Janhvi Kapoor: ‘স্তন-নিতম্বে ফোকাস নয় বলেছিলাম’, পেড্ডিতে শরীর-সর্বস্ব জাহ্নবী! বিতর্কের মাঝে ফাঁস হল নায়িকার চ্যাট
ফাঁস হওয়া চ্যাটে জাহ্নবী কাপুর দাবি করেছেন যে সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কিছু নির্মাতাকে বিশ্বাস করা যায় না, ক্লোজ-আপের নাম করে তারা ক্লিভেজে ক্যামেরা ধরে।
রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘পেড্ডি’ (Peddi) ছবির আপত্তিকর দৃশ্য এবং নারীদের পণ্য হিসেবে দেখানোর বিতর্ক এখন টলিউড ছাড়িয়ে গোটা দেশের বিনোদন মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। এই আবহেই জাহ্নবীর ফ্যান ক্লাবগুলোর হাত ধরে ফাঁস হওয়া চ্যাটের নতুন কিছু অংশ সামনে এসেছে, যা অভিনেত্রীর ভেতরের চরম অসহায়তা, ক্ষোভ এবং মানসিক ক্লান্তিকে ফুটিয়ে তুলেছে। চ্যাট থেকে জানা যাচ্ছে, সাউথ বা দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই ধরণের নোংরা প্রবণতা নিয়ে এতটাই তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, একপর্যায়ে সিনেমা করাই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন শ্রীদেবী-কন্যা!

"ক্যামেরা সোজা ক্লিভেজের ওপর ধরে"— জাহ্নবীর বিস্ফোরক অভিযোগ
ফাঁস হওয়া চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং ভিডিও অনুযায়ী, জাহ্নবী তাঁর ভক্তদের সঙ্গে সিনেমার সেটের ভেতরের আসল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। যখন একজন অনুরাগী তাঁকে পরামর্শ দেন যে বডি ডাবল (Body Double) ব্যবহারের দৃশ্যগুলোতেও যেন তিনি সম্মতি না দেন, কারণ দর্শকেরা পর্দায় ওটা জাহ্নবীকেই ভাববে; তখন ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেত্রী লেখেন:
"হ্যাঁ, আমি ওদের এই কথাটা বলেছি। কিন্তু তোমরা তো জানোই এখানকার (সাউথ ইন্ডাস্ট্রি) পরিস্থিতি কেমন! ওরা বলবে ক্লোজ-আপ শট নেওয়া হচ্ছে, আর ক্যামেরাটা সোজা তোমার ক্লিভেজের (cleavage) ওপর ধরে রাখবে। এখানে কাউকে এক ফোঁটা বিশ্বাস করা যায় না।"
নিজের এই দীর্ঘ লড়াই ও অসহায়তার কথা বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "তোমরা ধারণাও করতে পারবে না আমি প্রতিদিন কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ওদের এই সাধারণ রুচিবোধটুকু বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।" একপর্যায়ে চরম মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে জাহ্নবী লেখেন— "আর কোনো সিনেমা নয়। আমরা এখানেই শেষ করছি।" (No more film. We are done.)
সেটে শ্রীলীলা এবং বনি কাপুরের প্রসঙ্গ
কথোপকথনের মাঝে সেটে অভিনেত্রীদের সুরক্ষার খাতিরে মা-বাবার উপস্থিত থাকার প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। জাহ্নবী উদাহরণ দিয়ে জানান যে, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রী শ্রীলীলা (Sreeleela)-র শুটিং সেটে প্রায়শই তাঁর মা-বাবা উপস্থিত থাকেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহ্নবী বলেন, যদি তাঁর নিজের বাবা অর্থাৎ বিখ্যাত প্রযোজক বনি কাপুর (Boney Kapoor) সেটে আসেন, তবে পরিস্থিতি একদম চরম (extreme) আকার ধারণ করবে। অর্থাৎ, ছবির নির্মাতাদের এই ধরণের আপত্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে তাঁর বাবা সেটে এলে বড় ধরণের ঝামেলা বা চরম পদক্ষেপ তৈরি হতে পারে।
দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকাদের ‘অবজেক্টিফিকেশন’ নিয়ে প্রশ্ন
যখন ভক্তরা প্রশ্ন তোলেন যে কেন একই নায়কের (রাম চরণ) ছবিতে বারবার নায়িকাদের একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে (যেমনটা কিয়ারা আদভানির ক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ ছবিতে হয়েছিল), তখন জাহ্নবী স্পষ্ট জানান যে ‘পেড্ডি’ ছবিতে যা শুট করা হচ্ছিল তা আরও অনেক গুণ খারাপ ছিল। তবে রাম চরণ নিজে এগিয়ে এসে পরিচালক বুচি বাবু সানাকে ধমক দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন। জাহ্নবী আক্ষেপের সুরে বলেন, "দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে এমনটা বারবার ঘটতেই থাকে।"
উল্লেখ্য, এই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরিচালক বুচি বাবু সানা ইতিমধ্যেই জনসাধারণের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সিনেমা থেকে ওই অস্বস্তিকর দৃশ্যগুলো বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন।
বক্স অফিসের বাইরেও একটি বড় কথোপকথন বিতর্ক সত্ত্বেও, পেড্ডি বক্স অফিসে শক্তিশালী পারফরম্যান্স চালিয়ে যাচ্ছেন, মুক্তির দু'দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১৫০ কোটিরও বেশি সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


