যে-ধর্ম বলে চুমু নিষিদ্ধ, হত্যা ঠিক—সৌদিতে বাংলাদেশি দম্পতির শিরশ্ছেদ, প্রতিবাদে গর্জে ওঠলেন শ্রীজাত
‘যে-ধর্ম বলে চুমু নিষিদ্ধ, হত্যা ঠিক — তার বিরুদ্ধে প্রতি মুহূর্তে আজ থেকে লক্ষ লক্ষ ভালবাসাবাসি জন্ম নিক’, সৌদি আরবে বাংলাদেশি দম্পতির শিরচ্ছেদ, প্রতিবাদ শ্রীজাতর।
সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি দম্পতিকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) করার বর্বর ও নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের চরমপন্থী ধর্মান্ধতা এবং প্রেমের মতো মানবীয় অনুভূতির ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আঘাতের বিরুদ্ধে এবার নিজের কবিতার শাণিত বাক্যে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বাঙালি কবি শ্রীজাত।

ঘটনাটি কী ঘটেছে?
সৌদি আরবে ভালোবাসার অপরাধে চরম নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে এক বাংলাদেশি দম্পতিকে। ধর্মীয় কঠোর আইন ও গোঁড়ামির দোহাই দিয়ে তাঁদের ধরে এনে প্রকাশ্যে গলা কেটে (শিরশ্ছেদ) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে ভালোবাসার অধিকারকে এভাবে ধূলিসাৎ করে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করার এই খবর প্রকাশ পেতেই চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। নিহতের নাম নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির এবং সুইটি আক্তার। জানা যাচ্ছে, বিয়ের পর হানিমুনে না গিয়ে এই নববিবাহিত জুটি ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই তাঁদের কাল হল।
প্রতিবাদে কবি শ্রীজাতর কলম: ‘ভালোবাসা নিজে সাক্ষ্য দিক’
ঘটনাটির ভয়াবহতা ও ধর্মের নামে নৃশংসতার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জোরালো কবিতার মাধ্যমে গর্জে উঠেছেন কবি শ্রীজাত। কবিতাটিতে তিনি সরাসরি আঘাত করেছেন সেই অন্ধ ধর্মান্ধতার ওপর, যা স্পর্শ ও প্রেমকে অপরাধ (কাফের) মনে করে অথচ মানবহত্যার মতো বর্বরতাকে অনায়াসে ‘জায়েজ’ বা বৈধতা দেয়।
শ্রীজাতর সেই আলোচিত কবিতাটি নিচে দেওয়া হলো:
যে-ধর্ম বলে চুমু নিষিদ্ধ, হত্যা ঠিক —
তার বিরুদ্ধে ভালবাসা নিজে সাক্ষ্য দিক!
যে-ধর্ম বলে কোতল জায়েজ, প্রেম কাফের —
তার বিপক্ষে উড়ুক নিশান, চুম্বনের।
যে-ধর্ম চায় স্পর্শাধিকার লুপ্ত হোক —
তার বিকল্পে সময় শানাক বিদ্রোহ।
যে-ধর্ম পারে খুন করে দিতে, অক্লেশে
তার বিপরীতে বাতাস ছুটুক সব দেশে।
বাতাস বলুক, যতদূর যাবে অন্ধকার —
তারও চেয়ে বেশি দীর্ঘ রাজ্য, রূপকথার।
রাজপুত্র ও রাজকন্যার চার মুঠোয়
এখনও বন্দি সারা পৃথিবীর খড়কুটো...
যে-ধর্ম বলে চুমু নিষিদ্ধ, হত্যা ঠিক —
তার বিরুদ্ধে প্রতি মুহূর্তে আজ থেকে
লক্ষ লক্ষ ভালবাসাবাসি জন্ম নিক।
কবিতার বার্তা ও সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া:
শ্রীজাত তাঁর এই লেখায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অন্ধকারের সীমানা যতই বিস্তৃত হোক, রূপকথার ভালোবাসার শক্তি তার চেয়েও দীর্ঘ। ধর্মান্ধরা যতবার ভালোবাসার স্পর্শ ও চুম্বনকে নিষিদ্ধ করে রক্তের হোলি খেলবে, ততবার তার বিরুদ্ধে একমাত্র যোগ্য জবাব হতে পারে আরও বেশি করে ভালোবাসার জন্ম দেওয়া।
সৌদি আরবের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শ্রীজাতর এই কবিতাটি নেটপাড়ায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও মুক্তচিন্তার সমর্থকরা এই লেখার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


