Imran Khan: ভারত ছাড়ার আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ইমরান খান, জানেন তাঁর শরীরে বইছে বাঙালির রক্ত!

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ইমরান খান। আমিরের বোন বিয়ে করেছিলেন আমেরিকায় কর্মরত বাঙালি আইটি প্রফেশন্যাল অনিল পালকে। সেই সূত্রে ইমরানের শরীরে বইছে বাঙালির রক্ত।

Published on: Oct 15, 2026, 18:00:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

গত ১০ই অক্টোবর সিইসি (CEC) পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য বিদেশ নিবন্ধকরণ দফতর (FRRO) থেকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার (Leave India) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল মার্কিন নাগরিকত্ব ও ওসিআই (OCI) কার্ডধারী অভিনেতা ইমরান খানকে। তবে প্রশাসনের এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন আমির খানের ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খান।

ভারত ছাড়ার আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ইমরান, তাঁর শরীরে বইছে বাঙালির রক্ত! (Raju Shinde/HT)
ভারত ছাড়ার আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ইমরান, তাঁর শরীরে বইছে বাঙালির রক্ত! (Raju Shinde/HT)

খ্যাতনামা আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন এবং চিরাগ নায়েকের সমন্বয়ে গঠিত ইমরান খানের আইনি দল নিশ্চিত করেছে যে তারা শুক্রবার বোম্বে হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে পিটিশন দাখিল করছেন।

ইমরানের আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি:

আইনজীবীরা এফআরআরও (FRRO)-র এই নির্দেশকে সম্পূর্ণ বেআইনি, ভিত্তিহীন বলে তোপ দেগেছেন। আদালতে তাঁদের মূল যুক্তিগুলো হলো:

১. আইন লঙ্ঘনের স্পষ্টতা নেই: এফআরআরও নোটিশে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর কোন ধারাটি ইমরান ঠিক লঙ্ঘন করেছেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখই করা হয়নি।

২. ওসিআই কার্ডের বিশেষ আইনি অধিকার: একজন ওসিআই (OCI) কার্ডধারীর নির্দিষ্ট আইনি অধিকার রয়েছে। কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসরি তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা যায় না।

৩. কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একচ্ছত্র একতিয়ার: আইনজীবীদের স্পষ্ট দাবি— ওসিআই কার্ড বা ভিসা বাতিল করার একচ্ছত্র অধিকার কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) রয়েছে। উপযুক্ত শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো আঞ্চলিক পুলিশ বা এফআরআরও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিতে পারে না।

এমএইচএ (MHA) এবং বোম্বে হাইকোর্টের এই জরুরি শুনানি ও আইনি লড়াই এখন কোন্ দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক ও সিনেমা প্রেমীদের।

তবে এই রাজনৈতিক তোলপাড়ের মাঝেই নেটিজেনদের একাংশের নজর কেড়েছে তাঁর পারিবারিক পরিচয় ও বাঙালি যোগসূত্র! বলিউডের বিখ্যাত খান পরিবারের (আমির খান ও নাসির হুসেনের পরিবার) সদস্য হিসেবে সকলেই তাঁকে চেনেন। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, ইমরান খানের আসল নাম ‘ইমরান পাল’ এবং তাঁর ধমনীতে বইছে বাঙালির রক্ত!

বাঙালি বাবা ও আইআইটি (IIT) কানেকশন:

ইমরান খানের বাবা অনিল পাল একজন বাঙালি হিন্দু। তিনি আইআইটি বোম্বে (IIT Bombay)-র মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যেখানে আমির খানের ভাই তথা পরিচালক মনসুর খান তাঁর সহপাঠী ছিলেন। সেই সূত্রে আমির খানের তুতো বোন নুজহাত খানের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম হয় অনিল পালের। পরবর্তীতে বিয়ে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তাঁরা, সেখানেই ১৯৮৩ সালে জন্ম হয় ইমরানের। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন অনিল পাল।

‘পাল’ থেকে যেভাবে ‘খান’ হলেন ইমরান:

ইমরানের বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখনই অনিল পাল ও নুজহাত খানের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর নুজহাত ছেলেকে নিয়ে মুম্বই ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে বিখ্যাত অভিনেতা রাজ জুটশিকে বিয়ে করেন। মা একা হাতে বড় করে তুলেছিলেন বলে তাঁর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানাতেই ইমরান নিজের বাবার পদবী ‘পাল’ ত্যাগ করে মায়ের পদবী ‘খান’ ব্যবহার করা শুরু করেন। একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজেই জানিয়েছিলেন—'হ্যাঁ, আমার বাবা অনিল পাল একজন বাঙালি। খুব ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলেও বাবার সঙ্গে আমার খুব ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ভারতে এলে আমাদের সঙ্গেই থাকেন। তবে ছোটবেলা থেকে মা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেই আমি বড় হয়েছি।'

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More