Ketan Murder Case: 'লোহাগড় কেল্লা থেকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলুক আমার মেয়েকে…' সিয়ার বাবার কথায় কিসের আফসোস সৌমিতৃষার?
সিয়া ও কেতনের ঘটনা নিয়ে এ বার মুখ খুললেন অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু। বাবা-মা'র সঠিক শিক্ষাও যথেষ্ট নয়, সমাজমাধ্যমে পোস্ট মিঠাইরানির।
মহারাষ্ট্রের পুনের বহুল চর্চিত ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা দেশ। নিছক ট্রেকিং দুর্ঘটনা ভেবে যে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছিল, তা যে আসলে এক ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত খুন— তা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা। নিজের হবু স্বামীকে প্রেমিকের সাথে মিলে লোহাগড় কেল্লা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়েল (Siya Goyal) ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী। এই ঘটনার পর সিয়ার বাবা-মা'র উপরও চড়াও হয় সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশ। জানায়, নিশ্চয় জোর করে ব্য়বসায়ী পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলেন সিয়ার বাবা-মা। বাধ্য হয়ে চরম পদক্ষেপ নেয় মেয়ে। তবে সম্প্রতি সিয়ার বাবা-মা'র যে বক্তব্য সামনে এসেছে যা শুনে তাজ্জব সকলে।

এবার এই নৃশংস ঘটনা এবং সিয়ার বাবার বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু।
‘সন্তানকে সঠিক মূল্যবোধ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন’— সিয়ার বাবার অনুশোচনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের বাবার একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা সিয়ার বাবা অত্যন্ত ভেঙে পড়ে নিজের মেয়ের এই অপরাধের কঠোরতম শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেই অপরাধী হোক, যে যদি আমার মেয়েও হয়, তবে কেতনকে যেভাবে লোহাগড় কেল্লা থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে মেরে ফেলা হয়েছিল, ওকেও ঠিক একই শাস্তি দেওয়া হোক... ওখান থেকেই ফেলে মেরে ফেলা হোক।’ সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন করেন, ’আপনি বলছেন, আপনার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলা হোক'। জবাবে সিয়ার বাবা বলেন, ‘হ্যাঁ, কারণ যে মারা গিয়েছে সেও কারুর ছেলে, আমাদের সবার খুব আদরের’।
মেয়ের জন্য খোদ বাবার মুখে ‘মৃত্যুদণ্ড’ (Death Penalty)-এর এই দাবি এবং তীব্র অনুশোচনা নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব সৌমিতৃষা
‘মিঠাই’ খ্যাত অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু নিজের ফেসবুক স্টোরিতে এই সংবাদের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। যেখানে কেতন ও সিয়ার ছবির পাশে সিয়ার বাবার এই কাতর আর্জি ফুটে উঠেছে। ছবির ওপর একটি ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে ক্যাপশনে লেখা— 'মাঝে মাঝে ভালো অভিভাবকত্ব সত্ত্বেও সন্তান সঠিক মূল্যবোধ শিখতে পারে না'।
সমাজের এই নৈতিক অবক্ষয় এবং সম্পর্কের অন্দরে লুকিয়ে থাকা এমন মারাত্মক অপরাধপ্রবণতা দেখে টলিউড অভিনেত্রী যে কতটা মর্মাহত ও স্তব্ধ, তাঁর এই পোস্টেই তা স্পষ্ট।
কী এই ‘কেতন আগরওয়াল’ হত্যাকাণ্ড?
গত ১৮ই জুন পুনের লোহাগড় কেল্লায় হবু স্ত্রীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ২৬ বছর বয়সী তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের। সিয়া গোয়েল প্রথমে এটিকে স্রেফ একটি ছবি তুলতে গিয়ে ‘পা পিছলে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি ঘটনার পর ফেসবুকে ও ইনস্টাগ্রামে ‘তুমি আমাকে জন্মদিনে একা ফেলে চলে গেলে’ লিখে আবেগঘন পোস্টও দেন সিয়া।
তবে পুলিশের গভীর তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে কেতনের পরিবারের সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়। জানা যায়, সিয়া তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সাথে মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার এই ছক কষেছিলেন। এর আগেও গত ১৪ই জুন কেল্লা থেকে কেতনকে সিয়া ধাক্কা মারলে তিনি ঝোপঝাড় ধরে বেঁচে যান; তখন সিয়া ‘সাপ দেখেছি’ বলে অজুহাত দিয়েছিলেন। অবশেষে ১৮ই জুন প্রেমিকের সাহায্যে কেতনের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খাদে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে কেতন মাথায় পরচুলা পরতেন, সেটি নিয়েই হীনমন্যতায় ভুগছিলেন সিয়া। তবে শুধু এটিই কেতনকে হত্যা করার কারণ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


