'নারী শরীর নিয়ে কেন বিতর্ক?' ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন খুশবু

বিগত কিছুদিন ধরে ক্যাটরিনা কাইফের পাল্টে যাওয়া শরীর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে কটাক্ষের ঝড়। মা হওয়ার পর তিনি কেন এতটা মোটা হয়ে গিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে।

Published on: Sep 19, 2026, 22:31:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বিগত কিছুদিন ধরে ক্যাটরিনা কাইফের পাল্টে যাওয়া শরীর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে কটাক্ষের ঝড়। মা হওয়ার পর তিনি কেন এতটা মোটা হয়ে গিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে। যদিও এই গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব। এবার নারীদের শরীর নিয়ে ভন্ডামির বিরুদ্ধে কড়া আওয়াজ তুললেন খুশবু।

ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন খুশবু
ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন খুশবু

নিজের ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ পোস্ট করা একটি দীর্ঘ নোটে খুশবু প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একজন নারীর শরীরকে সবসময় 'একটি প্রকাশ্য ঘোষণার মতো' গণ্য করা হয়। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একটি নির্দিষ্ট বয়স পার করা নারীদের তাদের 'যৌবনের সেরা সময়' দিয়ে বিচার করা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, 'পুরুষদের ক্ষেত্রে কেন প্রশ্ন করা হয় না?’

আরও পড়ুন: 'আমি দেখেই আঁতকে উঠি ', মাকে এমন কি ছবি পাঠিয়েছিল সাইনা?

খুশবু আরও লেখেন, ‘একজন পুরুষের মাথায় টাক পড়লে তিনি ‘বিশিষ্ট’ হয়ে যান। একজন পুরুষের কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চি হলে কেউ জিজ্ঞেস করে না তার ‘যৌবনের সেরা সময়’ কোথায় গেল। একজন পুরুষের চুলে পাক ধরলে বা পুরোপুরি সাদা হয়ে গেলে, হঠাৎ করেই তিনি ‘সাদা-কালো চুলে সুদর্শন’, ‘পরিপক্ক’, ‘আকর্ষণীয়’ হয়ে যান। একজন পুরুষের বয়স বাড়লে, অভিজ্ঞতার সাথে তাকে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু একজন নারীর বয়স বাড়লে, হঠাৎ করেই তার প্রতিটি বলিরেখা, প্রতি কেজি ওজন, প্রতিটি পাকা চুল এবং শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন জনবিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।’

খুশবু আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কোনটা 'সেরা' আর ক্যাটরিনা কখন সেই তালিকা পেরিয়ে গিয়েছে, তা ঠিক করার অধিকার সমাজকে কে দিয়েছে। এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও একজন নারীকে কেন একই রকম দেখতে থাকার প্রত্যাশা করা হয়।

আরও পড়ুন: 'তুমি কেন বাংলায় এসেছ?', বাংলার শিল্পীদের ‘পুকুরের মাছ’ বলায় রাজবীরকে কড়া ধমক সৌরভের

খুশবু বলেন, ‘ক্যাটরিনা কাইফ আগেও সুন্দর ছিলেন, এখনও সুন্দর আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। আমি নিজে মাতৃত্ব এবং শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তাই এই যাত্রাপথটা আমি গভীরভাবে বুঝি। নিজের শরীর নিয়ে সমালোচিত হওয়ার অনুভূতিটা কেমন, তা আমি জানি। যখন আমার ওজন বেশি ছিল, তখন আমাকে নিয়ে উপহাস করা হতো এবং তথাকথিত ‘স্থূল ও কুৎসিত’ নারীদের উদাহরণ হিসেবেও আমাকে ব্যবহার করা হতো। আজ, ওজন কমানোর পর আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বা বলা ভালো, সমাজই নিশ্চিত করেছে যে আমি ইনজেকশন নিচ্ছি। সমাজের কতজন মানুষ আমার এই ইনজেকশনগুলোর খরচ জুগিয়েছে?’

অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ লেখেন, ‘নারীরা সেইসব ‘প্রত্যেকটা পুরুষের’ কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন, যারা মনে করে যে তারা নারীদের সংজ্ঞায়িত করতে পারে। ক্যাটরিনা, তুমি সবসময় নিজের শর্তে, মর্যাদা, লাবণ্য এবং আত্মসম্মান নিয়ে জীবনযাপন করেছ। ঠিক এভাবেই চালিয়ে যাও। তোমার শরীরের জন্য তুমি কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নও। মাতৃত্বের জন্য তুমি কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নও। ওজন বাড়ার জন্য তুমি কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নও। এখন তোমাকে দেখতে কেমন লাগে, তার জন্যও তুমি কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নও। লোকে বলে, ‘সৌন্দর্য দর্শকের চোখে নিহিত’। আর তুমি নিজেকে কতটা সুন্দর হিসেবে দেখতে চাও, তার জন্যও তুমি নিশ্চিতভাবে কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নও। একজন নারীর কোনো ‘শ্রেষ্ঠ সময়’ থাকে না। তার একটি জীবন আছে। আর সেই জীবনের প্রতিটি বয়স তার নিজের। তোমার শক্তি আরও বাড়ুক, নারী’।