‘রাজকীয় বীর এতগুলো তুলতুলে পুরুষের মধ্যে পড়ে যেন রসমালাই না হয়ে যায়’, হোমো-ফোবিয়া নিয়ে বিস্ফোরক মানবী
‘তাকে অনুপ্রবেশ করানোর সময় এটাই মাথায় ছিল বিগবসের একজন ম্যাচো পুরুষ দরকার যে নিখাদ পুরুষ যার প্রেমে পড়বে বিগবস হাউসের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব্বাই', বিগ বসের ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি রাজবীরকে নিয়ে কলম ধরলেন প্রাক্তন প্রতিযোগী মানবী বন্দ্য়োপাধ্যায়।
টিভি পর্দার ড্রামা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’ (Bigg Boss) নিয়ে বিতর্ক নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার এই জল আরও দূর গড়িয়েছে। ‘বিগ বস বাংলা’-র প্রতিযোগী তথা ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে আসা রাজবীরকে নিয়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক, শ্লেষাত্মক ও বিতর্কিত এক দীর্ঘ পোস্ট লিখলেন ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী কলেজ অধ্যাপিকা তথা লেখিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় (Manabi Bandyopadhyay)। তিনি আবার বিগ বস বাংলার প্রথম সিজনের প্রতিযোগিও বটে।

‘রাজকীয় বীর’-এর পুরুষত্ব ও বিতর্কিত মন্তব্য
পোস্টে মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় রাজের উপস্থিতিকে কটাক্ষ করে তাঁকে কৃষ্ণরূপী ‘পুরুষোত্তম’ ও বাকি সদস্যদের ‘পাতি হাঁস’ বলে ব্যঙ্গ করেন। রাজের আগমনকে বর্ণনা করে তিনি লেখেন, ‘শ্রীকৃষ্ণ একাই পুরুষ আমরা সকল ভক্ত জীবাত্মাই নারী... রাজ হাঁসের কাছে সকলেই পাতি হাঁস। বিগবসের নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধানের মধ্যে হঠাৎই পেয়ে যাওয়া অ্যালেকজাণ্ড্রার সঙ্গে তিনি প্রেম করবেন স্বাভাবিক।’
খালি গায়ে মুগুর ভাঁজা এই রাজকীয় বীরকে নিয়ে তাঁর খাস মন্তব্য— ‘বীররাজকে কেমন ভাইপো ভাইপো লাগছে না?’
তিনি লেখেন, ‘তাকে অনুপ্রবেশ করানোর সময় এটাই মাথায় ছিল বিগবসের একজন ম্যাচো পুরুষ দরকার যে নিখাদ পুরুষ যার প্রেমে পড়বে বিগবস হাউসের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব্বাই ! সেজন্য এই রাজকীয় বীর বাঙালী পুরুষ হয়েও বাংলার নন, তিনি মুম্বই জয় করে ফেরা প্রবাসী গন্ধ মাখা বাঙালী যার কাছে খাঁটি বাঙালী পুরুষ লালিমা পাল ( পুং )। এই বাঙালী পুরুষ খালি গায়ে মুগুর ভাঁজেন লেংটি পরেন না’। তাঁর ভয়, ‘রাজকীয় বীর এতগুলো তুলতুলে পুরুষের মধ্যে পড়ে যেন রসমালাই না হয়ে যায়’।
‘আমি কি সায়কের যন্ত্রণা বুঝব না?’
বিগ বস হাউসের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও জল্পনা নিয়ে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন মানবী। তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে রাজের আচরণে অন্য প্রতিযোগী সায়কের বিছানা বেহাত হয় আর অনামী (পড়ুন মানামী) নিজের বিছানা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। নিজের অতীত জীবনের স্মৃতি উসকে দিয়ে মানবী লেখেন, ‘সায়কের বিছানা থেকে উঠে উনি অনামীর বিছানায় শুয়ে পড়লে সায়ক নাকি জ্বলে পুড়ে মরে... আমি কি সায়কের যন্ত্রণা বুঝব না? এতটাই নেমোখারাম আমি? আমিও কি একদিন সায়ক ছিলাম না? সায়ক ছিলাম, কলির কেষ্ট নায়ক ছিলাম, দাড়ি রেখে দাঁড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতাম…’।
হোমোফোবিয়া নিয়ে বিস্ফোরক
মানবী বন্দ্যোপাধ্য়ায় লেখেন, ‘ইন্টারনেটে কেবল ঘুরে বেড়াচ্ছে এইসব কথা ঐ মেয়েটা (ঝিলাম) সারাক্ষণ শার্ট প্যান্ট পরে থাকে স্নো পাউডার মাখে না লিপস্টিক তো দূর অস্ত , ও কি লেসবিয়ান ? নিরঞ্জন সায়ক কে নিয়ে প্রশ্নই নেই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তাইকি দুর্নিবারকে বলতে শোনা যায় তার বাড়িতে সন্তান আছে ? সন্তান আছে মানেই পুরুষের পরীক্ষায় সে পাস!’
সমকামিতা ও সমাজকে কড়া চাবুক
নিজের পোস্টে মানবীর কলমে উঠে এসেছে এলজিবিটি (LGBTQ+) সমাজ, সমকামিতা ও সমাজের দ্বিচারিতার প্রসঙ্গ। প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, 'বাবা বামদেব সমকামিতা সারিয়ে দিচ্ছেন শুনে ঋতুপর্ণ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন— ‘বাবা বামদেব তার সঙ্গে একসপ্তাহ ঘনিষ্ঠ বাস করলে বাবা বামদেব নিজেই সমকামী হয়ে যাবেন!’
একই সঙ্গে প্লেটো, অ্যারিস্টটল, আলেকজান্ডার থেকে অস্কার ওয়াইল্ড কিংবা ঋতুপর্ণের শৈল্পিক দক্ষতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সমাজের ‘ইনক্লুশন’ এর ন্যাকামোকে তুলোধোনা করেছেন। এই ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিকে 'ব্যায়ামবীর' বলে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এক ব্যায়ামবীর এমন ‘নরম’ বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন যে সদস্যরা তাঁকে তোষকসহ চ্যাংদোলা করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়!
মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনবদ্য রসবোধ ও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর থেকেই টলিপাড়া ও সোশাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


