‘আমাদের যদি ওই আসনে বসানো হত, তাহলে বুঝতে পারতাম…’! মোদী বিতর্কে শ্রীলেখার নিন্দে মমতা শংকরের
নরেন্দ্র মোদীর একটি কার্টুন দিয়ে তৈরি করা পোস্টার হাতে কলকাতায় ককরোচ ও বামেদের বিক্ষোভে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে। তারপর থেকেই তাঁকে ঘিরে নিন্দার ঝড়। আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয়েছে। কী বললেন মমতা শঙ্কর?
আপাতত সমালোচনার মুখে শ্রীলেখা মিত্র। দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর লাঠি চালানোর ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হওয়ার সময়, অভিনেত্রীর হাতে থাকা একটি পোস্টার রয়েছে এই কারণে। যেখানে প্রথানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ‘বিকৃত’ কার্টুন দিয়ে তৈরি পোস্টার হাতে ধরতে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। আর ব্যাপারটা হালকাভাবে নিতে মোটেও রাজি নয় বিজেপি। রাজ্যের ৬০টিরও বেশি থানায় তাঁর নামে এফআইআর হয়েছে বলে খবর। শ্রীলেখাকে গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার পদ্মশিবির। এরই মাঝে শ্রীলেখা মিত্রকে নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র মমতা শংকর।

কী বললেন মমতা শংকর?
এক অনুষ্ঠানে মমতা শঙ্করকে শ্রীলেখার এই বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে মতামত চাইলে, বর্ষীয়ান নৃত্যশিল্পী জানান, ‘আমার যেটা মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি একটা শ্রদ্ধা রাখা উচিত। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রী, সে তো হাজার হলেও একটা পদে আছে। তাঁকে ছোট করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আসলে সুযোগ এলেই, আমাদের সবার অনেক বক্তব্য থাকে। কিন্তু আমাদের যদি ওই আসনে বসানো হত, তাহলে বুঝতে পারতাম কতটা কঠিন!’
‘একটা বাড়ি সামলাতেই আমাদের কত সমস্যা হয়, এই কটা মানুষকে নিয়ে থাকি, নানা জনের নানা মত। সেখানে একটা দেশ চালানো। বিদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। আমরা কোনো কিছুকেই আসলে খুব সহজ করে নেই। প্রশ্ন করতে থাকি, এটা হচ্ছে না কেন? ওটা হচ্ছে না কেন? একদিকে যুদ্ধ হচ্ছে, একদিকে বন্যা হচ্ছে, একদিকে পড়ুয়ারা জেগে উঠেছে হঠাৎ। একটু তো ধৈর্য তো ধরতেই হবে। সেখানে আমার কথা হচ্ছে শ্রদ্ধাটা রাখি। মানুষ যেন মানুষের উপর অহিংস থাকে, সহিষ্ণু হয়, শ্রদ্ধাটা না হারায়।’
বিতর্কে শ্রীলেখার প্রতিক্রিয়া
এদিকে হাতে ওই পোস্টার ধরে ছবি সামনে আসতেই শ্রীলেখার দাবি, ব্যাপারটা নিছকই ভুল বোঝাবুঝি। এমনকী, তার হাতে এমন ছবি ধরিয়ে দেওয়ার পিছনে ষড়যন্ত্রের আভাসও পাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, মিছিলে কিছু তরুণ এসে তাঁর সঙ্গে ফোটো তুলতে চায়। তাঁদের হাতে থাকা একটি পোস্টার তিনিও ধরে ফোটোর জন্য পোজ দেন। যেহেতু চোখে চশমা ছিল না, তাই ছবিটা ভালো করে দেখতে পারেননি। এমনকী, সেই সময় লাঠিচার্জ হচ্ছিল বলেও শ্রীলেখার দাবি। তাই বিষয়টা ভালো করে দেখারও সময় ছিল না! তবে অভিনেত্রীর এই যুক্তি মানতে নারাজ সমাজের বড় একটা অংশ।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


