পারফেক্টশনিস্ট’ আমির খানও সময়মতো সেটে না পৌঁছানোর অপরাধে এক্কেবারে ঝাড় খেয়ে বসেছিলেন? আশ্চর্যের ব্যাপার হল, সেই ছবির প্রযোজক স্বয়ং আমির খান।

সম্প্রতি ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক আড্ডায় নিজের এই পুরোনো ‘কেচ্ছা’ ফাঁস করে বসলেন আমির। ঘটনাটি ‘তলাশ’ ছবির শুটিংয়ের সময়ের। সচিনের পার্টিতে যাওয়ার আগে রিমাকে রাজি করিয়ে এক ঘণ্টার ছাড় চেয়েছিলেন আমির। কিন্তু পার্টির রঙ এতই জমেছিল যে সেই এক ঘণ্টা দেখতে দেখতে চার-পাঁচ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে! সেটে পৌঁছানোমাত্রই আমিরের সমস্ত 'আমিরিপনা' এক মুহূর্তে উবে যায়। সচিনের জন্য একটু বকা সহ্য করে নেবেন ভেবেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রিমা তাঁকে যেভাবে চেপে ধরবেন তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি আমির। পরিচালক তো রেগে কাঁই। রিমা কাগতি আমিরকে বলেন— ‘তোমার এত দেরিতে আসার সাহস হয় কীভাবে? এটাই কি তোমার প্রফেশনালিজম?’— আমির তো রীতিমতো থ!
তবে রিমার কাছে আমিরের এই ধমক খাওয়া কিন্তু নতুন কিছু নয়। এর শুরুটা হয়েছিল বহু আগে, সুপারহিট ‘লগান’ ছবির সেটে। তখন আমির নিজে সেই ছবির অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রযোজক ও নায়ক, আর রিমা ছিলেন নিতান্তই সেকেন্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। আমির একটু অলস চালে ধীরেসুস্থে প্রাতরাশ সারতে ভালোবাসতেন বলে রিমাকে আর্জি জানিয়েছিলেন, ‘আমাকে বাকিদের চেয়ে অন্তত ১৫ মিনিট আগে খাবারের জন্য ডেকে দিও।’ কিন্তু রিমা বিন্দুমাত্র রেয়াত না করা এক শক্ত মেজাজের এডি! তিনি আমিরের মুখের উপর চট করে বলে দেন, ‘একদম সম্ভব নয়! আপনার মেকআপ টিমকে আপনার জন্য ১৫ মিনিট আগে আনা যাবে না।’
প্রযোজক হয়েও এক জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্টের মুখে এমন সটান ‘না’ শুনে সেদিন আমিরের মোক্ষম আত্মসম্মানে লেগেছিল, বুকে বেশ চোটও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রিমার সেই কঠোর অনুশাসনের সামনে শেষমেষ হাল ছাড়তে বাধ্য হন মিষ্টার পারফেক্টশনিস্ট। বাধ্য ছেলের মতো সময়মতোই হাজির হতে শুরু করেছিলেন সেটে। বড় পর্দার বড় তারকাদের সেটে যেভাবে কড়া শাসনের বাঁধনে বেঁধে রাখা যায়, তা রিমা কাগতির চেয়ে ভালো আর কেই বা জানে!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


