Govinda's Wife: গো-মূত্রের গন্ধ খাবারে! ‘চি চি বারণ করেছিল লক আপে আসতে’, কেঁদে আকুল, অনশনে গোবিন্দার বউ

লক আপ সিজন ২- এর সর্বশেষ পর্বে সুনীতা আহুজা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। শো ছেড়ে বেরিয়ে যেতে কাতর আর্জি গোবিন্দা-পত্নীর। 

Published on: Jul 6, 2026, 10:30:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউডের ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা (Sunita Ahuja) বরাবরই তাঁর স্পষ্ট কথা ও বিন্দাস মেজাজের জন্য নেটপাড়ায় চর্চায় থাকেন। বর্তমানে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ’ (Lock Upp)-এর অন্যতম প্রতিযোগী। তবে শো-এর প্রথম সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ‘জেলে’র অমানবিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন এবং ক্যামেরার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুনীতা।

গো-মূত্রের গন্ধ খাবারে! ‘চি চি বারণ করেছিল লক আপে আসতে’, কেঁদে আকুল গোবিন্দার বউ
গো-মূত্রের গন্ধ খাবারে! ‘চি চি বারণ করেছিল লক আপে আসতে’, কেঁদে আকুল গোবিন্দার বউ

খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুধু যে তিনি অন্নত্যাগ করলেন তাই নয়, বরং স্বামী গোবিন্দার (যাঁকে তিনি ভালোবেসে ‘চি চি’ বলে ডাকেন) কথা না শুনে এই শো-তে আসার জন্য তীব্র আফসোসও করলেন।

‘স্যুপের স্বাদ গরুর মূত্রের মতো!’ খাবারের মান নিয়ে বিস্ফোরক সুনীতা

‘লক আপ’-এর সপ্তম দিনে প্রতিযোগীদের যে খাবার পাঠানো হয়েছিল, তা দেখে রেগে আগুন হয়ে যান সুনীতা। অন্য বন্দীদের সাথে সুর মিলিয়ে তিনিও খাবার খেতে অস্বীকার করেন। সুনীতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বলেন, ‘আমাদের এখন খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে হবে? তোমরা সবাই আমার সাথে রুখে দাঁড়াও। আমার ছেলেমেয়েরাও (সহ-প্রতিযোগীরা) ক্ষুধার্ত। এই স্যুপটার স্বাদ গরুর মূত্রের মতো, সাথে যেন গোবরও মেশানো আছে!’

পরদিন সকালে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুনীতা বলেন, তিনি ভদ্র আচরণ করছেন মানে এই নয় যে ফুটেজের জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষ যা খুশি তাই করবে। তিনি জানান, তিনি আজই শো ছেড়ে চলে যেতে চান।

‘যখনই চি চি-র কথা শুনিনি, পস্তাতে হয়েছে’— আফসোসে পুড়ছেন সুনীতা

কান্নায় ভেঙে পড়ে সুনীতা ওঁর স্বামী গোবিন্দার বারণ করার কথা মনে করে বলেন, ‘আমাকে চি চি (গোবিন্দা) বারবার বারণ করছিল, বলছিল— যাস না। যখন যখন ওর কথা শুনিনি, তখনই আমাকে পস্তাতে হয়েছে, আমি ভুগেছি। আমি আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে চাই না।’

পরবর্তী টাস্কে ব্রেকফাস্টে খাবার পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীদের কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সুনীতা সেই টাস্কে অংশ নিতেই অস্বীকার করেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে সহ-প্রতিযোগী রাম কাপুরকে বলেন, তিনি কিছুতেই খাবেন না। অনাহারে শরীর খারাপ হলে তবেই যদি শো-এর নির্মাতারা তাঁকে জেল থেকে বের করে দেন! তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ওরা কি আমাদের আবর্জনা ভাবে?’ পরে শো-এর হোস্ট রীতেশ দেশমুখকে সামনে পেয়ে সুনীতা নিজের সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন। রীতেশ তাঁকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করেন এবং জানান যে এই বিষয়ে তিনি পরে বিশদে কথা বলবেন।

গোবিন্দার বারণ সত্ত্বেও কেন ‘লক আপ’-এ এলেন সুনীতা?

কয়েক দিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা জানিয়েছিলেন, গোবিন্দার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও স্রেফ নেটফ্লিক্স এবং প্রযোজক একতা কাপুরের প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি এই শো-তে আসতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে শো-এর সবচেয়ে সিনিয়ার প্রতিযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন যে তিনি নিজের সততা দেখাতে চান।

১৯৮৭ সালে গোবিন্দার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সুনীতার দুটি সন্তান রয়েছে— টিনা আহুজা এবং যশবর্ধন আহুজা। এর আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আধ্যাত্মিক জীবন নিয়ে কথা বলে চর্চায় আসা সুনীতা এই শো-তে এসে নিজের দাম্পত্য জীবন ও অতীতের কিছু যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় নিয়েও মুখ খুলেছিলেন। তবে আপাতত ‘লক আপ’-এর ‘সচ ইয়া সাজা’র ঘেরাটোপে পড়ে সুনীতার এই লড়াকু ও আবেগঘন রূপ দর্শকদের অবাক করেছে।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More