তৃণমূল আমলে ব্যান কালচারের কারণে আটকে ছিল শ্যুট, অবশেষে মুক্তির পাচ্ছে ডার্ক কমেডি ‘হ্যারি ওম’

শুটিং চলাকালীন আচমকা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আইনি লড়াই—একাধিক প্রতিকূলতার সাক্ষী কিংশুক দে-র নতুন ছবি হ্যারি ওম। তারক দাস পরিচালিত এই ডার্ক কমেডি-ড্রামায় এক শহুরে যুবকের চোখ দিয়ে উঠে আসবে গ্রামবাংলার জীবন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট, স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের লড়াই। এবার মুক্তির অপেক্ষায় ছবিটি।

Published on: Sep 21, 2026, 19:00:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টলিউডের ফেডারেশন কেন্দ্রিক টানাপোড়েন ও তথাকথিত বর্জন নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পর্দায় আসার জন্য প্রস্তুত ডার্ক কমেডি-ড্রামা ‘হ্যারি ওম’। কিংশুক দে-র মূল ভাবনায়, কিংশুক ও সুরজিত সাহেব মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টিতে ছবিটি পরিচালনা করেছেন তারক দাস। কলকাতা টকিজ, আউরা এন্টারটেইনমেন্ট এবং সিং এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি তৈরির পেছনের সফরটি অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও প্রতিকূলতায় ভরা।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘হ্যারি ওম’ সিনেমা।
মুক্তির অপেক্ষায় ‘হ্যারি ওম’ সিনেমা।

নির্মাতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুটিং চলাকালীন তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতির নির্দেশে আকস্মিকভাবে কাজ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের কায়মি স্বার্থ ও ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলার কারণেই এই বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে টিমের অদম্য মানসিকতার জোর অবশেষে ছবির কাজ সমাপ্ত হয়। এর আগে ২০২৪ সালে কিংশুক দে-র ‘দ্য রেড ফাইলস’ ছবিটিও রূঢ় বাস্তব উপস্থাপনের অভিযোগে প্রেক্ষাগৃহ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখোমুখি হয়েছিল।

এর আগেও কিংশুক দে-র ‘দ্য রেড ফাইলস’ ছবিকে ঘিরে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন নির্মাতারা। তাঁদের বক্তব্য, ছবিতে বাস্তবতার কিছু কঠিন দিক তুলে ধরার কারণেই সেই সিনেমাকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার নতুন ছবি নিয়ে দর্শকের দরজায় পৌঁছতে চাইছেন তাঁরা।

‘হ্যারি ওম’-এর গল্প

‘হ্যারি ওম’-এর মূল চরিত্র হারিসাধন দাস। তবে নিজের পরিচয় দিতে সে ‘হ্যারি’ নামটাই ব্যবহার করে। জীবনে একের পর এক ধাক্কা—চাকরি হারানো, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে তার একটি অদ্ভুত বিশ্বাস তৈরি হয়। প্রায় সব সমস্যার জন্যই সে দায়ী করে ভগবানকে।

এই পরিস্থিতিতেই তার জীবনে প্রবেশ করে এক ‘ভগবানের কাউন্সিলর’। তারপর থেকেই বদলাতে শুরু করে হ্যারির জীবন। কাজের সূত্রে তাকে যেতে হয় নিশ্চিন্তপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। শহরের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে গ্রামে গিয়ে প্রথমে বেশ অস্বস্তিতেই পড়ে সে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গ্রামের মানুষ এবং তাঁদের সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে যায় হ্যারি।

গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমাবদ্ধতা, স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নিত্যদিনের নানা সংকট খুব কাছ থেকে দেখতে শুরু করে সে। নিজের প্রয়োজনের কারণে যে জায়গায় গিয়েছিল, ধীরে ধীরে সেখানকার মানুষের জন্যও ভাবতে শুরু করে হ্যারি। আর সেখান থেকেই ছবির গল্প একটি বড় প্রশ্নের দিকে এগোয়—পরিবর্তনের জন্য কি সবসময় প্রশাসন বা রাজনীতির উপর নির্ভর করতে হবে, নাকি সাধারণ মানুষও নিজের জায়গা থেকে উদ্যোগ নিতে পারেন?

সিনেমার কাস্ট অ্যান্ড ক্রু

‘হ্যারি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌম্য মুখার্জী। তাঁর মতে, চরিত্রটির বহুমুখী মানসিক জটিলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। অন্যদিকে, ‘মধুমিতা’ নামক গ্রামের এক পরিণত ও ধৈর্যশীল তরুণীর চরিত্রে দেখা যাবে মৌমিতা হরিকে। বিশিষ্ট অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু ছবিতে এক বিশেষ ভূমিকায় রয়েছেন, যাঁর সঙ্গে সৌম্যর চরিত্রের রসায়ন গল্পের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অরিজিৎ দত্ত, শান্তনু ঘোষ, কৌশিকী, প্রতীক শর্মা, স্বাতী মুখার্জী প্রমুখ। চিত্রনাট্য ও সংলাপের দায়িত্বে ছিলেন কিংশুক দে এবং ঐশিক।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More