‘বাবা হিসেবে অসাধারণ…’! দিনে ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেও ছেলেকে দেন সময়, ভিকির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্যাটরিনা
মা হওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালে রেখেছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তবে এবার স্বামীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্যাটরিনা। জানালেন, টানা ১৪-১৮ ঘণ্টা কাজ করার পরেও কীভাবে ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে ভোলেন না ভিকি। তাঁর কথায়, বাবা হিসেবে অসাধারণ ভিকি।
বলিউডের অন্যতম চর্চিত তারকা দম্পতি ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। ২০২১ সালে বিয়ের পর ২০২৫ সালে তাঁদের পরিবারে আসে নতুন সদস্য। পুত্রসন্তান ভিহানের জন্মের পর থেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার আড়ালে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা না বললেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বামী ভিকির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ক্যাটরিনা। অভিনেত্রীর কথায়, কাজের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, পরিবারের জন্য সময় বের করে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে ভিকির।

‘আমি তত্ত্বে জ্ঞানী, ভিকি কাজে’
‘ভোগ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিকির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে কথা বলেছেন ক্যাটরিনা। অভিনেত্রীর মতে, স্বামী হিসেবে ভিকি অসাধারণ। বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত তিনি। পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সততার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাও ক্যাটরিনার বিশেষভাবে ভালো লাগে।
নিজেদের ব্যক্তিত্বের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে মজার ছলে অভিনেত্রী বলেন, ভিকি বাস্তবে অত্যন্ত বিচক্ষণ, আর তিনি তত্ত্বের দিক থেকে বেশি জ্ঞানী। ক্যাটরিনার কথায়, ভিকির অন্যতম বড় গুণ হল, তিনি মন দিয়ে অন্যের কথা শোনেন। ক্যাটরিনা নিজেও অনেক কথা বলতে ভালোবাসেন। তাই তাঁর মতো মানুষের জন্য ভিকির এই গুণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতাও দেন স্বামী।

১৮ ঘণ্টা কাজ করেও ছেলের জন্য সময়!
বাবা হিসেবে ভিকি কতটা দায়িত্বশীল, তা বোঝাতে গিয়ে ক্যাটরিনা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় শুটিং করার পরেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখেন না অভিনেতা। দিনে ১৪, ১৬ এমনকী ১৮ ঘণ্টা কাজ করেও ছেলে ভিহান এবং ক্যাটরিনার সঙ্গে থাকাকালীন সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকেন ভিকি।
ক্যাটরিনার মতে, এটাই তাঁর স্বামীর বিশেষ ক্ষমতা। ক্লান্তি কিংবা কাজের চাপকে পাশে সরিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলিতে পুরোপুরি উপস্থিত থাকতে পারেন ভিকি। অভিনেত্রীর চোখে, বাবা হিসেবে তিনি সত্যিই অসাধারণ।
তবে সন্তান আসার পর তাঁদের নিজেদের জন্য সময় কিছুটা কমেছে বলেও স্বীকার করেছেন ক্যাটরিনা। আগের মতো রোম্যান্টিক ডিনার কিংবা একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়ার সুযোগ এখন কম। কিন্তু এই পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নয় বলেই স্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন ভিকি। ক্যাটরিনার কথায়, তাঁদের নিজেদের সময়ও আবার ফিরে আসবে।
মা হওয়ার পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, ট্রোলারদের কী জবাব ক্যাটরিনার?
সন্তানের জন্মের পর থেকে ক্যাটরিনাকে জনসমক্ষে তুলনামূলক কম দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠানে এবং মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে দেখা গেলেও, মাতৃত্বের পর তাঁর চেহারা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষও হয়েছে।
লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে সেই ধরনের সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী বলছেন, তার উপর নিজের আত্মবিশ্বাস কিংবা আত্মসম্মান নির্ভর করতে দেওয়া উচিত নয়।
ক্যাটরিনার মতে, অনলাইনে সকলের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে যদি কেউ নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে থাকেন, তা হলে নিজের মতো করে জীবন চালানোর ক্ষমতাই বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিটি সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের পদক্ষেপ ঠিক করতে গেলে ভয় মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে। তাই অন্যের মন্তব্যের চেয়ে নিজের বিচারবুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাসকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।
এখন কোন কাজে ব্যস্ত ক্যাটরিনা?
ভিকিকে বিয়ের পর থেকে ছবির কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই সতর্ক ক্যাটরিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘কে বিউটি’-র ব্যবসা সম্প্রসারণেও মন দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ব্রিটেনেও পা রেখেছে তাঁর এই ব্র্যান্ড।
অন্যদিকে, ক্যাটরিনাকে শেষবার বড়পর্দায় দেখা গিয়েছে ২০২৪ সালের ছবি ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বিজয় সেতুপতি। আপাতত অভিনয়, ব্যবসা এবং মাতৃত্ব—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এগোচ্ছেন অভিনেত্রী।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


