‘খাবারও বাড়ি থেকে নিয়ে যেতাম…’! ধুরন্ধর-এর ‘জমিল জামালি’ রাকেশ বেদি এই সিনেমায় কাজ করতে একটা টাকাও নেননি
রাকেশ বেদীকে জলদিই 'হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়' ছবিতে দেখা যাবে। ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরুণ ধাওয়ান, ম্রুণাল ঠাকুর এবং পূজা হেগড়ে প্রমুখ। ছবিটি ২২ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চায়েজি চারদিকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আদিত্য ধরের পরিচালনায় তৈরি এই সিনেমা শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তানেও শিরোনামে রয়েছে। ছবিটির গল্পের পাশাপাশি এর গান ও চরিত্রগুলোও দর্শকদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে। বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে ‘ধুরন্ধর’।

এই ছবিতে রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি আর মাধবন, অক্ষয় খান্না-র মতো তারকারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তবে ‘ধুরন্ধর’-এর আরও একটি চরিত্র নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে—জমিল জামালির চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা রাকেশ বেদী। কিন্তু আপনি কি জানেন, একটি ছবির জন্য রাকেশ বেদী এক পয়সাও পারিশ্রমিক পাননি? এতদিন পর নিজেই এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন সেই ছবি।
ডায়লগেই মিলল জনপ্রিয়তা
‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েলে আসা বড় টুইস্ট রাকেশ বেদীর চরিত্রকে একেবারে কাল্ট হিটে পরিণত করেছে। তাঁর বলা সংলাপ, ‘বাচ্চা হ্যায় তু মেরা’ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মিমে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি ফারহা খান তাঁর রাঁধুনী দিলীপকে নিয়ে তাঁর কুকিং ভ্লগের জন্য রাকেশ বেদীর বাড়িতে যান। সেই সময় ফারাহ তাঁর সংগ্রামের দিনের কথা স্মরণ করেন। এই প্রসঙ্গেই রাকেশ জানান, শুরুতে সিনেমায় কাজ করেও তিনি কোনও পারিশ্রমিক পেতেন না।
‘ওই সময়টা আলাদা ছিল’
ফারহা খান পুরনো দিনের কথা তুলে ধরে রাকেশকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এখন কি তুমি টাকা পাও? আমার মনে হয় এখন তো পাও।’ এরপর রাকেশের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ফারহা বলেন, ‘ওঁ যখন কেরিয়ার শুরু করেছিল, তখন কেউই ওদের টাকা দিত না।’ এর উত্তরে রাকেশ বেদী বলেন, ‘ওই সময়টা সত্যিই আলাদা ছিল।’
এই ছবির জন্য এক পয়সাও পাননি
এরপর ফারহা খান ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাথ সাথ’ ছবির প্রসঙ্গ তোলেন এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘এই ছবির জন্য কি তুমি কখনও পারিশ্রমিক পেয়েছিলে?’
রাকেশ সরাসরি বলেন, ‘না, কখনো না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটাই একমাত্র ছবি, যার জন্য আমি একটাও টাকা পাইনি। এমনকী যাতায়াত খরচও না। নিজের খাবারও আমাকে নিজেকেই নিয়ে যেতে হত।’
‘এখন পরিস্থিতি বদলেছে’
ফারহা এরপর জানতে চান, এখন মানুষ তাঁকে যেভাবে দেখছে, তাতে কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না। রাকেশ হাসতে হাসতে বলেন, ‘হ্যাঁ, এখন অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। অনেকেই আমাকে বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করছে। 'তু বাচ্চা হ্যায় মেরা' ডায়লগটা সত্যিই মানুষের মনে দাগ কেটেছে।’
সোশ্যাল মিডিয়াই বাড়িয়েছে জনপ্রিয়তা
রাকেশ বেদীর স্ত্রী তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেই কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘এতে এই সাফল্যের বড় ভূমিকা রয়েছে।’
রাকেশও এই কথার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘আগের দিনে এমনভাবে মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না। এখন আপনাকে কিছু পোস্ট করতেও হয় না—যদি মানুষ আপনাকে পছন্দ করে, তারা নিজেরাই আপনার জন্য তা করে।’ ছবির সমালোচনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, কেউ কেউ ছবির সমালোচনা করলেও অনেকেই আবার এর পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন।
‘এটা একেবারেই আলাদা চরিত্র ছিল’
রাকেশ বলেন, ‘অনেকেই ছবিটাকে ডিফেন্ড করছে—বলছে, 'ভাই, এটা ভালো ছবি, তুমি খারাপ বলার কে'?’ ফারহাও এরপর প্রশংসা করে বলেন. ‘খুব ভালো ছিল। এটা একেবারেই আলাদা ধরনের চরিত্র। যেন ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে!’ যার উত্তরে রাকেশ বলেন, ‘ভরা বারুদ’!
রাকেশ বেদীর আসন্ন কাজ
রাকেশ বেদীকে সম্প্রতি ‘মটকা কিং’ শো-তে দেখা গিয়েছে, যেখানে বিজয় বর্মাও অভিনয় করেছেন। এই শোটি পরিচালনা করেছেন নাগরাজ মঞ্জুলে এবং এটি প্রাইম ভিডিয়ো-তে স্ট্রিমিংয়ের জন্য উপলব্ধ।
এছাড়া খুব শিগগিরই তাঁকে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশ্ক হোনা হ্যায়’ ছবিতে দেখা যাবে। ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত এই রোমান্টিক কমেডি ছবিতে বরুণ ধাওয়ান, ম্রুণাল ঠাকুর এবং পূজা হেগরে-র পাশাপাশি মৌনি রায়, রাজেশ কুমার ও দিগ্বিজয় অভিনয় করেছেন। ছবিটি আগামী ২২ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


