‘মতাদর্শের লড়াই লড়তে হলে কিছু ডানপন্থী বই এনে তো একটা বুকস্টল করতে পারেন…’! বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুর, কটাক্ষ কমলেশ্বরের
বামপন্থী দলগুলির দাবি, পুলিশি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের একাধিক পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন মার্কসবাদী সাহিত্যের বিপণিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে বিজেপি সমর্থকেরা। যা নিয়ে সরব হলেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর এবং হামলার একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। বামপন্থী দলগুলির দাবি, পুলিশি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের একাধিক পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন মার্কসবাদী সাহিত্যের বিপণিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে বিজেপি সমর্থকেরা। হাওড়ার ব্যাতাইতলা, কলকাতার ঢাকুরিয়া, বিজপুর, নোয়াপাড়া, পলতা-সহ উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় ঘটেছে এমন ঘটনা।

এই হামলার প্রতিবাদে সরব হলেন বামমনস্ক পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। তিনি বামেদের বুকস্টলে হামলার কিছু ছবি শেয়ার করে লিখলেন, ‘বামপন্থীরা বইয়ের স্টল দিলে তা ভাঙছেন কেন? মতাদর্শের লড়াই লড়তে হলে কিছু ডানপন্থী বই এনে তো একটা বুকস্টল করতে পারেন আপনারা। তারপর পাবলিকের ইচ্ছে - তাঁরা কোন স্টলে ঢুকে বই দেখবেন বা কিনবেন। মিটে গেল।’
‘এবার যদি বলেন আপনাদের মতাদর্শ নেই বা তা নিয়ে লেখা বই নেই বা থাকলেও সেগুলো পড়া হয়ে ওঠেনি, তাহলে অচিরেই লেখাপড়া শুরু করুন। দেখবেন, আসছে বছর আপনিও বামপন্থী বইয়ের স্টল খুলে বসবেন।’, আরও লিখলেন কমলেশ্বর।
তবে এই পোস্টেও বিজেপি সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়তে হল কমলেশ্বরকে। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বলছি কাকু আপনি সিনেমা করা ছেড়ে দিয়ে সিপিএমের স্টলে বই বিক্রি করতে পারেন তো’। আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘যারা ধর্ম মানে না, তাদের ধর্মীয় উৎসবে বইয়ের স্টল দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? ওই কটা দিন বাদে সারা বছর স্টল দিন তাতে অসুবিধা কোথায়!!!’ আরেকজন লিখলেন, ‘এটা কোন দল বলছে, যে দল একসময় কেশপুরে গনশক্তি ছাড়া অন্য পেপার বিক্রি করা তো দূরের কথা, পড়তেও দিত না।’
শুরুটা হয়েছিল বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির কথাকে ঘিরে। দুর্গাপুজো না লিখলে বামেদের বইয়ের স্টলের অনুমতি মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘সমস্ত দুর্গাপূজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে দুর্গাপুজো না লিখে শারদোৎসব লিখলে স্টল করতে দেবেন না।’
আবার দীলীপ ঘোষ ষষ্ঠীর সকালে বামেদের খোঁচা দিয়ে দাবি করেন, ‘শুধুই প্রদর্শনী, কেউ তো কেনে না’। যদিও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য একটি পোস্টে দাবি করেছেন, চলতি বছরে পুজোর প্রথম দুদিনেই যাদবপুরের একটি স্টলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার বিক্রি হয়েছে। এবারে কিন্তু বামেদের পাশাপাশি বিজেপি অর্থাৎ ডানপন্থীদেরও বুকস্টলে আসবে নজরে। রেকর্ড সংখ্যার বুকস্টল দিয়েছে তাঁরা। কোন স্টলে বেশি ভিড় হয়, কার বই-ই বা বেশি বিক্তি হয়, তার উত্তর দেওয়া যদিও এখন বেশ মুশকিল।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


