মিমির শ্যুটের সময় ডিম্বানু সংরক্ষণ করেন কৃতি! জানেন কত খরচ হয় এই প্রক্রিয়ায়?

ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানান, জাতীয় পুরস্কারজয়ী ছবি 'মিমি'-র জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তিনি নিজের ডিম্বাণু (Eggs) হিমায়িত বা সংরক্ষণ করেছিলেন। 

Updated on: Jul 7, 2026, 16:01:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন সম্প্রতি জীবনের এক অত্যন্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আনলেন। জাতীয় পুরস্কারজয়ী ছবি 'মিমি'-র জন্য ওজন বাড়ানোর সময় এবং শুটিংয়ের বিরতিতেই তিনি ডিম্বাণু (Egg) সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর দাবি, ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং আজও সেটিকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। 'হিউম্যানস অফ বোম্বে' পডকাস্টে কৃতি জানান, তিনি আগে কখনও এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। অভিনেত্রীর কথায়, ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তটি তিনি অনেক ভেবেচিন্তেই নিয়েছিলেন।

মিমি-র শ্যুটের সময় ডিম্বানু সংরক্ষণ করিয়েছিলেন কৃতি শ্যানন। (PTI)
মিমি-র শ্যুটের সময় ডিম্বানু সংরক্ষণ করিয়েছিলেন কৃতি শ্যানন। (PTI)

কেন হঠাৎ ডিম্বানু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন কৃতি?

তাঁর কথায়, 'এই বিষয়টি আমি প্রথমবার বলছি। আমি আমার ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলাম। খুব পরিকল্পনা করেই সেটা করেছিলাম, কারণ তখন 'মিমি'র জন্য আমাকে ওজন বাড়াতে হচ্ছিল। এই চিকিৎসার ফলে শরীর কিছুটা ফুলে যায়, আর ছবির জন্য এমনিতেই আমার ওজন বাড়ছিল। তাই মনে হয়েছিল এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।'

অভিনেত্রী আরও জানান যে, 'মিমি'-র শুটিংয়ের মাঝে প্রায় দু'মাসের বিরতি ছিল। সেই সময় তাঁর অন্য কোনও ছবির কাজও ছিল না। তাই অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসার জন্য সেই সময়টাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছিলেন তিনি। সঙ্গে আরও জানান যে, তাঁর পরিচিত একজন তাঁকে ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়ে ভাবতে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই ব্যক্তি তাঁকে বলেছিলেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিজের জন্য একটি বড় উপহার হতে পারে।অভিনেত্রীর কথায়, সেই পরামর্শ দীর্ঘদিন তাঁর মনে ছিল। পরে যখন 'মিমি'-র জন্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই চিকিৎসা সম্পন্ন করবেন।

ডিম্বানু সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তবে খুব একটা সহজ ছিল না ডিম্বানু সংরক্ষণ। কৃতি সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের আগে যে হরমোন ইনজেকশন নিতে হয়, তাতে একসময় মনে হয়েছিল শরীরের হরমোনের ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন গর্ভাবস্থার মতো অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মেজাজের ওঠানামা হচ্ছিল, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আজ আমি খুশি যে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে অন্তত এই বিষয়টি নিয়ে আর আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না।’ কৃতি জানান, ডিম্বাণু সংরক্ষণের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২৯ বছর।

ভারতে ডিম্বানু সংরক্ষণের খরচ কত?

ভারতে সাধারণত দেড় থেকে দু লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে ডিম্বানু সংরক্ষণের প্রাথমিক পর্যায়ে। এরমধ্যে প্রাথমিক পরীক্ষা ও ডাক্তারের পরামর্শ, হরমোনের ইঞ্জেকশন-ওষুধ, ডিম্বাণু সংগ্রহ ধরা থাকে। ডিম্বানু সংরক্ষণের জন্য বছরে ১০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে ফার্টিলিটি সেন্টারের উপর ভিত্তি করে। বর্তমান চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণভাবে ৩০–৩৫ বছরের মধ্যে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। যদিও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা সবচেয়ে প্রয়োজন।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More