কাদা ছোড়া অতীত! কৌস্তভ বাগচির সাথে গলা মিলিয়ে গান গাইলেন রাজ, প্রশংসা শুভেন্দুর
শুক্রবার রাতে নন্দনে জমায়েত হয়েছিলেন টলিপাড়া ও রাজনীতির তারকারা। তবে এদিনের অনুষ্ঠানের হাইলাইট নিঃসন্দেহে দুই পুরনো শত্রু, যারা এখন বন্ধু, কৌস্তভ বাগচি ও রাজ চক্রবর্তী।
উত্তমকুমারের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে নন্দনে ছিল বিশেষ অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। এছাড়াও টলিপাড়ার বিশিষ্ট মুখেদের এদিন দেখা গেল মঞ্চে। ছিলেন উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যরাও। অভিনেতার জন্য কেক কাটাও হয়। তবে একটি বিশেষ মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে একসঙ্গে গান গাইছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি ও বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী।

‘পৃথিবী বদলে গেছে, যাতে কী নতুন লাগে’ গানটি গাইলেন দুজনে একত্রে। এমনকী, গান গাওয়ার সময় কথা ভুলে গেলে, তা মনে করিয়ে দেন রাজ। আর এই যৌথ পরিবেশনা এতটাই মনে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর যে তিনি উঠে এসে রাজ ও কৌস্তভের বুক চাপড়ে তাঁদের প্রশংসা করেন। আর রাজ-কৌস্তভের ‘ভাইচারা’ দেখে রীতিমতো হতবাক নেটপাড়া। মাসখানেক আগেও একে-অপরকে নিয়ে কতই না নিন্দা-গালমন্দ করেছিলেন ভোট প্রচারে।
একজন কমেন্টে লিখলেন, ‘আম দুধে মিশে যায়, আঁটি গড়াগড়ি খায়’। আরেকজন লেখেন, ‘আহা সোনা গো আমার… শুধু নীচুতলার কর্মীদের এগুলো দেখে শেখা উচিত কিভাবে সেটিং করে খেলতে হয়। আর নয় ডিম ছোড়াছুড়ি এবার শুধু কেক মাখামাখি।’
মঞ্চ থেকে নেমে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৌস্তভ সাফ জানালেন যে, এটা সাংস্কৃতির মঞ্চ। এখানে রাজনীতির ভেদাভেদ ভুলে এক হয়েছিলেন তাঁরা। আর সেটাও রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিরই অনুপ্রেরণায়।
কৌস্তভের কথায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ব্যারাকপুরের কিছু কার্যকর্তা আছেন, তাঁদের ব্যাপারটা খারাপ লাগবে, আমি জানি। আর খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বুঝতে হবে এটা রাজনীতির মঞ্চ নয়, সংস্কৃতির মঞ্চ। এখানে কেন আমরা-ওরা থাকবে। শুধু রাজ নন, আজ এমন অনেকে মঞ্চে ছিল যাঁরা ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থাকতেন।’
‘দেখুন মুখ্যমন্ত্রী যখন সংস্কৃতির জগতের আমরা-ওরা-র বিভাজনটা মুছে দিয়েছে। ওঁর নির্দেশিত পথেই আমরা চলি। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে আমরা ওরা রাখতে চান না সংস্কৃতির মঞ্চে, আমরা কেন রাখতে যাব। আমরা বলেছিলাম পরিবর্তন চাই. যদি পরিবর্তন হওয়ার পরেও আমরা-ওরা থাকত, তাহলে কীসের পরিবর্তন।’, আরও বলেন কৌস্তভ।
বরং কৌস্তভের মুখে শুধুই শুভেন্দুর প্রশংসা। বললেন , ‘প্রত্য়েক বাঙালির মনে উত্তমকুমার। ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে, সেটা সেলিব্রেশন হবে না? জন্মদিনের সেলিব্রেশন হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে টলিউডের শিল্পীদের নিয়ে শুধুই রাজনীতি করেছে। আজকে আমাদের জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি দেখালেন কীভাবে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আমরা ওরা-র ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে হয়। এটাই তো হওয়া উচিত, এটা হওয়াটাই তো কাম্য।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ফলাফলের দিন যখন নিজের হার নিশ্চিত বুঝে গণনা কেন্দ্র ছাড়ছিলেন রাজ, তখনকিছু বিজেপি সমর্থক কাদা ছেটান রাজের দিকে। ওঠে ‘চোর’ চিৎকার। তারপর নিজেকে একপ্রকার রাজনীতি থেকে গুটিয়েই নিয়েছেন শুভশ্রীর স্বামী। সেইসময় কৌস্তভকে যদিও এর বিপক্ষে সেভাবে কথা বলতে দেখা যায়নি। বরং, সেই সময় যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নীচুতলার বিজেপি কর্মীদের মধ্যেকার জনরোষ এটা। শুক্রবারের এই চিত্র থেকে স্পষ্ট, অতীত ভুলেছেন দুজনেই।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


