রশ্মিকার উচ্চারণ নিয়ে বিদ্রুপ! প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই কোন ভুল করে বসলেন জাভেদ আখতার?
কফি উইথ করণে নিজের উচ্চারণ নিয়ে ট্রোলিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন রশ্মিকা মন্দানা। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন জাভেদ আখতার। কিন্তু রশ্মিকাকে সমর্থন করতে গিয়েই ভুল তথ্য লিখে ফেলেন বর্ষীয়ান গীতিকার। সমাজমাধ্যমে সেই ভুল ধরিয়ে দিতেই কী বললেন তিনি?
ভাষা কিংবা উচ্চারণের জন্য বারবার কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে রশ্মিকা মন্দানাকে। কেরিয়ারের শুরু থেকেই এই অভিজ্ঞতা তাঁর নিত্যসঙ্গী। সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো 'কফি উইথ করণ'-এ হাজির হয়ে সেই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেন অভিনেত্রী। রশ্মিকার পাশে দাঁড়িয়ে এবার সরব হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান গীতিকার জাভেদ আখতার। তবে অভিনেত্রীকে সমর্থন করতে গিয়ে নিজেই একটি ভুল করে বসেন তিনি। সমাজমাধ্যমে সেই ভুল ধরিয়ে দিতেই তা স্বীকারও করে নেন জাভেদ।

রশ্মিকার সমালোচকদের কী বললেন জাভেদ?
রশ্মিকার উচ্চারণ নিয়ে যাঁরা বিদ্রুপ করেন, তাঁদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন জাভেদ আখতার। সেখানে তিনি লেখেন, যাঁদের রশ্মিকার উচ্চারণ নিয়ে এত সমস্যা, তাঁদেরকে তামিল ভাষায় কয়েকটি বাক্য বলতে দেওয়া উচিত। তামিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন কথ্য ভাষা। দেখা যাক, তাঁরা নিজেরা কতটা নিখুঁতভাবে সেই ভাষায় কথা বলতে পারেন!
এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান গীতিকার। তাঁর বক্তব্য, নিজের ভাষাকে অন্যের ভাষার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করার যে ভিত্তিহীন মানসিকতা, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
রশ্মিকাকে সমর্থন করতে গিয়েই বিপত্তি!
জাভেদের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই সহমত হলেও তাঁর পোস্টে একটি তথ্যগত ভুল চোখে পড়ে নেটিজেনদের। রশ্মিকাকে তামিল অভিনেত্রী বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেই ভুল সংশোধন করে এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী লেখেন, 'স্যর, তিনি কুর্গের মেয়ে এবং তেলুগু পরিবারের বউ। তবে আপনি যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রশংসা করতেই হয়।'
ভুলটি নজরে আসতেই তা স্বীকার করে নেন জাভেদ আখতার। নিজের বক্তব্য সংশোধন করার কথাও জানান তিনি।
জাভেদের পাশে নেটিজেনরা
তথ্যগত ভুল থাকলেও জাভেদের মূল বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন বহু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী। একজন লেখেন, দক্ষিণী ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে বিচার করা একেবারেই উচিত নয়। অন্য একজনের মন্তব্য, প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষের কথা বলার নিজস্ব ধরন রয়েছে। সেই পার্থক্য নিয়ে কাউকে অপমান করা ঠিক নয়।
'কেরিয়ারের শুরু থেকেই ট্রোলড হয়েছি', মুখ খুলেছেন রশ্মিকা
সম্প্রতি স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে 'কফি উইথ করণ'-এর কাউচে হাজির হয়েছিলেন রশ্মিকা। সেখানেই নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।
রশ্মিকা জানান, অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই কোনও না কোনও কারণে তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কখনও অভিনয়, কখনও ভাষা, আবার কখনও তাঁর উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু এই সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্যের জন্য নিজের স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, তিনি কোনও একটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাননি। বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি নানা ভাষায় কথা বলার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। তাই সমালোচনার ভয়ে নিজের পথ বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।
বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে কেন 'রেড ফ্ল্যাগ' বলছেন নেটিজেনরা?
শুধু রশ্মিকার উচ্চারণ বিতর্ক নয়, এই পর্বে বিজয় দেবেরাকোন্ডার একটি মন্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে বিজয় জানান, রশ্মিকা প্রথমবার বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। বরং অভিনেত্রীকে বলেছিলেন, তাঁকে অন্তত ১০০ বার বিয়ের প্রস্তাব দিতে হবে!
এরপর রশ্মিকা জানান, প্রায় এক বছর ধরে প্রতিদিনই বিজয়কে বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি। এই মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। বিজয়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাংশের নেটিজেন। কেউ কেউ তাঁকে 'রেড ফ্ল্যাগ' বলেও কটাক্ষ করেছেন।
একদিকে রশ্মিকার উচ্চারণ নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে বিজয়ের প্রেমের গল্প—সব মিলিয়ে 'কফি উইথ করণ'-এর এই পর্ব ঘিরে চর্চা তুঙ্গে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


