হৃতিকের কাছ থেকে ৪০০ কোটি খোরপোশ নেন সুজন? বহু বছরের জল্পনায় মুখ খুললেন ফারাহ
বলিউডের অন্যতম চর্চিত প্রাক্তন দম্পতি হৃতিক রোশন ও সুজান খানের বিচ্ছেদ নিয়ে বহু বছর ধরেই ৪০০ কোটি টাকার খোরপোশের গুঞ্জন শোনা যায়। এবার সেই জল্পনায় জল ঢেলে সুজানের দিদি ফারাহ খান আলি স্পষ্ট জানালেন, সুজান হৃতিকের কাছ থেকে খোরপোশ হিসেবে এক টাকাও নেননি।
বলিউডের অন্যতম চর্চিত প্রাক্তন দম্পতি হৃতিক রোশন ও সুজান খানের বিচ্ছেদের এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। তবুও তাঁদের ডিভোর্স ঘিরে নানা জল্পনা এখনও শিরোনামে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছিল, খোরপোশ হিসেবে সুজান নাকি হৃতিকের কাছ থেকে ৪০০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। এবার এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সেই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন সুজানের দিদি তথা জনপ্রিয় জুয়েলারি ডিজাইনার ফারাহ খান আলি।

কী বললেন ফারাহ খান আলি?
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে ফারাহ খান আলি সাংবাদিক বিকি লালওয়ানিকে বলেন, ‘২০১২ সালে আমার স্বামী আকিলের সঙ্গে আমার সমস্যার শুরু হয়েছিল। আমি বিষয়টা বাবা-মাকে জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় সুজান এবং হৃতিকের সম্পর্কেও সমস্যা শুরু হয়েছিল। তাই তখন আমি নিজের ব্যাপারে বাবা-মাকে কিছু জানাইনি। পরে ২০১৬ সালে আমি তাঁদের সব জানাই। আমার মনে হয়, ২০১৪ সালেই হৃতিক ও সুজানের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। তারপর ২০১৬ সালে আমি নিজের বিষয়টা বাবা-মাকে জানাই।’
পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
ফারাহ আরও বলেন, ‘আমার মা খুবই কুল ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে সিদ্ধান্তে তুমি সুখী হবে, সেটাই নাও। তবে আমার বাবা খুশি ছিলেন না, কারণ তাঁর মনে হত আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ।’
এরপর যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদের খবর শুনে সঞ্জয় ও জারিন খান কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন, তখন ফারাহ বলেন, ‘বাড়িতে প্রচণ্ড হইচই পড়ে গিয়েছিল। সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা মন্তব্য করেছিলেন। তবে আমার মনে হয়, হৃতিক ও সুজান অত্যন্ত পরিণতভাবে পুরো পরিস্থিতি সামলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সবকিছুই ভালোভাবে মিটেছিল।’
খোরপোশ নিয়ে কী বললেন ফারাহ?
ফারাহ খান আলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, কখনওই ৪০০ কোটি টাকার খোরপোশ দেওয়া হয়নি। এখনও যখন দেখি সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ লিখছেন যে সুজান ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছেন এবং সেই কারণে ধনী হয়ে গিয়েছেন, তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার প্রিয় বোন একটি টাকাও নেয়নি। আমরা এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি, যেখানে আমাদের শেখানো হয়েছে বস্তুগত জিনিসের চেয়ে সম্পর্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুজান কিছুই নেয়নি। সেই কারণেই আজও তাঁর প্রাক্তন স্বামী হৃতিক, প্রাক্তন শ্বশুর রাকেশ রোশন এবং প্রাক্তন শাশুড়ি পিঙ্কি রোশনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এত সুন্দর। তাঁরা এখনও সুজানকে খুব ভালোবাসেন। আমার মনে হয়, সুজান গোটা পরিস্থিতিটা অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে সামলেছিল। সে কোনওভাবেই 'গোল্ড ডিগার' নয়।'
সুজান কেন কখনও এই গুঞ্জনে জবাব দেননি?
ফারাহ বলেন, 'আমি ওকে একবার বলেছিলাম, তুমি এসব গুজবের প্রতিবাদ করো না কেন? তখন সুজান বলেছিল, 'মানুষ আমার সম্পর্কে কী ভাবছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না'। আমার মনে হয়, আমরা সবাই অনেকটা এমনই। আমি যা করতে চাই, তাই করি। যতক্ষণ না কেউ আমার জীবনে কোনও মূল্য যোগ করছে, ততক্ষণ সে আমার সম্পর্কে কী ভাবছে, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।'
হৃতিক ও সুজানের বিয়ে?
ফারাহকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সেহৃতিক যখন সুপারস্টার ছিলেন, তখন তিনি কি সত্যিই সুজানকে বিয়ে করতে প্রস্তুত ছিলেন? উত্তরে ফারাহ বলেন, 'ওরা দু'জন একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসত। ওরা বিয়ে করতেই চেয়েছিল। আমার মনে হয়, হৃতিকের বাবা-মা চাইছিলেন, ওরা যেন বিয়ের আগে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করে, কারণ তখন হৃতিক বড় সুপারস্টার হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু হৃতিক ও সুজান দু'জনেই বিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। সেই সময়তেই ওরা বিয়ে করতে চেয়েছিল।'
এখন কার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন হৃতিক ও সুজান?
বর্তমানে সুজান খান অভিনেতা আরসলান গোনির সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। অন্য দিকে, হৃতিক রোশন সম্পর্কে রয়েছেন অভিনেত্রী সাবা আজাদের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে ফারাহ খান আলি বলেন, 'নিজের সেরা সংস্করণ হতে চাইলে জীবনে সুখী থাকা খুব জরুরি। এমন মানুষের সঙ্গেই থাকুন, যারা আপনাকে সত্যিই সুখী রাখে। আরসলান খুব ভালো মানুষ। ও সুজানকে খুব সুখে রাখে। দু'জনে একে অপরকে খুঁজে পেয়েছে, তাঁদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া রয়েছে, আগ্রহও অনেকটাই এক। ওদের একে অপরের প্রতি যত্ন দেখে খুব ভালো লাগে। আমি সুজানের জন্য খুব খুশি। একইভাবে হৃতিক ও সাবার জন্যও আমি খুব খুশি।'
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


