‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ নিয়ে কেন চুপ টলিপাড়া? ‘জিৎদা’র হয়ে সরব জীতু

মাকে নিয়ে হলে গিয়ে ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ দেখলেন জীতু কমল। ছবির প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিনেতা। কী লিখলেন সোশ্যাল মিডিয়াতে?

Published on: Aug 18, 2026, 21:30:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বেশ লম্বা বিরতির পর বক্স অফিসে এসেছেন জিৎ। আর এসেই যাকে বলে মাত দিলেন বক্স অফিসে। আপাতত বক্স অফিসে রমরমিয়ে চলছে কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত। ছবিতে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক, বিপ্লবী অনন্ত লাল সিং-এর চরিত্রে দেখা গিয়েছে জিৎকে। শুধু দর্শক নয়, সমালোচক দ্বারাও প্রশংসিত হয়েছে জিতের সিনেমা। এমনকী, ৪দিনে পেরিয়ে গিয়েছে ১ কোটির গণ্ডি। বাংলা সিনেমার হিসেবে এই আয় অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।

জিতের  ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জীতু।
জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জীতু।

মা-কে নিয়ে জিতের সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন জীতু। দুজনে এর আগে ‘এরাও মানুষ’ সিনেমায় করেছিলেন কাজ। তা ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ কেমন লাগল অভিনেতার? জীতুর মা-ই বা ছবিখানা দেখে কী বললেন।

ফেসবুকে জীতু জানালেন সোমবার বৃষ্টিমুখর কলকাতা যখন, তখন মাকে নিয়ে চারটের শো-তে গিয়েছিলেন ছবিখানা দেখতে। অভিনেতা লিখলেন, ‘ছবি দেখে বাড়ি ফিরছি, ফিরতি পথে মাকে জিজ্ঞেস করলাম,- ‘কেমন লাগল?’ মা অল্পভাষী। বলল, ‘ভালো’। সত্যি বলব, এ যাবৎকালে আমি প্রথমবার আমার মাকে তালি দিতে দেখলাম সিনেমা হলে।’

তবে জীতুর পোস্টে ধরা পড়ল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে খেদ। ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-কে যথাযথ মর্যদা না দেওয়ার কষ্ট। জীতু লিখেছেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় নেতা-অভিনেতাদের কাউকে ঠিক বলতে শুনলাম না ছবিটা নিয়ে। তাঁরা নিজেদের ছবি, নিজেদের ইচ্ছাপ্রণোদিত ব্যস্ততায় ব্যস্ত থাকেন। নিজেরাই জাতীয় পুরস্কার পান, নিজেরাই নিজেদেরকে পুরস্কার, জাতীয় পুরস্কার দেন। আর যা যা আছে দিয়ে থাকেন। সে ভালো কিছু নিয়ে তো একটা ব্যস্ত আছেন। নয়তো হতাশায় তো আর বেশি দিন বাঁচা যায় না। তবে এই ধরনের ছবি আশা করি জাতীয় পুরস্কারের অনেক ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় মানুষকে।’

জীতু এই পোস্টে লিখলেন, টলিপাড়ার অনেককেই বলতে শুনেছেন যে, ঋতুপর্ণ ঘোষ মারা যাওয়ায় সেই জায়গায় ‘উত্থান হয়েছে’ অনীক দত্তের। এমনকী লোক খোঁটা দিয়ে এমনও বলতেন, ‘ওর(অনীক দত্ত) ছবি ঋতুপর্ণ ঘোষ মারা যাওয়ার পর হয়েছে। এটা ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্যও ভালো হয়েছে, অনীক দা আর আমার জন্যেও ভালো হয়েছে—কারণ ঋতুপর্ণ ঘোষ নাকি অনীক দার ছবি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়তেন।’ তবে জীতু সবটা ছেড়ে দিয়েছেন ভগবানের উপর। আর এই আধ্যাত্মিকতা তিনি জিতের মধ্যেও দেখেছেন বলে লেখেন জীতু।

পোস্টের শেষভাগে লিখেছেন, ‘এই ছবি দেখার পর জিৎদাকে আরও বেশি করে ‘দাদা’ বলতে ইচ্ছা করছে। কারণ সমাজের যে প্রেক্ষাপট এই ছবি তুলে ধরেছে,তার মধ্যে আমি আর আমার মতো হাজারও মানুষও প্রতিদিন না মরে বেঁচে আছি। সর্বোপরি, প্রচুর খেটেছেন। হাজারো ব্যর্থতার মধ্যে কী করে কনসিস্টেন্সি বজায় রেখে অপেক্ষা করতে হয়, সেই শিক্ষাটাও দিয়েছেন। আর যদি সৎ ভাবে কাজ করে,অপেক্ষা করা যায়, ধৈর্য্য রাখা যায়, তাহলে সাফল্য আসে, আসে, আসে। পেছনে কুৎসা করার প্রচুর অমানুষ থাকলেও সাফল্য আসবেই। ক্রান্তি আসবেইইই।’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More