Jeetu-Biplab:‘আমাকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন…’, পর্দার বাবা বিপ্লবকে হারিয়ে দিশেহারা জীতু!

Jeetu-Biplab: বিশিষ্ট অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। পর্দার ‘বাবা’ তথা বাস্তবের পথপ্রদর্শককে হারিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিলেন অভিনেতা জিতু কামাল। সত্যজিৎ রায় থেকে উত্তম কুমার— আড্ডার সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করে জিতুর কলম আজ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ।

Published on: Apr 24, 2026, 19:48:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jeetu-Biplab: শুক্রবার দুপুরে গল্ফ ক্লাব রোডের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের বিশিষ্ট মুখ বিপ্লব দাশগুপ্ত। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে টলিউডের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তবে এই মৃত্যু সংবাদে বেজায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা জীতু কামাল। বিপ্লব দাশগুপ্ত কেবল তাঁর সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক পরম বন্ধু ও পরামর্শদাতা। তাঁকে হারিয়ে শোকে কাতর পর্দার আর্য সিংহ রায়।

‘আমাকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন…’, পর্দার বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা জীতু!
‘আমাকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন…’, পর্দার বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা জীতু!

সেই প্রথম আলাপ ও সম্পর্কের রসায়ন:

জীতু ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে বিপ্লব দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম আলাপ। ২০১৯ সালে একটি প্রজেক্টে তাঁরা বাবা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই থেকেই পর্দার সম্পর্ক গড়িয়েছিল বাস্তবেও। জীতুর কাছে তিনি ছিলেন ‘বিপ্লবদা’। ২০২২ সালে যখন জিতু ‘অপরাজিত’ ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বিপ্লব দাশগুপ্তই তাঁকে সত্যজিৎ রায়ের ইন্টারভিউ এবং উত্তম কুমারের ভিডিও দেখিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন।

অদ্ভুত এক নেশার স্মৃতি:

বিপ্লব দাশগুপ্তের বাচিক শৈলী আর শিল্পবোধে মুগ্ধ ছিলেন জীতু। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অভিনেতা জানান, বিপ্লবদা তাঁকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন। সেটা কোনও মাদক নয়, বরং ছিল সিনেমা আর সাহিত্যের আড্ডা। জীতুর কথায়, 'উনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হোটেলে থাকা এবং সেখানকার খাবারের স্বাদ নেওয়ার এক অন্য অভিজ্ঞতায় আমাকে জড়িয়েছিলেন। এও যে ঘুরতে যাওয়ার এক ধরনের ধরন আমি আগে তা জানতাম না।

খুব স্পষ্ট মনে আছে,দু-তিন বছর আগের ঘটনা। দার্জিলিঙে ২-৩ দিনের জন্যে ঘুরতে গেছি। উনি আলাদা হোটেলে বৌদিকে নিয়ে আর আমি আলাদা হোটেলে।কেভেন্টার্সের সামনে আমাদের সকালে এবং সন্ধ্যেবেলা দেখা হতোই।কিন্তু আমাদের হোটেলের অ্যাড্রেস প্রত্যেকদিন পাল্টে যেত।'

উত্তম কুমারের কণ্ঠ অনুকরণ বা সত্যজিৎ রায়ের ছবি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা— সবই চলত সমানতালে। জীতু কাছের মানুষকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা। তিনি লেখেন, ‘বিপ্লবদা তুমিও একা করে দিলে! হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রি নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি। অশুভ শক্তি দমনে তুমিও তো ছিলে আমার এক শিক্ষক। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা, কে জানে! আর্টিস্টের মাথারা জানে তো?? আজকে এক নক্ষত্র-পতন হলো?? যাই হোক। ভালো থেকো বিপ্লব দা। দেখা হবে তোমার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি।’

শেষ বিদায়:

দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর রোগে ভুগছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। মাঝে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও শেষ কয়েক মাস বাড়িতেই ছিলেন। শুক্রবার সকালে আচমকাই অসুস্থবোধ করেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় অভিনেতার।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More