দেড় একর জমির উপর মিঠুনের মাড আইডল্যান্ডের বিলাসবহুল বাড়ি! নিজস্ব জিম, পরিবারের সকলের আলাদা-আলাদা কটেজ, দেখুন

বলিউডের ডিস্কো ডান্সার মিঠুন চক্রবর্তীর মাড আইল্যান্ডের বিলাসবহুল বাড়ি ঘুরে দেখলেন ফারাহ খান। দেড় একর জমির উপর তৈরি এই বাংলোয় রয়েছে নিজস্ব জিম, বাগান, শুটিং স্টুডিয়ো থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আলাদা কটেজ রয়েছে। 

Published on: Sep 28, 2026, 20:00:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বলিউডের ডিস্কো ডান্সার মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। পর্দায় তাঁর নাচ, অভিনয় এবং একের পর এক হিট ছবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কৌতূহল রয়েছে দর্শকদের। এবার অভিনেতার মাড আইল্যান্ডের বিলাসবহুল বাড়ির অন্দরমহল ঘুরে দেখার সুযোগ পেলেন অনুরাগীরা। ফারাহ খানের ইউটিউব চ্যানেলের একটি বিশেষ পর্বে মিঠুনের বাড়ির নানা অজানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে অভিনেতার জীবনের কঠিন লড়াই, সাফল্য এবং প্রেমের গল্প।

মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি ঘুরে দেখালেন ফারহা।
মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি ঘুরে দেখালেন ফারহা।
মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি।
মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি।

মিঠুনের ছেলেকে নাচ শেখাতেন ফারাহ খান

মিঠুন চক্রবর্তীর প্রায় দেড় একর জমির উপর তৈরি বিশাল বাংলোয় রয়েছে একাধিক কটেজ, সুন্দর বাগান, জিম এবং নিজস্ব শুটিং স্টুডিয়ো। বাড়ির অন্দরমহল ঘুরে দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতার দুই ছেলে। এই বাড়ি ঘুরতে ঘুরতেই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যান ফারাহ খান।

ফারাহ জানান, ছোটবেলা থেকেই মিঠুনের বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। একসময় তাঁর বাড়ির দেওয়ালে মিঠুনের পোস্টারও লাগানো থাকত। বহু বছর আগে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সময় মিঠুন তাঁকে নিজের ছেলে মিমোকে নাচ শেখানোর অনুরোধ করেছিলেন।

তখন মিমোর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। ফারাহ জানান, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিঠুনের বাড়িতে যেতেন তাঁর ছেলেকে নাচ শেখাতে। সেই পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি অন্দরের ছবি।
মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি অন্দরের ছবি।

এক বছরে ১৯টি ছবি, মিঠুনের নামে বিশ্বরেকর্ড

মিঠুনের বাড়ির লিভিং রুমেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা স্মারক। দেওয়ালে সাজানো রয়েছে অভিনেতার বিভিন্ন পুরস্কার এবং সরকারি সম্মানপত্র।

কথা প্রসঙ্গে মিঠুন জানান, ১৯৯৯ সালে তাঁর অভিনীত মোট ১৯টি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। এক বছরে এতগুলি ছবিতে কাজ করার নজিরের জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত হয়। দীর্ঘ কেরিয়ারে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন লড়াইয়ের ইতিহাস।

মিঠুনের বাড়ি।
মিঠুনের বাড়ি।

৫০ বছরের পুরনো গাড়িতে কেটেছিল ১৫ দিন

মিঠুনের বাড়িতে রয়েছে তাঁর প্রায় ৫০ বছরের পুরনো একটি গাড়ি। অভিনেতার ছেলেরা জানান, এফটিআইআই থেকে পাশ করার পর এই গাড়িটিই ছিল মিঠুনের প্রথম আশ্রয়। জীবনের কঠিন সময়ে প্রায় ১৫ দিন এই গাড়িতেই কাটিয়েছিলেন তিনি।

