Mimi Chakraborty: ‘ভাইপো’ অভিষেকের সঙ্গে নাম জুড়ে ভুয়ো খবর প্রচার, ‘লজ্জা হওয়া উচিত’, হুঁশিয়ারি মিমির!
‘একজন মহিলা হয়ে অন্য একজন মহিলার মার খাওয়া সেলিব্রেট করতে পারেন কীভাবে!’ মিমিকে ঘিরে আপত্তিকর ও ভুয়ো ভিডিয়ো পোস্ট, আইনি পথে নায়িকা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অপব্যবহার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভুয়ো ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। সম্প্রতি নায়িকার মুখ, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক এআই-জেনারেটেড ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নায়িকার কিছু AI নির্মিত ছবি ভাইরাল করা হয়। সেই ভুয়ো ছবির সঙ্গে দাবি করা হয়, অভিষেক নাকি মিমিকে তাঁর ফ্ল্যাটে ডাকতেন তাই নায়িকা দল ছাড়েন। যা সম্পূর্ণ ভুয়ো।

শনিবার আরও এক ভুয়ো ভিডিয়ো ভাইরাল হয় মিমিকে নিয়ে। যেখানে এক সংবাদমাধ্য়মের একটি খবরের ক্লিপের সঙ্গে অন্য একজন নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্থার ভিডিয়ো কোলাজ করে এমনভাবে ছড়ানো হয় যাতে অনেকেই এটা ভেবে ভুল করেন মিমি মার খাচ্ছেন। এতদিন নীরবতা বজায় রাখলেও নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করায় এবার সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট লিখে ট্রোলার ও সস্তা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ধুয়ে দিলেন মিমি।
'মহিলার ওপর আক্রমণকে আপনারা 'কন্টেন্ট' বলছেন?'
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিমি জানান, সস্তা জনপ্রিয়তা আর ভিউয়ের লোভে কিছু মানুষ তাঁর ছবি ও পরিচয় বিকৃত করে কাল্পনিক গল্প তৈরি করছে। কিছুদিন আগেই ওনাকে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের (অভিষেকের নাম নেননি মিমি) সাথে এআই ভিডিওর মাধ্যমে ভুয়োভাবে জড়ানো হয়েছিল। আর এবার বিভিন্ন ক্লিপ জোড়াতালি দিয়ে এক নারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত বা গণপিটুনির শিকার হওয়ার দৃশ্যকে মিমি চক্রবর্তী বলে দাবি করে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো হচ্ছে!
মিমি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলে বলেন, 'লাইক আর ক্লিকের জন্য আপনারা একজন নারীর ওপর শারীরিক অত্যাচারকে উদযাপন করছেন? কোনো ভুয়া কন্টেন্ট শেয়ার করার আগে একবার ভাবুন, আগামীকাল আপনার প্রিয় কোনো মানুষের সাথে এমনটা ঘটলে সেটাকেও কি আপনারা 'কন্টেন্ট' বলবেন?'
সস্তা জনপ্রিয়তা বনাম আসল পরিচিতি: মিমির বক্তব্য, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ২ মিনিটের সস্তা খ্যাতির জন্য নিজস্ব বিবেক ও নীতিবোধ বিসর্জন দেওয়া অনুচিত। অন্যকে টেনে নিচে নামিয়ে অর্জিত খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, কঠোর পরিশ্রম ও নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে কিছু তৈরি করাই আসল সাফল্য।
‘আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে, আইনি নোটিশ পাঠাচ্ছি’
ভুয়া খবরের রমরমা বন্ধ করতে সাধারণ দর্শকদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন এই তারকা-রাজনীতিবিদ। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো তথ্য বা ভিডিও সত্য কিনা যাচাই না করে বিশ্বাস বা শেয়ার করা বন্ধ করা উচিত, কারণ প্রতিটা শেয়ার এই ধরনের অপরাধীদের উৎসাহ জোগায়।
তবে শুধুমাত্র বার্তা দিয়েই ক্ষান্ত হননি অভিনেত্রী, ট্রোলার ও বিকৃত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সোজা আইনি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নীরবতাকে দয়া করে আমার দুর্বলতা ভাববেন না। এই ধরনের মানহানিকর ও বিকৃত ভিডিও তৈরি, প্রকাশ এবং প্রচারের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। আইনের মাধ্যমে এদের প্রত্যেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’ একজনকে ইতিমধ্য়েই আইনি নোটিশ ধরানো হয়েছে, বাকিদেরও পাঠানো হবে, জানিয়েছেন মিমি। তাঁর কথায়, ‘যিনি একজন মহিলা হয়ে এটা পোস্ট করেছেন, তাঁকে বলি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি একজন মহিলা হয়ে অন্য একজন মহিলার মার খাওয়া সেলিব্রেট করতে পারেন কীভাবে! বাকিরাই বা কত ছোট মনের হলে, এরকম করতে পারেন? মহিলাদের সম্মান করেন না যাঁরা, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।’
এই প্রসঙ্গে ফেক নিউজ করার জন্য আইনি নোটিশ ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে একজনকে। বাকিদেরও পাঠানো হবে। কিছুদিন আগে একজন পলিটিশিয়ানের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে একটা ফেক ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।'
ডিজিটাল জগতে ভুয়া ও বানানো গল্পের বদলে সৃজনশীলতা, সততা এবং মানবিকতার জয় হোক— সেই বার্তাই দিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


