প্রসব যন্ত্রণা থামায়নি তাঁকে, পাথর দিয়ে গর্ভনাড়ি কেটে সোজা মঞ্চে! বিঠাবাঈয়ের বায়োপিক নিয়ে কী বলছেন শ্রদ্ধা?
‘তামাশা সম্রাজ্ঞী’ বিঠাবাঈয়ের জীবনসংগ্রামের কাহিনি এবার রুপোলি পর্দায়। নাম ভূমিকায় দেখা মিলবে শ্রদ্ধা কাপুরের।
নৃত্যশিল্পী বিঠাবাঈ নারায়ণগাঁওকরের বিতর্কিত জীবন নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘ইঠা’ (Eetha)-র ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। ‘স্ত্রী ২’-এর মেগা সাফল্যের পর প্রযোজক দীনেশ বিজানের সাথে পুনরায় হাত মিলিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর (Shraddha Kapoor)। ট্রেলার লঞ্চের জমকালো অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বক্সে অফিসের রেকর্ড কিংবা ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে নিজের খোলামেলা মনোভাব ব্যক্ত করেন এই বলিউড তারকা।

‘ভাল গল্পের খাতিরে দুই বছরে একটি ছবি করতেও রাজি’: শ্রদ্ধা
‘ইঠা’ ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্টে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রদ্ধা কাপুর জানান, তিনি কোনও রেকর্ড ভাঙার উদ্দেশ্যে কাজ করেন না। শ্রদ্ধা বলেন, ‘আমার কখনো মনে হয় না যে আমি কোনও রেকর্ড ভেঙেছি বা বক্স অফিসে বিরাট কিছু করে দেখিয়েছি। আমার কাছে কেবল একটি ভালো ছবির অংশ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আর এই ভালো গল্পের খোঁজেই হয়তো কখনো কখনো দুই বছরে একটা মাত্র ছবি করতে হয় আমাকে।’
ছবিকে ‘নারী কেন্দ্রিক’ বা ‘পুরুষ কেন্দ্রিক’ হিসেবে আলাদা করার চিন্তাভাবনাকে সংকীর্ণ বলে দাবি করেন শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দরকার ভালো গল্পের। যেকোনো ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতা সম্পূর্ণ আকস্মিক এবং কারো হাতে থাকে না। আমি ‘ইঠা’-র মতো একটি অনবদ্য ঐতিহাসিক গল্পের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’
তামাশা সম্রাজ্ঞী ভিঠাবাই নারায়ণগাঁওকরের বীরত্বকাহিনি:
লক্ষ্মণ উটেকর পরিচালিত ‘ইঠা’ মূলত মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ‘তামাশা’ ও ‘লাবণী’ শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ১৯৩৫ সালে জন্ম নেওয়া ভিঠাবাই ছিলেন তামাশা শিল্পের আইকন।
পূর্ণ গর্ভবতী অবস্থায় মঞ্চে নাচ করাটাই যেখানে অবিশ্বাস্য, সেখানে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা সত্ত্বেও স্টেজে উঠে দর্শকদের মাতানো এবং প্রসববেদনা উঠতেই নেপথ্যে গিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়া—এটা ‘তামাশা’র প্রবাদপ্রতীম সম্রাজ্ঞী ভিঠা বাই নারায়ণগাঁওকর-এর জীবনের এক অবিশ্বাস্য ও বাস্তব সত্য ঘটনা! পরিচালক লক্ষ্মণ উটেকরের ‘ইঠা’ (Eetha)-য় কিংবদন্তির এমনই অবিশ্বাস্য় কাহিনি উঠে আসবে।
ভরা মঞ্চে প্রসব বেদনা ও নেপথ্যের সংগ্রাম:
৯ মাসের পূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা বিঠাবাঈ যখন নাচছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয় তাঁর। অনুষ্ঠান থামিয়ে কোনো শোরগোল না করে, নিরবে তিনি মঞ্চের পেছনে চলে যান। সেখানে সম্পূর্ণ একাকী অবস্থা থেকেই জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের। কোনো কাঁচি বা ধারালো অস্ত্র না থাকায়, প্রসবের পর একটি শক্ত পাথর কুড়িয়ে এনে নিজেই নবজাতকের গর্ভনাড়ি কেটে পৃথক করেন ভিঠা বাই! সন্তানকে কাপড়ে জড়িয়ে রেখেই, শরীর থেকে রক্তক্ষরণ এবং অসহ্য যন্ত্রণা উপেক্ষা করে তিনি পুনরায় স্টেজে উঠে বাকি নাচ সম্পন্ন করতে মুখিয়ে ছিলেন।
তিনি রাষ্ট্রপতির বিশেষ পুরস্কারেও ভূষিত হন এবং ভক্তদের কাছে ‘তামাশা সম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিত পান। ২০০২ সালে প্রয়াণের পর তাঁর স্মরণে ২০০৬ সালে মহারাষ্ট্র সরকার ‘ভিঠাবাই নারায়ণগাঁওকর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ চালু করে।
লোকশিল্পে চিরাচরিত সামাজিক বাধা ভেঙে যেভাবে ভিঠাবাই নিজের অসামান্য স্থান তৈরি করেছিলেন, ট্রেলারে শ্রদ্ধার সেই শক্তিশালী রূপান্তর ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।
ছবির অন্যান্য কলাকুশলী ও মুক্তির তারিখ:
ম্যাডক ফিল্মস এবং কাঠপুতলি ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত এই বায়োপিকটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় জুটি অজয়-অতুল (Ajay-Atul)। শ্রদ্ধা কাপুর ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব এবং সিদ্ধার্থ যাদব। আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ছবিটি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


