মিঠুন চক্রবর্তীর উটি হোটেল ছবির মতো করে সাজানো, এখানে এক রাত থাকার খরচ কত?

চলুন আজ মিঠুন চক্রবর্তীর উটির হোটেলের ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক, যেখানে বর্ষীয়ান অভিনেতার বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং হয়েছে। এই হোটেলে একরাত থাকার খরচ কত?

Published on: May 19, 2026, 21:00:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সেলিব্রিটিরা অনেকই হোটেলের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। অনেকের রয়েছে হোটেল চেইনও। এমন একজন অভিনেতা হলেন মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনেতা, বিজেপি নেতা মিঠুন হোটেল মোনার্ক গ্রুপের মালিক। চলুন আজ তাঁর উটির হোটেলটির ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক, যেখানে মিঠুনের কয়েকটি ছবির শুটিংও হয়েছে।

মিঠুন চক্রবর্তীর উটির হোটেল।
মিঠুন চক্রবর্তীর উটির হোটেল।

তামিলনাড়ুর উটিতে অবস্থিত মিঠুনের হোটেলটি জনপ্রিয়তার দিক থেকে অন্যতম। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হোটেলে ৬০টিরও বেশি রুম, রেস্তোরাঁ, ডিস্কোথেক এবং সুইমিং পুল রয়েছে। এছাড়াও বেঙ্গালুরুতে একটি হোটেল তোলেন মিঠুন ও তাঁর ছেলে বিমোহ চক্রবর্তী। এখানেও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা রয়েছে।

মিঠুনের উটি-র হোটেলে 'শপথ'-এর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আইকনিক গান ‘ইশক অউর প্যায়ার কা মজা লিজিয়ে’ গানটির শুটিং হয়েছে। মিঠুনের চিতা, মরদ, হিটলার, শপথ, শের-ই-হিন্দুস্তান, আগ হি আগ এবং অঙ্গরার মতো ছবির শুটিংও হয়েছে এই হোটেলে। সিজন এবং রুমের ক্যাটাগরি অনুযায়ী এর ভাড়া সাধারণত প্রতি রাত প্রায় ৪,৬০০ থেকে ৮,০০০-এর মধ্যে ওঠানামা করে।

১৯৫০ সালের ১৬ জুন কলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর আসল নাম গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ-এ পড়াশোনা করে রসায়নে বি.এসসি. ডিগ্রি অর্জন করেন।

যৌবনের শুরুর দিকে মিঠুন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নকশাল আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীকালে সেই পথ থেকে সরে এসে অভিনয়কেই নিজের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। অভিনয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য তিনি পুনের স্বনামধন্য ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII)-তে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে অভিনয়ের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত 'মৃগয়া' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম ছবিতেই অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' পান। এরপর 'তহাদের কথা' (১৯৯২) এবং 'স্বামী বিবেকানন্দ' (১৯৯৮) সিনেমার জন্য আরও দু'বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি কর্মজীবনে তিনি হিন্দি, বাংলা, ওড়িয়াসহ বিভিন্ন ভাষায় সাড়ে তিনশোরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

মিঠুন ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হন, কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২১ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। ২০২৪ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান 'দাদাসাহেব ফালকে' পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এই বছর তাঁকে 'পদ্মভূষণ'ও দেওয়া হয়।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More