BJP-র হয়ে প্রচারের জন্য মা-বাবার নামে ৭.৫ লাখ টাকা নিয়েছেন সুকান্ত? আর কার ব্যাঙ্কে কত টাকা ঢুকেছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রীতিমতো ট্রেন্ড করছে দুটো নাম। সায়ক চক্রবর্তী ও শমীক অধিকারি। একজন নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা ও আরেকজন ১৩ লাখ। যদিও নেটপাড়া-র দাবি সুকান্ত কুণ্ডু বিজেপি-র হয়ে প্রচারে অংশ নিতে মা-বাবার নামে নিয়েছেন টাকা।
বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ায় ইসিআই-এর একটা তালিকা ৷ যেখানে তথ্য হিসাবে উঠে আসে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টি ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছেন। আর এর সিংহভাগই খরচ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই তালিকায় হাইলাইট হয়েছে যে নাম দুটি তা হল সায়ক চক্রবর্তী ও ‘ননসেন’ শমীক অধিকারি। তবে সময় গড়াতেই সামনে আসতে শুরু করে তথ্য।

এখন খবর, বিজেপি-র হয়ে নির্বাচনী প্রচারে সুকান্ত কুণ্ডু সরাসরি নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা নেননি। নিয়েছেন মা আর বাবার নামে। সুব্রত কুন্ডু (সুকান্তর বাবা)-র অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৩ লাখ টাকা, শিখা কুন্ডু (সুকান্ত কুণ্ডু মা)-র মা নিয়েছে ৪.৫ লাখ। আর এই দাবি সত্যি হলে, সুকান্ত কুণ্ডুর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে মোট ৭.৫ লাখ টাকা।
খবর, ‘ক্যানডিড ক্লে’ খ্যাত ইতি কর্মকারের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৩ লাখ টাকা, আরজে প্রিয়াঙ্কা তথা প্রিয়াঙ্কা সরকারের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১৫ লাখ টাকা, ‘সঙ্গে অদ্বিতীয়া’ খ্যাত জ্যোতিরাদিত্য রায়ের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১৭.৮ লাখ টাকা। ইউটিউব চ্যানেল ‘Priyo Bondhu Media’-র শুদ্ধশীল ঘোষ পেয়েছেন ৫১ লাখ টাকা। আর সায়ক চক্রবর্তী পেয়েছেন ২.৫ লাখ টাকা। শমীক অধিকারীর অ্যাকাউন্টে এসেছে ১৩ লাখ।
প্রসঙ্গত, পেশায় ইঞ্জিনিয়র সুকান্ত কুণ্ডু ভোট পূর্ববর্তী বাংলায় বেশ কিছু ভিডিয়ো বানিয়েছিলেন তৎকালীন সরকারের বিরোধিতায়। যাতে ছিল সরকার বদলের ডাক। পাশাপাশি, সায়কের সঙ্গে অলিপাবে বিফ-কাণ্ডের সময়ও ছিলেন তিনি। আর অভিনেত্রী অনন্যা গুহ। সায়কের ভ্লগে সেই ওয়েটার-কে বকাঝকাও করতে দেখা গিয়েছিল তাঁদেরকে। যদিও পরবর্তীতে সায়ককে নিয়ে জলঘোলা বেশি হয়। যদিও পরে দেখা যায়, সুকান্তকে সেইসময় সব দায় বন্ধুর ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে। এমনকী, সেই সময় দুজনের বন্ধুত্বেও ধরেছিল ভাঙন।
তবে বেশিরভাগই যখন সায়ক-সুকান্ত-শমীকদের তুলোধনা করতে ব্যস্ত, তখন ইনফ্লুয়েন্সারদের হয়ে কথা বলতে দেখা গেল প্রযোজক রাণা সরকারকে। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে লেখেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটররা টাকা নিয়ে পলিটিকাল কনটেন্ট বানিয়েছে এতে দোষের কি আছে? সেটা তো ওদের পেশা, উপার্জনের মাধ্যম। ওরা তো সাংবাদিক নয় যে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলবেন।’
এক নেটিজেন রাণার এই পোস্টে পালটা প্রশ্ন তুললেন, ‘তাহলে বুক ফুলিয়ে বলতে পারত, এটা বিজেপির প্রচারের জন্য বানিয়েছি। তাহলে যারা দেখার তারা দেখত, আর যারা না দেখার তারা দেখত না। কিন্তু সেই হিম্মত তো নেই। ওদিকে পাবলিকের সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিল, আর একটা গরিব মানুষের জীবন নষ্ট করে দিল। কি সুন্দর , তাই না!’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


