‘কখনো বাবার ছায়া ছেড়ে…’! নেপোকিড তকমা, কী বললেন আমিরের ছেলে জুনায়েদ খান
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান-এর ছেলে হওয়া যে সহজ নয়, তা স্পষ্ট করেই জানালেন জুনায়েদ খান। নিজের পরিচয়, বাবার জনপ্রিয়তার ছায়া এবং ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা। একইসঙ্গে উঠে এল তাঁর নতুন ছবি এক দিন এবং অভিনয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান গত কয়েক দশক ধরে হিন্দি সিনেমার অন্যতম বড় নাম। ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ তারকাদের তালিকায় বরাবরই জায়গা রয়েছে তাঁর। নিজের কেরিয়ারে একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন আমির। তাঁর পথ অনুসরণ করেই এবার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে ব্যস্ত তাঁর ছেলে জুনায়েদ খান। ২০২৪ সালে অভিনয় জগতে পা রাখেন জুনায়েদ। বর্তমানে তিনি তাঁর নতুন ছবি ‘এক দিন’ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। এই ছবিতে জুনায়েদের বিপরীতে অভিনয় করছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবী। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাবা আমির খানের সঙ্গে নিজের তুলনা এবং পরিচয়ের সংকট নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন জুনায়েদ।

‘আমি সবসময় আমির খানের ছেলে হিসেবেই পরিচিত থাকব’
ছবির একটি প্রোমোশনাল ভিডিওতে সাই পল্লবী জুনায়েদের কাছে জানতে চান, আমির খানের ছেলে হওয়ার কারণে কখনও কি তিনি পরিচয় সংকটে ভুগেছেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে জুনায়েদ বলেন, ‘আমির খানের ছেলে হওয়ার যে ছায়া, তার বাইরে আপনি কোনওদিনই বেরোতে পারবেন না। এটা না ইতিবাচক, না নেতিবাচক। উনি গত ৩৫ বছর ধরে স্টার। খুব তাড়াতাড়ি আমি সেই জায়গায় পৌঁছে যেতে পারব না। সেখানে পৌঁছতে আমার গোটা জীবন লেগে যাবে। তাই আগামী দিনেও আমি যতই ভালো কাজ করি না কেন, আমি সবসময় আমির খানের ছেলে হিসেবেই পরিচিত থাকব।’
‘মহারাজ’-এর সেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ
এরপর নিজের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন জুনায়েদ। তিনি জানান, তিনি এমন ছবির অংশ হতে চান যেখানে কাজ করার পরিবেশ আনন্দদায়ক এবং যে প্রজেক্টগুলোর সঙ্গে তিনি সত্যিই নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে মহারাজ ছবির সেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত ভালো ছিল।
নিজের রাস্তা নিজেই তৈরি করেছেন জুনায়েদ
অন্যদিকে আমির খানও একাধিকবার ছেলের কাজের ধরন নিয়ে প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জুনায়েদ কখনও বাবার সাহায্যের উপর নির্ভর করেননি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা নিজেই তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বহু বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও জুনায়েদকে অনেক সময় অটোয় যাতায়াত করতেও দেখা গিয়েছে। যা তাঁর মাটির কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিত্বকেই তুলে ধরে।
জুনায়েদের ফিল্মি কেরিয়ার
২০২৪ সালে পরিচালক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত মহারাজ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন জুনায়েদ খান।১৮৬২ সালের বিখ্যাত মহারাজ মানহানির মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এই ছবি। এতে জুনায়েদের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন শালিনী পাণ্ডে, শারভরি এবং জয়দীপ আহলাওয়াত।
ছবিটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছিল এবং জুনায়েদের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।এরপর তিনি লভিয়াপ্পা ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় ডেবিউ করেন। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন খুশি কাপুর। তবে এই রোমান্টিক কমেডি ছবিটি বক্স অফিসে খুব একটা ভালো ফল করতে পারেনি। বিশেষ করে লিড জুটির রসায়ন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। যদিও পরে OTT-তে মুক্তির পর ছবিটি দর্শকের প্রশংসা পায়।
‘এক দিন’ সম্পর্কে
জুনায়েদ খান অভিনীত এক দিন গত ১ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুনীল পাণ্ডে এবং প্রযোজনা করেছে আমির খান প্রোডাকশন। এই ছবি ২০১৬ সালের থাই চলচ্চিত্র ওয়ান ডে-এর রিমেক। এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে ডেবিউ করলেন সাই পল্লবী। দর্শক এবং সমালোচকদের কাছ থেকে ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দেশীয় বক্স অফিসে ছবিটির আয় ৩ কোটির সামান্য বেশি।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


