Salman Khan: ‘মাতৃভূমির মা কি আঁখ…,জীবন আগে না সিনেমা?’ নিজের ছবির নাম শুনেই মেজাজ হারালেন সলমন, হাসপাতালে কী ঘটল?
‘আমি ৬০ বছরের বুড়ো হতে পারি, কিন্তু লড়তে ভুলিনি!’ হাসপাতাল-কাণ্ডে পাপারাৎজিদের চরম হুমকি সলমনের। ঠিক কী ঘটেছে?
এমনিতে তিনি বলিউডের ‘দিলদার’ খান, অনুরাগী বা সাংবাদিকদের আবদার সহজে ফেলেন না। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন বা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নন সলমন খান। সম্প্রতি মুম্বইয়ের এক হাসপাতালের বাইরে পাপারাৎজিদের ওপর সলমনের প্রচণ্ড রেগে যাওয়ার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে বি-টাউনে। হাসপাতালে ঢোকার মুখে তাঁকে ক্যামেরাবন্দি করতে যেতেই ক্যামেরা বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেন অভিনেতা।

ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের একটি প্রথম সারির হাসপাতালে পরিবারের কোনো এক সদস্যের চিকিৎসার কারণে গিয়েছিলেন সলমন খান। স্বভাবতই অভিনেতার আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের গেটের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন একঝাঁক আলোকচিত্রী। সলমন গাড়ি থেকে নামতেই ‘সলমন ভাই’, ‘ভাইজান’ বলে চিৎকার শুরু হয় এবং অনবরত ফ্ল্যাশলাইটের আলো পড়তে থাকে তাঁর ওপর।
সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে সলমন হাত নেড়ে গাড়িতে উঠে যান, কিন্তু হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন হুলস্থুল কান্ড একেবারেই পছন্দ হয়নি তাঁর। এরপর সলমনের মনোযোগ টানতে একদল পাপারাৎজি ‘মাতৃভূমি’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এরপর আচমকা ঘুরে দাঁড়ান নায়ক। পাপারাৎজিদের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলেন, ‘তোমাদের কী মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’ সলমনের চোখে-মুখে তখন চরম বিরক্তি। ‘ভাইজান’-এর এই মারমুখী রূপ দেখে তৎক্ষণাৎ ক্যামেরা নামিয়ে নিতে বাধ্য হন উপস্থিত আলোকচিত্রীরা। ক্ষমাও চান। মন গলেনি সলমনের।
একের পর এক পোস্টে ক্যামেরার পিছনের মানুষদের ধুয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বয়স ষাট ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু দরকারে হাত চালাতে বা লড়াই করতে তিনি এখনও এক ইঞ্চিও পিছপা হবেন না!
‘আমার ক্ষতি বিক্রি করে টাকা কামানো বন্ধ করো’:
নিজের একটি ছবির সাথে ক্যাপশনে সলমন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘হাসপাতালে কোনো সংবাদমাধ্যমকে আমার বা আমার পরিবারের কষ্ট উপভোগ করতে দেখলে ভীষণ খারাপ লাগে। এই সেই মিডিয়া যাদের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি, যাদের সাথে নিজে থেকে কথা বলেছি, যাতে ওদেরও রুজি-রুটি (Bread and Butter) চলে। কিন্তু যদি তারা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি বা দুঃখকে পুঁজি করে টাকা কামাতে চায়, তবে বলব— দয়া করে চুপ থাকো, এটা উপভোগ করো না।’
হাসপাতালের মতো জায়গায় সলমনকে দেখে তাঁর আগামী ছবির নাম ধরে পাপারাৎজিদের চিৎকার করার প্রবণতাকেও তীব্র কটাক্ষ করেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, ‘ভাই ভাই ভাই... মাতৃভূমি পিকচার... ছবির দফারফা হোক! ছবি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি মানুষের জীবন?’
‘পরের বার ট্রাই করেই দেখ না!’ ৬০-এর সলমনের খোলা চ্যালেঞ্জ:
অন্য একটি পোস্টে সলমনের মেজাজ যেন আরও কয়েক পর্দা চড়ে যায়। পাপারাৎজিদের উদ্দেশ্যে একপ্রকার মারমুখী ফতোয়া জারি করে বলিউডের ‘দাবাং’ খান লেখেন, “এইরকম আমি ১০০টা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেব। পরের বার আমার ভাইয়ের কষ্টের দিনে আমার সাথে এই নোংরামিটা করার চেষ্টা করেই দেখ না! শুধু একবার ট্রাই করে দেখ…'।
আলোকচিত্রীদের বিবেককে নাড়া দিয়ে সলমন আরও প্রশ্ন করেন, “যখন তোমাদের পরিবারের কেউ হাসপাতালে ভর্তি থাকবে, আমি কি তখন গিয়ে এইরকম চিৎকার করব বা ছবি তুলব?'
পোস্টের শেষে নিজের চেনা ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অবতারে ফিরে সলমন মনে করিয়ে দেন, আইন বা জেলের ভয় তিনি পান না। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ষাট বছর বয়সের (৬০) হয়ে গিয়েছি, কিন্তু লড়তে ভুলে যাইনি— এটা মাথায় রেখ। খুব বেশি হলে জেলে পুরবে? হাঃ হাঃ হাঃ!’
সলমন ঠিক কার চিকিৎসার জন্য বা কাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকলেও, পরিবারের কঠিন সময়ে মিডিয়ার এই অতি-সক্রিয়তা যে ‘ভাইজান’কে কতটা খ্যাপিয়ে তুলেছে, তা ওঁর এই ইনস্টাগ্রাম পোস্টের প্রতিটা শব্দে স্পষ্ট।
নেটিজেনদের প্রশংসা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অবশ্য সলমনের এই রাগকে একবাক্যে সমর্থন করেছেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। অনেকের মতেই, সেলেব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকা উচিত, বিশেষ করে হাসপাতাল বা শ্মশানের মতো জায়গায় পাপারাৎজিদের এই অতি-সক্রিয়তা বন্ধ হওয়া দরকার। একজন অনুরাগী লিখেছেন, “সলমন ভাই একদম ঠিক কাজ করেছেন। হাসপাতাল কোনো ফটোশ্যুটের জায়গা নয়, সেখানে অন্য রোগীরাও থাকেন।'
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


