Manosi Sinha: ‘সিপিএম সরকার গড়তে তো পারবে না, তবে…’, লাল জিতবে বলে জিভ কাটলেন মানসী!
লাল ঝাণ্ডা হাতে ভোটপ্রচারে সামিল হয়েছেন। লাল ফেরাতে মরিয়া মানসী। তবে বাস্তব থেকে অধরা নন। জানালেন, সিপিএম কোনওভাবেই সরকার গড়তে পারবে না।
অভিনয়ের আঙিনায় তিনি পরিচিত মুখ। তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ কারুর অজানা নয়। বামপন্থী হিসেবে তাঁর পরিচয় কোনো লুকোছাপা নয়। বারবার রাজ্যের শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় সরব হয়েছেন তিনি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের হয়ে কোমর বেঁধে প্রচারও করেছেন অভিনেত্রী-পরিচালক মানসী সিনহা। ভোটের ফল ঘোষণা হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। ঠিক তার আগেই ফের একবার খবরের শিরোনামে চলে এলেন তিনি। উত্তেজনার বশে ‘লাল জিতবে’ বলে ফেলার পর মুহূর্তেই নিজেকে সংশোধন করে নিলেন পরিচালক-অভিনেত্রী।

রাজ্যের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের রেজাল্টের আগে প্রত্যাবর্তন ছবির প্রিমিয়ারে হাজির হয়েছিলেন মানসী। সেখানেই সাংবাদিকের প্রশ্ন ধেয়ে আসে সবুজ আর গেরুয়ার মধ্যে জোর টক্কর নিয়ে। মানসী অকপটে বলেন, 'লাল জিতবে।' এই কথাটি বলার পরেই অভিনেত্রীর সংবিৎ ফেরে। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে জিভ কেটে মুহূর্তেই নিজের বক্তব্য শুধরে নেন তিনি। হেসে ফেলে বলেন, 'দেখো, আমায় যদি ব্যক্তিগতভাবে জিগ্গেস করো, তবে সিপিএম এবার সরকার গড়তে পারবে না। কিন্তু নিঃসন্দেহে বেশ কয়েকটি সিট তারা পাবে। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।'
কী বলছেন মানসী সিনহা?
মানসীর মতে, এ রাজ্যের বিধানসভায় বামেদের প্রত্যাবর্তন এবার অনিবার্য। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল ‘শূন্য’ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর এবারের নির্বাচনে বামপন্থীদের জন্য আশার আলো দেখছেন তিনি। মানসী স্বীকার করে নিয়েছেন যে মূল লড়াইটা ঘাসফুল আর পদ্ম শিবিরের মধ্যেই। সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার না পেলেও, বামেদের আসন সংখ্যা এবার বাড়বে বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। অর্থাৎ শূন্য অভিশাপ ঘোচাবেন দীপ্সিতা-কলতানরা।
কেন এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?
ভোটের ফল প্রকাশের দু-দিন আগে মানসীর এই ‘স্লিপ অফ টাং’ এবং তৎক্ষণাৎ তার সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একদল মনে করছেন, এটি বাম সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদল বলছে, অতি উৎসাহে বাস্তবের মাটি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন শিল্পী।
টলিউড থেকে রেড ভলান্টিয়ার্স—সব মহলেই এখন একটাই প্রশ্ন, ৪ঠা মে-র ফলাফলে কি সত্যিই বামেরা তাদের হারিয়ে যাওয়া জমি ফিরে পাবে? মানসীর ভবিষ্যৎবাণী কতটা সফল হয়, তার উত্তর দেবে স্রেফ সময়। তবে এই মন্তব্যে যে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


