Mahi-Jay: ১৬ বছরের বিয়ে ভেঙেছে! প্রাক্তন স্বামীই এখন বেস্ট ফ্রেন্ড, মাহির কথায় থ নেটপাড়া
দাম্পত্য ভাঙলেও সম্পর্ক মুছে যায় না! ১৬ বছরের বিয়ে অতীত, প্রাক্তন স্বামী জয় ভানুশালিকে নিজের ‘সেরা বন্ধু’ ও ‘পরিবার’ বলে উল্লেখ করেছেন মহি ভিজ।
টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি জয় ভানুশালি এবং মহি ভিজের ১৬ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটার খবর বছরের শুরুতেই অনুরাগীদের মন ভেঙে দিয়েছিল। কোনও রকম কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত পরিণতভাবে আইনি বিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। এবার বিচ্ছেদের কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর, জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘তুম হো না – ঘর কি সুপারস্টার’ (Tum Ho Naa – Ghar Ki Superstar)-এ অতিথি হিসেবে এসে নিজের জীবনের এই কঠিন অধ্যায়, প্রাক্তন স্বামী জয়ের সঙ্গে বর্তমান সমীকরণ এবং বাবার ভূমিকা নিয়ে প্রথমবার মন খুলে কথা বললেন মহি।

শো-এর হোস্ট রাজীব খণ্ডেলওয়ালের প্রশ্নের উত্তরে মহি তুলে ধরলেন কীভাবে তাঁদের সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে এক নতুন রূপ নিয়েছে।
‘জয় আমার সেরা বন্ধু, কোনো তিক্ততা নেই’
ডিভোর্স মানেই যে দুটো মানুষের মধ্যে আজীবন শত্রুতা তৈরি হওয়া নয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন জয় ও মহি। মহি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পার্টনার হিসেবে তাঁরা আলাদা হয়ে গেলেও, মানুষ হিসেবে জয়ের প্রতি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্মান ও ভালোবাসা একটুও কমেনি।
সাক্ষাৎকারে মহি বলেন, ‘জয় এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং ও আমার পরিবার। আজও আমার বাবা জয়ের বাড়ি যান, ওর সাথে বসে চা খান। জয়ও আমাদের বাড়ি আসে। আমাদের মধ্যে চমৎকার একটা সম্পর্ক রয়েছে এবং আমি ভীষণ খুশি যে আমাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা নেই। আমরা এখনও একটা পরিবারের মতোই একে অপরের সাথে যুক্ত এবং সবসময় পাশে আছি।’
কঠিন সময়ে বাবার 'মৌন' সমর্থন ও লড়াই
আমাদের সমাজে কোনো মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে বা সে বাপের বাড়ি ফিরে এলে চারপাশের মানুষ এবং পরিবার নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। কিন্তু মহির ক্ষেত্রে তাঁর বাবা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক শক্ত খুঁটি।
সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোর কথা মনে করে মহি বলেন: ‘যখন এই সমস্ত কিছু ঘটছিল, তখন মানসিকভাবে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয় যে আপনি চান না কেউ আপনাকে কোনো প্রশ্ন করুক। আপনি শুধু চান কেউ একজন কোনো কথা না বলে আপনার পাশে শান্ত হয়ে বসে থাকুক। আমার বাবা ঠিক সেটাই করেছিলেন। তিনি চুপচাপ আমার পাশে বসতেন। কোনোদিন একটা প্রশ্নও করেননি যে— ‘তুই কেন এটা করছিস?’, ‘এর পর কী হবে?’ বা ‘এটা ভুল হচ্ছে’।’
মহি আরও যোগ করেন, সমাজ প্রায়শই আশা করে যে মেয়েরা যেকোনো মূল্যে একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখুক। কিন্তু তাঁর বাবা কোনো সামাজিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে মমিকে শুধু এটাই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি সবসময় মেয়ের পাশে আছেন। তাঁর বাবা শুধু মমিকে জীবনে সুখী দেখতে চান।
নাদিম নাদজের সাথে লিঙ্ক-আপ এবং ‘আব্বা’ বিতর্কের জবাব
বিনা শান্তিতে ও বিতর্ক ছাড়াই ডিভোর্স হওয়াটা নেটিজেনদের একাংশ হজম করতে পারছিলেন না। তাই মহি তাঁর বন্ধু নাদিম নাদজ-এর জন্মদিনে একটি পোস্ট করতেই সমাজমাধ্যমে তাঁদের প্রেমের ভুয়ো গুঞ্জন রটে যায়। এমনকি মহি ও জয়ের ৭ বছরের কন্যাসন্তান তারা নাদিমকে ‘আব্বা’ বলে ডাকায় বিতর্ক আরও বাড়ে।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই চাটুকারিতার কড়া জবাব দিয়ে মহি বলেন, ‘যাঁরা আমাদের চেনেন, তাঁদের কাছে এই লিঙ্ক-আপের খবর অত্যন্ত হাস্যকর। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই ডিভোর্স নিয়েছি বলেই আপনাদের হজম হচ্ছে না, আপনাদের শুধু নোংরামি চাই। নাদিম আমার দীর্ঘদিনের বেস্ট ফ্রেন্ড এবং আমার মেয়ে তারা গত ৬ বছর ধরে ওকে ভালোবেসে ‘আব্বা’ বলে ডাকছে।’
২০১০ সালে বিয়ে করা জয় ও মাহি বর্তমানে যৌথভাবে তাঁদের তিন সন্তান— তারা, রাজবীর এবং খুশির লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজবীর ও খুশি তাঁদের কেয়ারটেকারের সন্তান। আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক না নিলেও রাজবীর ও খুশির যাবতীয় দায়িত্ব জয় ও মাহিই পালন করেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


