Jeet Exclusive: 'বক্স অফিস নম্বর ম্য়াটার করে না, বাংলায় ইউথ-কানেকশন কমছে বলেই আরেকটা দেব-জিৎ তৈরি হচ্ছে না', অকপট জিৎ
Jeet Exclusive: 'আমি জলের মতন, যেভাবে গড়বে তেমন রূপ নেব'-দীর্ঘ বিরতি, অ্যাটিটিউড বিতর্ক ও বক্সে অফিসের খেলা: সাক্ষাৎকারেই মুখোমুখি মেগাস্টার জিৎ।
আজ মুক্তি পেল বাংলা সিনেমার মেগাস্টার জিতের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। দীর্ঘ সময় পর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে প্রেক্ষাগৃহে একদম নতুন অবতারে ফিরছেন অভিনেতা। ছবিটির মুক্তি, দীর্ঘ বিরতি, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জেন-জি প্রজন্ম এবং নিজের কাজের দর্শন নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ধরা দিলেন পর্দার ‘অনন্ সিংহ’।

‘বুমেরাং’-এর পর দু’বছরের বিরতি ও নতুন প্রজেক্ট
প্রশ্ন: 'বুমেরাং'-এর সময় আপনার সাথে কথা হয়েছিল, দু’বছর হয়ে গেছে। এই ছবিটা ('কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত') আনতে এতটা সময় কেন লাগল?
জিৎ: সত্যি এতটা সময় লাগা উচিত ছিল না। তবে ডেস্টিনিকে তো চ্যালেঞ্জ করা যায় না! মাঝখানে আমি 'খাকি'-র (নেটফ্লিক্সের সিরিজ) শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আর সত্যি বলতে, এমন কোনো গল্প বা মেটেরিয়াল পাচ্ছিলাম না যেটা আমাকে এক্সাইট করছিল। ফলে সময়টা একটু লেগেই গেল।
প্রশ্ন: আপনার সমসাময়িক অভিনেতারা, ধরুন দেব বছরে দুটো-তিনটে করে ছবি আনছেন। সে জায়গায় জিৎ কি একটু বেশি চুজি?
জিৎ: ভাগ্যেই হয়তো এই গ্যাপটা ছিল। আর চুজি তো সবাই নিজের জায়গায় কম-বেশি থাকেই। আমার কাছে ঠিকঠাক মেটেরিয়াল আসছিল না। তবে আমি আনন্দিত যে অবশেষে এই সিনেমাটা আমার কাছে এসেছে এবং ১৪ই আগস্ট এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। আশা করি মানুষ গল্পটা পছন্দ করবেন।
অভিনেতা সত্তা, ডিরেক্টরের ভিশন ও টোটা রায়চৌধুরীর মন্তব্য
প্রশ্ন: দর্শকরা ট্রেলারে আপনাকে একদম নতুনভাবে দেখছেন। এই জার্নিতে নিজেকে কতটা নতুন করে আবিষ্কার করলেন?
জিৎ: আমি মনে করি আমি একজন অভিনেতা এবং নিজের প্রযোজক সত্তাকে পাশে রেখে যদি শিল্পী সত্তার কথা বলি—আমি জলের মতন। আমাকে যে পাত্রে রাখা হবে, সেই আকারেই পরিণত হয়ে যাব। এই ছবির ‘অনন্ত’-র চরিত্র এবং ডিরেক্টরের ভিশনটা আমার ভীষণ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। আমি শুধু সেই ভিশনটা ফলো করার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: টোটা রায়চৌধুরী একটি ইন্টারভিউতে বলেছেন, এটা নাকি ‘সুপারস্টার জিতের কামব্যাক’ এবং আপনি নাকি ভীষণ দার্শনিক!
জিৎ: (হাসি) টোটা আমাকে ভীষণ ভালোবাসে, হয়তো সেই আবেগের জায়গা থেকেই এত উদার হয়ে কথাগুলো বলেছে! তবে টোটার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য, দর্শকরা হল-এ গিয়ে সিনেমাটা দেখলেই বিচার করবেন।
অ্যাটিটিউড, মিডিয়া লাইমলাইট ও ব্যক্তিগত জীবন
প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু থেকেই একটা চর্চা আছে—আপনার নাকি একটু অ্যাটিটিউড রয়েছে, আর প্রমোশন ছাড়া আপনাকে কোথাও দেখা যায় না বা সোশালেও আপনি বেশি অ্যাক্টিভ নন। ফ্যানরা আপনাকে মিস করে!
জিৎ: অকারণে তো কথা বলার কোনো যুক্তি নেই, সব বিষয়ে তো আমার গভীর জ্ঞানও নেই। তাই যেই ফিল্মে কাজ করছি সেটা নিয়ে কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর অ্যাটিটিউড থাকা তো পজিটিভ জিনিস!
প্রশ্ন: আপনি ফ্যামিলি লাইফ আর প্রফেশনাল লাইফ খুব সুন্দরভাবে আলাদা রাখতে পারেন। (প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই)
জিৎ: এটা তো গুড সাইন নাকি, সেটাে কীভাবে আরও বেটার করব? বারবার কি ওটাকে বেটার করা যায়? (হাসি)
চরিত্রের প্রস্তুতি ও জীবনদর্শন
প্রশ্ন: ছবিতে আপনি বিপ্লবী অনন্ত সিংহ-এর চরিত্রে। স্বাধীনতার পরবর্তীতে তিনি অনেক বিতর্কিত কাজেও যুক্ত হয়েছেন। ইতিহাস থেকে উঠে আসা এই বাস্তব চরিত্রটার প্রিপারেশন কেমন ছিল?