সেই সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে স্নান করার জন্যও নানা উপায় খুঁজতে হত। মিঠুন জানান, একটি জিম পরিষ্কার করে দেওয়ার বিনিময়ে সেখানকার মালিক তাঁকে স্নানঘর ব্যবহার করার সুযোগ দিতেন। এমনকী, স্ট্রাগলের দিনগুলিতে তাঁকে রাস্তা ও ফুটপাথেও রাত কাটাতে হয়েছে।

ফারাহ খানও এই প্রসঙ্গে একটি পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নেন। তাঁর কাকা সিনেমার জন্য গল্প লিখতেন। সেই সূত্রে তিনি একবার বাড়িতে এসে জানিয়েছিলেন, তাঁদের একটি পার্টিতে মিঠুন নামে এক তরুণ নাচ করে সকলকে আনন্দ দিতেন। বিনিময়ে কোনও পারিশ্রমিক পেতেন না, শুধু জুটত রাতের খাবার। সেই তরুণই পরবর্তীকালে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন।

মিঠুনের বাড়ির অন্দরে থাকা জিম।
মিঠুনের বাড়ির অন্দরে থাকা জিম।

মিঠুনের বাংলোয় রয়েছে নিজস্ব জিম ও শুটিং স্টুডিয়ো

মাড আইল্যান্ডের এই বিলাসবহুল বাংলোয় পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে ছোট্ট একটি জিম। বাড়ির চারপাশে সবুজের সমারোহ। পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত এখানেই শরীরচর্চা করেন।

এ ছাড়াও রয়েছে চক্রবর্তী পরিবারের নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস এবং শুটিং স্টুডিয়ো। এখানে সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের শুটিং করা যায়। মিঠুনের ছেলেরা জানান, তাঁদের ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর শুটিংও বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় হয়েছিল। ফলে শুটিংয়ের জন্য তাঁদের কলকাতায় যেতে হয়নি।

দেড় একর জমির উপর তৈরি মিঠুনের বাংলো।
দেড় একর জমির উপর তৈরি মিঠুনের বাংলো।

ফারাহর জন্য বিশেষ বাঙালি পদ রান্না করলেন মিঠুন

বাড়ি ঘুরে দেখার পাশাপাশি জমিয়ে খাওয়াদাওয়াও হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী ফারাহ খানের জন্য বিশেষ বাঙালি আলুর পদ রান্না করেছিলেন। অন্যদিকে, ফারাহ নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিলেন রোস্ট চিকেন। একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করেন তাঁরা। এই পর্বে মিঠুনের আতিথেয়তার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সঙ্গে ফারাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ধরা পড়েছে।

মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে ফারহা।
মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে ফারহা।

যোগিতা বালির সঙ্গে কীভাবে বিয়ে হয়েছিল মিঠুনের?

ফারাহ খানের সঙ্গে আড্ডায় নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মুখ খোলেন মিঠুন চক্রবর্তী। উঠে আসে স্ত্রী যোগিতা বালির সঙ্গে তাঁর প্রেমের কাহিনি।

অভিনেতা জানান, ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে যোগিতা পলি হিলে থাকতেন। সেই সময় তাঁকে প্রায়ই যাতায়াত করতে দেখতেন মিঠুন। পরে একসঙ্গে ছবিতে কাজ করার সুযোগও আসে তাঁদের। তবে তখনই তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়নি।

মিঠুনের কথায়, ‘সুরক্ষা’ ছবিতে কাজ করার সময় তাঁদের প্রেমের গল্প শুরু হয়। তবে এই বিয়েতে যোগিতার মা প্রথমে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত মিঠুন নিজের শোওয়ার ঘরে এক পুরোহিতকে ডেকে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে যোগিতাকে বিয়ে করেন। এভাবেই শুরু হয়েছিল তাঁদের দাম্পত্য জীবন।

মিঠুন চক্রবর্তীর বিলাসবহুল বাড়ির অন্দরমহল থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের কঠিন সময়, সাফল্য এবং প্রেমের গল্প—ফারাহ খানের এই বিশেষ পর্বে উঠে এসেছে অভিনেতার জীবনের নানা অজানা অধ্যায়। ফলে মিঠুনের অনুরাগীদের কাছে এই পর্ব হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More