‘বিজেপি যে নিয়মগুলো আনছে তা আমাদের জন্য ভালো…’! লিভ ইনের বিরোধিতা মমতা শঙ্করের

বর্তমানে একটি সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর প্রশ্ন তুললেন, দুটি মানুষ লিভ ইন করলে, আর তাঁদের সন্তান হলে, সেই সন্তান কি আদৌ ভালো থাকবে? সমাজে সেই সন্তানকে কোনো অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না তো? সঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর গলায়। 

Published on: Jul 5, 2026, 13:40:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এর আগে মেয়েদের শাড়ির আঁচল নামিয়ে পরা এবং খোলামেলা আধুনিক পোশাক পরা নিয়ে তিনি কড়া মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন মমতা শঙ্কর। এখানেই শেষ নয়, নারী স্বাধীনতা ও আধুনিকতার নামে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপনের ধরন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। বর্তমানে একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রশ্ন, দুটি মানুষ লিভ ইন করলে, আর তাঁদের সন্তান হলে, সেই সন্তান কি আদৌ ভালো থাকবে? সমাজে সেই সন্তানকে কোনো অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না তো?

লিভ ইনের বিরোধিতা মমতা শঙ্করের।
লিভ ইনের বিরোধিতা মমতা শঙ্করের।

ফিল্মিসফরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর বলেন, ‘যদি দু'জন মানুষের মধ্যে সত্যিকারের বিশ্বাস, ভালোবাসা থাকে, একে অপরের প্রতি অটুট কমিটমেন্ট থাকে, তারা যদি সারাজীবন সেই ব্যাপারটাই রাখে যে, হ্যাঁ আমরা একসঙ্গে থাকব। বিয়ে হয়নি, কিছু হয়নি, কিন্তু তাও আমরা একসঙ্গে থাকব, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তাদের যখন সন্তান হবে, সেই সন্তানের উপর তো একটা দায়িত্ব থাকে। আমি লিভ ইন করি, আমি খুব ভালো আছি, কিন্তু আমার সন্তানের কথাও তো ভাবতে হবে আমাকে। সেখানে কোথাও একটা দায়বদ্ধতা তো থেকেই যায় সমাজের প্রতি।

‘আমি কিন্তু আচার-আচরণ-নিয়ম একেবারেই মানি না। কিন্তু একটা জিনিসকে ঠিক রাখতে গেলে কিছু তো দরকার। নাহলে এটার ভুল ব্যাখ্যা করবে সবাই। ছাড়খার হয়ে যাবে। বাচ্চাগুলোর কথা তো ভাবতে হবে। আমার যদি সেই বিশ্বাস থাকে, ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিয়ে করতে বাধা কোথায়। কীসের অসুবিধে। বিয়ে করেও তো কদিন পরে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয় বিয়ে নামক ইনস্টিটিউশনকে মানা উচিত। এই যে বিজেপির কিছু কিছু নিয়ম যেগুলো আছে, এইগুলোকে ওঁরা ফিরিয়ে আনছেন, এগুলো আমাদের জন্য ভালো। নাহলে আমরা লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছিলাম। আমরা ভুল পথে চালিত হচ্ছিলাম।’, আরও বললেন মমতা শঙ্কর।

যদিও বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর এই মন্তব্য নিয়েও নেটপাড়া বেশ অসন্তুষ্ট। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, লিভ ইন করা দম্পতি যদি সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সমস্যা কোথায়? অথবা, সন্তানের বাবা-মা পরিচয়ে থাকা মানুষ দুটি যদি বিবাহিত না হল, তাহলেই বা কীভাবে সেটি সমাজে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে!

একটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘সন্তান নিতেই হবে কেন? অনেক বিয়েই তো শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। তখন সেই সন্তানের অবস্থান তথাকথিত সমাজে কী হয়, সেটা কি ব্যাখ্যা করতে পারবেন? অনুগ্রহ করে এ বিষয়ে প্রচলিত আইন ও আইনি বিধানগুলোও একবার দেখে তারপর মন্তব্য করুন।’

আরেকজন লেখেন, ‘অন্যের জীবনধারা কেমন হবে, সেটা তাঁদের ওপরই ছেড়ে দিন। তাতে আপনার অসুবিধাটা কোথায়? লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা ৯৯ শতাংশ দম্পতিই সন্তান নেন না। কিছু না জেনেই এ ধরনের মন্তব্য করছেন কেন? অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার প্রয়োজন কী? সমাজের দায়িত্ব নেওয়ার ভার তো নতুন প্রজন্ম আপনাকে দেয়নি। বরং পুরোনো প্রজন্মের উচিত নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা ও জীবনযাপনকে সম্মান করা এবং তাদের জন্য জায়গা করে দেওয়া। তাহলেই নতুন প্রজন্মও আপনাকে সম্মান করবে। তা না হলে, তারা আপনাকে কী দৃষ্টিতে দেখে, সেটাও ভেবে দেখা উচিত।’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More