‘আমাদের পরিবার হয়তো নিখুঁত নয়…’! ২য় সন্তান হওয়ার পরই ডিভোর্স, ছেলে-মেয়েদর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ছবি দিয়ে কী লিখলেন মানসী
দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর, জীবনে কম ওঠাপড়ার মুখোমুখি হননি মানসী সেনগুপ্ত। তবে সেসবের মাঝেও অভিনেত্রীর জীবনকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রেখেছে তাঁর ছেলেমেয়েরা। দুজনকে নিয়ে পুজোয় ভ্যাকেশনে। কী লিখলেন মানসী সোশ্যালে?
দুই সন্তানকে নিয়ে পুজোর ছুটিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত। আর সেই ছবিই ভাগ করে নিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর, জীবনে কম ওঠাপড়ার মুখোমুখি হননি। এমনকী, স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সও হয় ছেলের বয়স ১ পেরনোর আগে। তবে এই কঠিন সময়েও মানসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে তাঁর পরিবার এবং দুই সন্তান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে যাওয়ার ছবির সঙ্গে, উজার করলেন মনের কথা। ‘হয়তো কোনো একদিন, তোমদের এই ভ্রমণের কথা আর মনে রাখবে না। হয়তো কোনো একদিন, তোমরা বন্ধুদের সঙ্গে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে, নতুন নতুন জায়গার প্রেমে পড়বে, নিজেদের ছোট ছোট পৃথিবী গড়ে তুলবে এবং অজস্র সুন্দর স্মৃতি তৈরি করবে। হয়তো এই ভ্রমণ তোমাদের জীবনের একটি ছোট্ট অধ্যায় হয়ে থাকবে, অথবা হয়তো তোমরা এর কথা একেবারেই ভুলে যাবে। কিন্তু আমি প্রতিটি ছোট ছোট বিষয় মনে রাখব। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্ত—যখন তোমরা আমাকে আমার সব দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে দিয়েছিলে এবং মনে করিয়ে দিয়েছিলে যে, আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। তোমরা দুজনে এই ভ্রমণকে এত ভালোবাসা, আনন্দ আর উষ্ণতায় ভরিয়ে দিয়েছ যে, আমার হৃদয় চিরকাল এই স্মৃতিগুলো আগলে রাখবে।’
তোমাদের মা হওয়াটা সবসময় সহজ নয়, কিন্তু তোমাদের মা হতে পারাটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা। হয়তো আমাদের পরিবারটি বাইরের পৃথিবীর কল্পনার মতো ‘নিখুঁত’ নয়, কিন্তু আমাদের কাছে এমন কিছু আছে যা আমার কাছে সবকিছুর চেয়েও বেশি মূল্যবান—আর তা হল, আমরা একে অপরের পাশে আছি। ধন্যবাদ, আমার সোনামণিরা, এই ভ্রমণকে এত বিশেষ করে তোলার জন্য, আমার দিনগুলোকে হাসিখুশিতে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং আমার পৃথিবীকে এমনভাবে পূর্ণ করে তোলার জন্য— যা হয়তো তোমরা কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। আর যদি কখনো জীবন তোমাদের আমার থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়, যদি তোমরা বড় হয়ে নিজেদের সুন্দর জীবন গড়তে গিয়ে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ো, তবে শুধু একটি কথা মনে রেখো: 'তোমরা যতই বড় হও, যতই দূরে ভ্রমণ করো, বা তোমাদের পৃথিবী যতই বিশাল হয়ে উঠুক না কেন—তোমাদের মা সবসময় তোমাদের পাশেই থাকবে। প্রতিটি প্রার্থনায়, প্রতিটি হৃদস্পন্দনে, আর তোমাদের পৃথিবীর প্রতিটি কোণে—যেখানে তোমাদের একটি ‘ঘর’ বা আশ্রয় প্রয়োজন হবে, সেখানেই আমাকে পাবে'।’, লেখেন মানসী।
একটি ছবিতে আবার মানসী ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমি কি আমার ছেলেকে নিয়ে অবসেসড? হ্যাঁ তা হতেই পারে।’ আর এই ক্যাপশনে দেওয়া ফোটোগুলিতে অভিনেত্রীকে তাঁর ছেলে-মেয়ের সঙ্গে দেখা যায় সমুদ্রের পাশে। তবে তাঁর দেওয়া ক্যাপশন মনে ধরেনি এক মহিলার। তিনি মানসীর উদ্দেশে লেখেন, ‘পাশে কি তোমার মেয়ে বসে? তাহলে বলব দুজনকে সমান ভালোবাসা দাও। নয়তো দুজনের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি হবে, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক হবে।’ আর এই কমেন্টের জবাব দিয়ে মানসী লিখলেন, ‘হ্যালো আন্টি, আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই, আমার মেয়েও কিন্তু ওর ছোট ভাইকে নিয়ে ভীষণ অবসেসড।’

মানসীর স্বামীর নাম অভিজিৎ ঘোষ। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ, তাঁর ছোট ছেলে অধ্যায়ের প্রথম জন্মদিনে মানসী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানান। ছেলে হওয়ার আগেও একবার, তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও বনিবনা না হওয়ার কারণে তারা আলাদা থাকার এবং আইনিভাবে বিচ্ছেদ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন মানসী। তবে সেই সময় মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব মিটমাট করে নেন। এরপর কোলে আসে ছেলে। কিন্তু তারপর ছেলের জন্মের পরে ফের ধরে ফাটল। এবং দুজনের সম্মতিতেই আইনি বিচ্ছেদ। মানসী স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিজেকে 'সিঙ্গল মাদার' বলতে চান না। কারণ বড় মেয়ের পড়াশোনা থেকে শুরু করে দুই সন্তানের যাবতীয় দায়িত্বে বাবা হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন অভিজিৎ।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