জিৎ: আমরা শুটিং শুরুর চার মাস আগেই চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে গিয়েছিলাম, যা সচরাচর হয় না। ফলে চিত্রনাট্য নিয়ে পড়াশোনা করার ও চরিত্রটার ভেতরে ইনভলভ হওয়ার প্রচুর সময় পেয়েছিলাম।
প্রশ্ন: এটি কি আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র?
জিৎ: সবথেকে না হলেও, ‘ওয়ান অফ দ্য মোস্ট চ্যালেঞ্জিং’ চরিত্র তো বটেই। অনন্তর দেশের প্রতি যে সমর্পিত মনোভাব, ওর সংঘর্ষ, ধৈর্য এবং আত্মত্যাগ—সবটাই খুব অনুপ্রেরণাদায়ক। মহৎ কাজ করতে গেলে যে অনেক লড়াই করতে হয়, চরিত্রটা সেটা শেখায়।
প্রশ্ন: স্ট্রাগলের কথা বললেন, ‘সাথী’-র আগের জিৎ আর আজকের জিতের মধ্যে কতটা বদল এসেছে?
জিৎ: মৌলিক মানুষ হিসেবে খুব একটা বদলাইনি। তবে প্রাসঙ্গিক থাকতে নিজেকে প্রতিনিয়ত ইভলভ করতে হয়। 'সাথী'-র আগে এক ধরণের স্ট্রাগল ছিল, 'সাথী'-র পরে অন্য ধরনের। স্বামী বিবেকানন্দ যেমন বলেছিলেন, জীবনের পথে বাধা না এলে বুঝতে হবে পথটা ভুল। চ্যালেঞ্জ থাকবেই।
তিন দশকের ক্যারিয়ার ও জেন-জি প্রজন্ম
প্রশ্ন: দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে কোনো আফসোস আছে?
জিৎ: মানুষ মাত্রই ভুল-ত্রুটি দিয়ে শেখে। ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর মধ্য দিয়েই জীবন যায়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি, কিন্তু আফসোস করে তো কোনও লাভ নেই!
প্রশ্ন: নতুন 'জেন-জি' (Gen-Z) প্রজন্মকে আপনি কীভাবে দেখেন?
জিৎ: আমার বাড়িতেই তো ছ’টা বাচ্চা আছে, যার মধ্যে পাঁচজন জেন-জি আর ছোটটা (ছেলে) জেন-আলফা। ওদের সাথে গল্প করি, ওদের নতুন শব্দ বোঝার চেষ্টা করি। নবীন আর প্রবীণের সুন্দর মেলবন্ধন হলেই পথটা মজাদার হয়।
রাজনীতি, ইন্ডাস্ট্রি এবং সুপারস্টার বিতর্ক
প্রশ্ন: সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আপনার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল...
জিৎ: আমি নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম বলেই গিয়েছিলাম, ২০১১-তেও যখন পেয়েছিলাম তখনও গিয়েছিলাম। নিমন্ত্রণ রক্ষা ছাড়া এর পেছনে আলাদা কোনও রাজনৈতিক দৃষ্টি খোঁজার কারণ নেই।
প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রিকে পলিটিক্সের ঊর্ধ্বে কীভাবে দেখতে চান?
জিৎ: আমি কোনওভাবেই ‘ব্যান কালচারে’ বিশ্বাসী নই। ব্যক্তিগত স্বার্থ পাশে সরিয়ে রেখে আমরা যদি সবাই এক হয়ে ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের কথা ভাবি, তবেই সবাই উপকৃত হবো।
প্রশ্ন: জিৎ আর দেবের পর নতুন কোনো সুপারস্টার উঠে আসছে না কেন?
জিৎ: এটা খুব দুর্ভাগ্যের। আসল সমস্যা হলো, বিগত ৩০-৪০ বছরে বাংলার বহু যোগ্য ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম কাজের তাগিদে রাজ্য ছেড়ে বাইরে চলে গেছে। ফলে সর্বত্রই 'ইউথ কানেকশন'-এর একটা অভাব তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: কোয়েল মল্লিকের সাথে দেবের জুটি ফিরছে, জিৎ-কোয়েল জুটি আবার কবে আসবে?
জিৎ: আমি জানি না দেব-কোয়েল জুটি ফিরছে কিনা, তবে আমরাও চাই দর্শককে এই জুটি উপহার দিতে, কিন্তু তার জন্য তো মোক্ষম গল্প দরকার। ঠিকঠাক মনের মতো স্ক্রিপ্ট পেলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব। আমার কাছে থাকলেও করব, বা রানে (কোয়েলের স্বামী, প্রযোজক) যদি খুঁজে পায়।
দর্শকদের উদ্দেশ্যে বার্তা
প্রশ্ন: ১৫ই আগস্টের বিশেষ প্রাক্কালে দর্শকদের কী বলতে চান?
জিৎ: এই ছবিটির মধ্যে এমন অনেক বিষয় আছে যা আজকের প্রজন্মের সাথেও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। সবাই সিনেমা হলে আসুন এবং যুক্ত হোন এই যাত্রায়।
প্রশ্ন: সবশেষে জানতে চাইব বক্স অফিস নম্বর কি আপনার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষত বাকিরা যে নম্বরগুলো জানায় আর কী…
জিৎ: নম্বর যত বড় থাকে তত এনজয় করি, তবে আমার নিজের ছবির ক্ষেত্রে (বক্স অফিস) নম্বরগুলির থেকেও আমার কাছে মানুষের ভালোবাসাটা সবচেয়ে বেশি ম্যাটার করে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


