নেই বিদ্যুৎ, তামিলনাড়ুর এক প্রত্যন্ত গ্রামে কেন থাকেন ক্যাটরিনা কাইফের মা?
বলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ ক্যাটরিনা কাইফ। কিন্তু তাঁর মা সুজানের জীবন একেবারেই আলাদা। খ্যাতি ও বিলাসিতা থেকে দূরে তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত এলাকায় শিশুদের জন্য কাজ করছেন তিনি। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে ৩০০-রও বেশি পড়ুয়ার স্কুলে।
ক্যাটরিনা কাইফের নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বলিউডের গ্ল্যামার, বড় বাজেটের ছবি এবং তারকাখচিত জীবন। কিন্তু তাঁর মা সুজান বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ। বহু বছর ধরে তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও স্থানীয় মানুষের জন্য কাজ করছেন তিনি। সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখিয়েছেন সুজান।

এই কাজের সূত্রপাত ২০০৮ সালে। সে সময় লন্ডনে থাকা সুজান তামিলনাড়ুতে এসে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়াশোনায় সাহায্য করার লক্ষ্যেই প্রথমে সরকারি স্কুলগুলিতে বিনামূল্যে টিউশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগের পরিধি বাড়তে থাকে। শিক্ষা ছাড়াও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো বিষয় নিয়েও কাজ শুরু হয়।
ছোট উদ্যোগ থেকে বড় স্কুল
প্রথম দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ৩০ জন শিশুকে নিয়ে নার্সারি ক্লাস চালু করা হয়েছিল। মূলত আশপাশের গ্রামের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানরাই সেখানে পড়ত। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয় স্বীকৃত নার্সারি এবং পরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
২০১৫ সালে শুরু হয় ‘মাউন্টেন ভিউ’ নামে স্কুলটি। বর্তমানে সেখানে ৩০০-র বেশি পড়ুয়া রয়েছে। শুধু স্কুল তৈরি করাই নয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা যায়।
মায়ের কাজ নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন ক্যাটরিনা। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর মা মাদুরাইয়ে থাকেন এবং সেখানেই শিশুদের জন্য স্কুল গড়ে তুলেছেন। তিনি নিজেও শিক্ষকতা করেন। মায়ের আশীর্বাদ এবং ভালো কাজের প্রভাব তাঁর জীবনেও রয়েছে বলে মনে করেন ক্যাটরিনা।
বিদ্যুৎ-ইন্টারনেটের সমস্যাও নিত্যসঙ্গী
যে এলাকায় ক্যাটরিনার মা থাকেন, সেখানে এখনও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানা পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সেখানে অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না, ইন্টারনেট সংযোগও অনিয়মিত। ফলে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলাও সবসময় সম্ভব হয় না। অনেক সময় সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখতে হয় তাঁদের।
শুধু নিজের উদ্যোগে কাজ করাই নয়, কয়েকজন শিশুর দায়িত্বও নিয়েছেন সুজান। ক্যাটরিনার বক্তব্য অনুযায়ী, চ্যারিটির মাধ্যমে তিনি আটটি শিশুকে নিজের খরচে লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন।
ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যকে কাছ থেকে দেখা
সমাজসেবার সঙ্গে সুজানের সম্পর্ক নতুন নয়। ক্যাটরিনার শৈশবের দিনগুলিতেও তাঁর মায়ের এই কাজের প্রভাব ছিল। অভিনেত্রী এক পুরনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় তিনি এমন কিছু দেশে বড় হয়েছেন যেখানে দারিদ্র্য ছিল খুবই পরিচিত বাস্তবতা। তাঁর পরিবারও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেনি।
ক্যাটরিনার কথায়, মায়ের সমাজসেবার কারণে ছোট থেকেই তিনি দরিদ্র মানুষের জীবন ও সমস্যাগুলি কাছ থেকে দেখেছেন। তাই আজ মায়ের সিদ্ধান্ত এবং কাজ নিয়ে গর্বিত অভিনেত্রী।
বলিউডের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে থেকে সুজানের এই দীর্ঘদিনের উদ্যোগ এখন বহু শিশুর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। একসময় মাত্র কয়েকজন পড়ুয়াকে নিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রয়াসই আজ একটি বড় স্কুলে পরিণত হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


