'মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে…', হঠাৎ কেন এমন বললেন মনোজ?

মনোজ বাজপেয়ী একটি পডকাস্টে জানিয়েছেন যে, মাঝে মাঝে তাঁর অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে। মনোজ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যে, ধন-সম্পদ ও খ্যাতির পিছনে ছোটার কারণে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন যে, সত্যিটা হল প্রত্যেকেই নিজের মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।

Published on: Jun 3, 2026, 15:04:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মনোজ বাজপেয়ী একটি পডকাস্টে জানিয়েছেন যে, মাঝে মাঝে তাঁর অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে। মনোজ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যে, ধন-সম্পদ ও খ্যাতির পিছনে ছোটার কারণে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন যে, সত্যিটা হল প্রত্যেকেই নিজের মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।

'মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে…', হঠাৎ কেন এমন বললেন মনোজ?
'মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে…', হঠাৎ কেন এমন বললেন মনোজ?

মনোজ বাজপেয়ী রণবীর এলাহাবাদিয়ার শো-তে এসেছিলেন। তিনি তাঁর অভিনয় জীবন নিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, প্রায় ১০ বছর ধরে মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করেছে। কিন্তু তারপর একটা নতুন চরিত্র আসে, আর আমি চলে যাই। তাই, আমি বাধ্য হয়ে অভিনয় করি না যে, আমাকে ঘরে খাবার আনতে হবে বা অন্য কোনও প্রয়োজন মেটাতে হবে। আমি সে জন্য অভিনয় করতে চাই না। আমি অভিনয় করতে চাই কারণ আমি একটি চরিত্রকে উপভোগ করব, আমি এই কথাটা আপনার শো-তে প্রথমবার বলছি। আজকাল, আমি সত্যিই একটা বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য আকুল হয়ে আছি। আমি জানি না কেন, যদিও আমি অনেকদিন দূরে ছিলাম। ফালতু কমেডি, গানের সঙ্গে কিছু নাচ। আপনাকে প্রস্তুত হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না, আপনি শুধু বিদায় জানিয়ে চলে যান। আপনি কী করছেন তা না ভেবেই।’

মনোজ জানান যে, এখন সবাই মৌলিকতার দিকে ফিরছেন। মনোজ আরও বলেন যে, সাফল্যের জন্য তাঁকে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেননি।

তাঁর কথায়, ‘পিছনে ফিরে তাকালে দেখি, আমি অনেক কিছু হারিয়েছি। আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারিনি। তাঁরা যখন মারা গেলেন, আমরা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আমি কখনও তাঁদের সঙ্গে থাকিনি। আমরা এতটাই দূরে চলে গিয়েছিলাম যে আর বুঝতেই পারতাম না। প্রথমে আমি একটি বোর্ডিং হাউসে থাকতাম। আমরা গ্রামের মানুষ ছিলাম, তাই আমাদের বোর্ডিং হাউসে রাখা হত। এরপর অভিনেতা হওয়ার জন্য আমি দিল্লিতে আসি। দিল্লিতে অনেক কিছু শিখেছি। ইংরেজি শিখেছি শহরের পরিবেশটা চিনেছি। আমাকে প্রতিদিন খাবারেরও ব্যবস্থা করতে হত।’

মনোজ জানান যে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে একভাবে বড় করে তুলেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর বাবা-মায়ের থেকে দূরে সরে যান। তিনি চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে কেবল মাঝে মাঝে কথা বলতে পারতেন।

মনোজ বলেন, ‘আমি পার্থিব জিনিসের সন্ধানে অনেক কিছু ত্যাগ করেছি। যখন সবকিছু অর্জন হয়ে যায়, তখন ভাবি, এসব কী আদৌ সার্থক ছিল। মাঝে মাঝে ভাবি, যদি বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারতাম। মায়ের সঙ্গে আমার অনেক সমস্যা ছিল, হয়তো আমি সেগুলো সমাধান করতে পারতাম।’

মনোজ বাজপেয়ী বলেছেন যে, বাবা-মা মারা গেলে পৈতৃক বাড়ির প্রতিটি দেয়াল আর তাতে ঝোলানো প্রতিটি ছবির কথা মনে পড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এখন আমি সেখানে গেলে বেশিক্ষণ থাকি না। কারণ এতে কোনও লাভ নেই। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে আপনি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনি আপনার অন্তিম যাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।’