নিজেকে বাঁচাতে আজমল কাসাব নেয় অমিতাভের নাম! কী দাবি ছিল ২৬/১১ হামলার জঙ্গির?
কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮-র মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। সঙ্গে ছিলেন রাজকুমার রাও ও ওয়ামিকা গাব্বি। ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত আজমল কাসাবকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন তিনি। জানালেন, কাসাব নাকি তাঁকে বলেছিল, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করতেই মুম্বই এসেছিল সে!
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর একটি নতুন পর্ব বেশ বিনোদনমূলক হতে চলেছে। এবার এই শো-তে এসেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। ইনি তিনিই যিনি ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্ত আজমল কাসাভের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই লড়েছিলেন। এই বিশেষ পর্বে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেতা রাজকুমার রাও এবং অভিনেত্রী ওয়ামিকা গাব্বি। তাঁরা সবাই তাঁদের আগামী সিনেমা ‘প্রহার: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব উজ্জ্বল নিকম’-এর প্রচারের জন্য এই শো-তে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন কথাবার্তার সময় উজ্জ্বল নিকম জানান যে, সন্ত্রাসী কাসাব অমিতাভ বচ্চনের কথা উল্লেখ করেছিল।

KBC ১৮-র মঞ্চে ২৬/১১ মুম্বই হামলার প্রসঙ্গ
কথোপকথনের মাঝে উঠে আসে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ। অমিতাভ বচ্চন প্রশ্ন করেন, আজমল কাসাবকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল কেন? অভিনেতার কথায়, ‘ওকে তো ওখানেই পুঁতে ফেলা উচিত ছিল। এত সময় লাগল কেন?’
এর উত্তরে উজ্জ্বল নিকম আদালতে কাসাবের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি জানান, আদালতে আসার পর কাসাব তাঁর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল। তিনিও কাসাবের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। নিকমের দাবি, নিজের পরিচয় গোপন করে এবং ভুল তথ্য দিয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল সে। কাসাবের দাবি ছিল, ২৬/১১ হামলার ঘটনায় নয়, বরং ৬ নভেম্বর জুহু চৌপাট্টি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করতে মুম্বই এসেছিল কাসাব?
অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল নিকম জানান, জেরার সময় আজমল কাসাব তাঁকে বলেছিল, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করতেই নাকি মুম্বই এসেছিল সে। নিকমের কথায়, ‘আপনারা অবাক হবেন, এরপর ও বলেছিল, আমি তো অমিতাভজিকে দেখতে এসেছিলাম। সত্যিই এমনটা ঘটেছিল।’
কাসাবের মুখে নিজের নাম শুনে অবাক হয়ে যান অমিতাভ বচ্চন। তবে মজার ছলেই অভিনেতা বলেন, ‘না না, স্যার! ও যদি আসত, তা হলে আমাদের বাড়ি থেকে আর ফিরতে পারত না। আমরাই ওকে গুলি করে দিতাম!’
কাসাবের একাধিক মিথ্যা দাবি, জানালেন উজ্জ্বল নিকম
কাসাবের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার সময় একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানান উজ্জ্বল নিকম। তাঁর দাবি, কখনও নিজেকে নাবালক বলে দাবি করেছিল কাসাব, আবার কখনও বলেছিল, তাকে গ্রেফতার করেছে র। ফলে তার প্রকৃত বয়স প্রমাণ করার জন্য নানা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ছিল হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা-সহ একাধিক মেডিক্যাল পরীক্ষা। এরপরই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়।
নিকম আরও জানান, কাসাব অভিযোগ করেছিল, জেলে তার খাবারে বিষ মেশানো হচ্ছে। তবে পরবর্তী তদন্তে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি বলে জানান তিনি। এমনকী, ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে কাসাবকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল বলেও জানান এই আইনজীবী। শুনানির সময় কাসাব তাঁর দিকে ক্যামেরার সামনে থুতু ছুড়ে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
উজ্জ্বল নিকমের জীবন অবলম্বনে তৈরি ছবি
দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উজ্জ্বল নিকম। অজমল কাসাবের বিরুদ্ধে মামলা থেকে শুরু করে ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ, গুলশন কুমার হত্যা মামলা, প্রমোদ মহাজন হত্যা মামলা এবং ২০১৩ সালের মুম্বই গণধর্ষণ মামলার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এবার তাঁর জীবন ও কর্মজীবনকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ‘প্রহার: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ উজ্জ্বল নিকম’। ছবিতে রাজকুমার রাও ও বামিকা গাব্বিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। ছবিটি ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


