Bollywood Actress: বলিউডের প্রথম ১০০ কোটির ক্লাব ছুঁয়েছিলেন! বিয়ের পর গায়েব এই সুন্দরী, আমিরের নায়িকা আজ কোথায়?
নায়কের কথায় তাঁর বন্ধুর সঙ্গে প্রেম-বিয়ে। বর, ১৩০০ কোটির মালিক। বিয়ের পর গ্ল্য়ামার দুনিয়ার দিকে ফিরেও তাকাননি এই নায়িকা। চিনতে পারছেন?
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের তারকাদের যেখানে দশকের পর দশক কেটে যায় নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে, সেখানে মাত্র ৩০ বছর বয়সে খ্যাতির মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে অভিনয় জগৎকে বিদায় জানানোর নজির খুব কমই আছে। কিন্তু ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন অভিনেত্রী অসিন থত্তুমকল (Asin Thottumkal)। আজ বলিউডে ‘১০০ কোটির ক্লাব’ বা ‘100 Crore Club’ শব্দবন্ধটি ডালভাত হয়ে গেলেও, এই ইতিহাসের প্রথম কাণ্ডারি ছিলেন অসিন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লাইমলাইটের বাইরে থাকা এই দক্ষিণী ও বলিউড সুন্দরীর কেরিয়ার গ্রাফ আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম এক ম্যাজিক স্টোরি।

‘গজনী’ এবং বলিউডের প্রথম ১০০ কোটির ইতিহাস
২০০৮ সালে যখন আমির খানের ‘গজনী’ (Ghajini) থিয়েটারে ঝড় তুলেছিল, তখন চারিদিকে আলোচনা ছিল আমিরের সিক্স প্যাক বডি এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘মেমেন্টো’ ছবি থেকে অনুপ্রাণিত টানটান রিভেঞ্জ প্লট নিয়ে। কিন্তু সেই হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশনের মাঝেও যে চরিত্রটি দর্শকদের মন ছুঁয়েছিল, তা হলো চনমনে ও দয়ালু মডেল ‘কল্পনা’।
অসিনের সাবলীল অভিনয়ই ছিল এই ট্র্যাজিক লাভ স্টোরির মূল চালিকাশক্তি। ছবি মুক্তির পর সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ‘গজনী’ ভারতের প্রথম হিন্দি সিনেমা হিসেবে ঘরোয়া বক্স অফিসে ১০০ কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। আর প্রথম ছবিতেই আপামর ভারতবাসীর কাছে ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন অসিন।
বলিউড জয় এবং দক্ষিণী সিনেমার রাজত্ব
‘গজনী’র ঐতিহাসিক সাফল্যের পর অসিন রাতারাতি বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের কাতারে চলে আসেন। এরপর তিনি একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দেন:
সালমান খানের সঙ্গে ব্লকবাস্টার ‘রেডি’ (Ready)।
অক্ষয় কুমারের সঙ্গে সুপারহিট কমেডি ‘হাউসফুল ২’ এবং ‘খিলাড়ি ৭৮৬’।
অজয় দেবগনের সঙ্গে সফল ছবি ‘বোল বচ্চন’।
তবে অনেকেই ভেবেছিলেন অসিন বুঝি বলিউডের এক নতুন নবাগত প্রতিভা। আসলে কিন্তু তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে তামিল, তেলুগু এবং মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছিলেন। দক্ষিণে সুরিয়া (মূল গজনী ও পেরাজাগান), থালাপথি বিজয় (শিবকাশি ও পোক্কিরি), অজিত কুমার (ভারালারু), চিয়ান বিক্রম (মাজা)-এর মতো মেগাস্টারদের পাশাপাশি মহেশ বাবু ও পবন কল্যাণের মতো হেভিওয়েট অভিনেতাদের সঙ্গে ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন তিনি।
৩০ বছর বয়সে লাইমলাইট থেকে আকস্মিক বিদায়
২০১৫ সালে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘অল ইজ ওয়েল’ (All Is Well) ছিল অসিনের কেরিয়ারের শেষ ছবি। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ‘মাইক্রোম্যাক্স’ (Micromax)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা নামী প্রযুক্তি ব্যবসায়ী রাহুল শর্মা-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মজার বিষয় হলো, তাঁদের এই সম্পর্কের অনুঘটক বা ঘটক ছিলেন অসিনের সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার নিজেই।
বিয়ের পর অন্যান্য অভিনেত্রীরা যেখানে কামব্যাকের চেষ্টা করেন, অসিন সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটেন। স্বামী, সন্তান ও সংসারকে সময় দিতে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই অভিনয় দুনিয়াকে সম্পূর্ণ ‘আলবিদা’ জানান তিনি। ২০১৭ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান আরিন রেন ।

২০২৬-এ এসে কেমন কাটছে অসিনের জীবন?
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং লাইমলাইট থেকে শতহস্ত দূরে এক নিভৃত ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন অসিন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই এই তারকা দম্পতি তাঁদের দাম্পত্য জীবনের সফল ১০ বছর পূর্ণ করলেন। নিজেদের দশম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রী অসিনের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন রাহুল শর্মা, যা নেটপাড়ার নজর কেড়েছে।
রাহুল তাঁর পোস্টে লেখেন:
‘১০টি আনন্দময় বছর… আমার জীবনের মূল্যবান সবকিছুরই সহ-প্রতিষ্ঠাতা সে, আর আমি ভাগ্যবান যে তার জীবনের সহ-অভিনেতা হতে পেরেছি! শুভ ১০ম বিবাহবার্ষিকী, আমার ভালোবাসা। আমাদের ঘর ও আমার হৃদয়কে একটি হাই-গ্রোথ স্টার্টআপের মতো পরিচালনা করো, আর আমি প্রতিদিন তোমার জীবনের সেটে হাজির হব। এক চমৎকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলা।’
ব্যবসায়িক দিক থেকে, চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর (শাওমি, ওপ্পো, ভিভো) আগ্রাসী প্রতিযোগিতায় একসময় ধাক্কা খাওয়া ভারতের নিজস্ব হার্ডওয়্যার জায়ান্ট ‘মাইক্রোম্যাক্স’ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রাহুল শর্মার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


