‘আমার মনে হয় খুব যোগ্য, তৃণমূল থেকেও ওকে করেছিল, বিজেপি থেকেও করা হল’, রাজ্যসভার পথে কোয়েল, ঠিক কী বললেন ইন্দ্রাণী
আপাতত কটাক্ষে কোয়েল মল্লিক। ‘দলবদলু’, ‘গিরগিটি’-র মতো বিশেষণে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। রঞ্জিত-কন্যা চোখের পলকে টিএমসি থেকে বিজেপিতে। কী বলছেন ইন্দ্রাণী হালদার এই নিয়ে?
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৬ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর ঘটা করে ঘোষণা করেছিলেন ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চান’। এরপর অবশ্য বাংলায় তৃণমূলের শোচনীয় হারের পর, কোয়েল ১৬ জুলাই রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে এবার ‘মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদে’ কোয়েল মল্লিক বিজেপি থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছেন নিজেরই ছেড়ে যাওয়া আসনে। তারপর থেকেই রঞ্জিত-কন্যা ট্রোলড সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘দলবদলু’, ‘গিরগিটি’-র মতো বিশেষণে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এবার কোয়েলকে নিয়ে মুখ খুললেন ইন্দ্রাণী হালদার। তিনি তো স্পষ্ট বললেন, রংবদলে (রাজনৈতিক) কোনো ভুল তিনি দেখেন না। এমনকী, এটাও জানালেন যে, ‘যারা একসময় তৃণমূল ছিল, তাঁদের নিয়েই তো কাজ করতে হবে বিজেপি সরকারকে।’

কোয়েলকে নিয়ে প্রশ্নে ইন্দ্রাণী হালদার জবাব দেন, ‘আমি দেখলাম খবরটা। আমার মনে হয় কোয়েল খুব যোগ্য, সেই কারণে তৃণমূল থেকেও ওঁকে করা হয়েছিল, আবার বিজেপি থেকেও ওঁকে করা হল। আমার মনে হয় ওর একটা খুব ভালো ইমেজ আছে। আর দুই দলেরই যারা শীর্ষস্থানীয় তারা মনে করে কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভায় গেলে খুব ভালো হবে। তাই ওকে তৃণমূল থেকেও নিল। আবার বিজেপি থেকেও এত তাড়াতাড়ি ডাক পড়ল। আমার মনে হয় ও বাংলার মানুষের কথা পৌঁছে দেবে। বাংলাকে তুলে ধরবে। কোয়েলকে আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা।’
এরপর কোয়েলের উপর হওয়া কটাক্ষেও মুখ খোলেন অভিনেত্রী। বলেন, ‘সে তো আমাকেও বলে। আমি যখন একটা শুভেচ্ছাবার্তা (শুভেন্দু অধিকারির সরকার ক্ষমতায় আসার পর) দিলাম, তখন বলল গিরগিটি। সরকারের কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও উলটোপালটা কথা বলে। শিল্পী হিসেবে আমাদের তো যেতেই হবে। আর কে কী বলছে ভাববে চলবে না। রংবদল সবাই করে। পরিবারে রং বদল হয় না। আজ স্বশুরের দলে, কাল শাশুড়ির দলে, পরশু ভাসুরের দলে, তারপর ননদের দলে। পরিবারে দলবদল হলে সমাজে কেন হতে পারে না। আমি এগুলোতে কিছু খারাপ দেখি না। সবকিছুর মধ্যে ইতিবাচক কিছু না কিছু আছে। শুধু দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমাকে যদি বিজেপি থেকে ডাকে, কোনো পদ দেওয়া হয়, আমিও খুব উৎসাহের সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব। এই এখন কোনো অনুষ্ঠানে ডাকে, আমি তো আনন্দের সঙ্গে ভাগ নেই।’
‘যারা একটা সময় তৃণমূল করেছেন, তারা যদি এখন বিজেপিতে আসেন, বিজেপির থেকে তাঁদের যদি ডাকে, তাঁরা যাবেন। কেন যাবেন না তাঁরা। সরকারকে সাহায্য করা তো আমাদের কাজ। আজকে বিজেপি সরকার কেন এসেছে, বাংলার উন্নয়ন করতে। আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে থাকি, বলি 'একসময় আমরা তৃণমূল করতাম', তাহলে কী করে হবে। সরকারকে সাহায্য করতে হবে, যাতে সরকার ভালো করে কাজ করতে পারে। আর যারা একসময় তৃণমূল ছিল, তাঁদের নিয়েই তো কাজ করতে হবে বিজেপি সরকারকে।’, আরও বলেন ইন্দ্রাণী।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


