কুছ কুছ হোতা হ্য়ায় ব্লকবাস্টার! তারপরও সেই ছবি মুক্তির পর মা-বাবাকে নিয়ে কেন দেশ ছেড়ে পালাতে হয় করণ জহরকে?
করণ জোহরের প্রথম ছবি তাঁর পরিবারের জন্য একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকী মা-বাবাকে নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে কুছ কুছ হোতা হ্যায় মুক্তির পর।
করণ জোহরের ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়' সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল। এই ছবিতে শাহরুখ খান মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং প্রধান নারী চরিত্রে দেখা গিয়েছিল রানি মুখার্জি ও কাজলকে। করণ জোহরের পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন যশ জোহর। শুধু যে এই ছবির গানগুলো সুপারহিট হয়েছিল তাই নয়, এর গল্পও দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু খুব কম লোকই জানেন যে, এই ছবি মুক্তির ঠিক আগেই করণ জোহরকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। আসলে ঘটনাটি ঘটেছিল এমন— করণ জোহরের পরিবার আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে হুমকির ফোন পেয়েছিল এবং আতঙ্কে তাঁরা সবাই লন্ডনে পালিয়ে যান। নিজের আত্মজীবনী এবং একাধিক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পরিচালক।

করণকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন আবু সালেম
করণ জোহরের আত্মজীবনীতেও এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। পরিচালক জানিয়েছিলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেম তাঁকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। ছবি মুক্তি পেলে তাঁকে গুলি করে মারা হবে বলে জানানো হয়েছিল। ছবিটির মুক্তি আটকানোই ছিল এই হুমকির উদ্দেশ্য।
এই ঘটনায় ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন করণের মা হিরু জোহর। পরিস্থিতির কথা ভেবে ছবির মুক্তির সময়ই করণ জোহর এবং তাঁর বাবা-মাকে লন্ডনের বিমান ধরতে হয়েছিল। মুম্বই থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।
এক সাক্ষাৎকারে করণ নিজেই জানিয়েছিলেন, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত ভয়ের। এমনকী, এই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আদিত্য চোপড়া এখনও তাঁর সঙ্গে মজা করেন।
দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল পরিবার
একটি অনুষ্ঠানে আলাপচারিতার সময় করণ জোহর বলেন, ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড খোলামেলাভাবে সামনে আসতে শুরু করেছিল এবং প্রযোজক-পরিচালকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় পুরো বিষয়টি ভীষণ ভীতিকর হয়ে উঠেছিল। আমাদেরও সিনেমা মুক্তির আগে একটি ফোন আসে। আমাকে আমার বাবা ও মাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়ে লন্ডনে যেতে হয়েছিল, যাতে আমরা মুম্বই থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে পারি।’
লন্ডনের ফোন বুথ থেকে আদিত্য চোপড়াকে ফোন
সেই সময় লন্ডনে এখনের মতো রাস্তার ধারে লাল রঙের পাবলিক ফোন বুথ দেখা যেত। সেখান থেকেই ভারতে ফোন করতেন করণ। ছবির ব্যবসার খবর জানতে তিনি ফোন করেছিলেন বন্ধু তথা পরিচালক আদিত্য চোপড়াকে।
করণ জানান, ফোন করার জন্য তাঁর কাছে মাত্র এক বা দু’পাউন্ড থাকত। সেই টাকা খরচ করে আদিত্যকে ফোন করে জানতে চাইতেন, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কেমন ব্যবসা করছে।
দেশ থেকে দূরে থাকায় ছবির সাফল্য সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিলেন না তিনি। তাই অল্প সময়ের ফোনেই যত দ্রুত সম্ভব ছবির ব্যবসার খবর জেনে নিতে চাইতেন। কিন্তু আদিত্য চোপড়ার কাছ থেকে যে উত্তর পেয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর কল্পনারও বাইরে।
আদিত্যর এক কথাতেই বদলে গিয়েছিল করণের জীবন
করণ জোহর জানান, একদিন ফোন বুথ থেকে আদিত্য চোপড়াকে ফোন করে তিনি ছবির ব্যবসার কথা জানতে চান। কিন্তু আদিত্য তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি কী কিনতে চান।
আদিত্যর এমন প্রশ্নে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন করণ। তিনি বুঝতেই পারছিলেন না, ছবির ব্যবসার খবর জানতে চাওয়ার সঙ্গে কিছু কেনার প্রশ্নের সম্পর্ক কী! তাই পাল্টা আদিত্যকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কেন এমন কথা বলছেন।
এরপর আদিত্য আবারও জানতে চান, করণ কী কিনতে চান। তখন করণ জানান, তিনি তাঁর বাবা-মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনতে চান।
করণের কথায়, এরপর আদিত্য চোপড়া তাঁকে বলেন, ‘যাও, তোমার যে বাড়িটা পছন্দ, সেটা কিনে ফেলো। কারণ তোমার ছবিটা ব্লকবাস্টার হয়ে গিয়েছে।’
আদিত্যর মুখে এই কথা শুনে আনন্দে ভরে গিয়েছিল করণের মন। যে ছবির মুক্তির আগে তাঁকে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছিল। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর সাফল্য শুধু করণ জোহরের কেরিয়ারকেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়নি, তাঁর বাবা-মায়ের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণের পথও খুলে দিয়েছিল।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


