Asha: লতার সেক্রেটারির সঙ্গে বিয়েতে নির্যাতনের শিকার, বয়সে ছোট আরডি বর্মনকে ২ বিয়ে! আশার ব্যক্তিজীবন ছিল কাঠিন্যে ভরা
বলিউডের প্রবীণ গায়িকা তাঁর কেরিয়ারে পর্দে মে রহেনে দো, চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো, উড়ে জব জব জুলফে তেরি-র মতো অনেক আইকনিক গান উপহার দিয়েছেন। ৯২ বছর বয়সে, রবিবার এই বিশ্বকে বিদায় জানিয়েছেন।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও খবরের শিরোনামে ছিলেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাস্তব জীবন কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। ছোটবয়স থেকেই নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। বলিউডের প্রবীণ গায়িকা তাঁর কেরিয়ারে পর্দে মে রহেনে দো, চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো, উড়ে জব জব জুলফে তেরি-র মতো অনেক আইকনিক গান উপহার দিয়েছেন। আশার গান অনেক অভিনেত্রীর কেরিয়ারেই উড়ান এনেছিল। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার রেকর্ড ঝুলিতে পুড়েছেন আশা ভোঁসলে।

১৬ বছর বয়সে, দিদি লতার সেক্রেটারিকে বিয়ে করেছিলেন আশা:
বাবার অকাল মৃত্যুর কারণে, লতা মঙ্গেশকর মাত্র ১৪ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন, আশার বয়স তখন মাত্র ৯। পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়। লতা যখন সংসারের দায়িত্ব নিচ্ছিলেন, তখন তিনিও আশা থেকে এটিই প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে আশা শৈশব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির ছিলেন। তিনি কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিয়ম মেনে চলা পছন্দ করতেন না। তিনি সমস্ত বন্ধন ভেঙে একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে, আশা তাঁর চেয়ে অনেক বছর বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। আশার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর, যখন গণপতরাওয়ের বয়স ছিল ৩১ বছর। এই গণপত রাও ছিলেন আবার লতা মঙ্গেশকরের সচিব। এই পরিস্থিতিতে তিনি লতার বাড়িতে আসতেন। সেখানেই তিনি এবং আশা একে-অপরের প্রেমে পড়েন এবং পালিয়ে বিয়ে করেন।
তবে আশা এবং গণপত রাওয়ের বিয়ে নিয়ে খুব রেগে গিয়েছিলেন বড় বোন লতা। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, দিদি এই সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেননি। এরপর তাঁর সঙ্গে লতাজির মধ্যে দূরত্ব বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দুজনের মধ্যে কোনও কথাও হয়নি। এমনকী আশা ভোঁসলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
আশা-গনপতের বিয়েতে সমস্যা:
সূত্রের খবর, শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এ কারণেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবসান ঘটে। 1960 সালে তাঁরা উভয়ই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরে, আশা ভোঁসলে ১৯৮০ সালে সুপরিচিত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেছিলেন। রাহুল দেব বর্মন আবার ছিলেন আশার থেকে চার বছরের ছোট। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি সেইসময়। আশা ভোসলের দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।
আশার সন্তানেরা:
আশা ভোঁসলের প্রথম বিয়ে থেকে তিনটি সন্তান রয়েছে- হেমন্ত, বর্ষা এবং আনন্দ। তাদের মধ্যে দু'জন, হেমন্ত (২০১৫) এবং বর্ষা (২০১২) মারা গিয়েছেন। আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন বেশ অস্থির ছিল। তবে এই ওঠাপড়া কখনোই তাঁর কেরিয়ারে ছাপ ফেলতে পারেননি। সুরের জাদুতে আট থেকে আশি, সকলের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে পরলোক গমন করলেন গায়িকা।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


