তৃণমূলকে না-পসন্দ! তবে নিতে হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ভরা সভায় পরামর্শ বিজেপি-র মিঠুনের

বারংবার নিজের রাজনৈতিক রং বদলেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তা সে লাল হোক বা সবুজ, আর এখন কমলা! এবার বিজেপি নেতা স্পষ্ট করলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার ভালো, সকলেরই তা নেওয়া উচিত।’

Published on: Jan 22, 2026, 10:00:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কের একটা বড় কারণ নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের নানা আর্থক যোজনা। তা সে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড', 'স্বাস্থ্য সাথী', 'কন্যাশ্রী', যাই হোক না কেন! তবে বরাবরই লক্ষ্মীর ভান্ডার থাকে একটু বেশিই আলোচনায়। যার কারণ গৃহবধূদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন দিদি! হাতে টাকা না থাকার দুঃখ ভোলায় তাই, বাড়ির মহিলারাও ভোট দিচ্ছেন ঘাসফুলে। তবে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকেই অভিযোগ আসে যে, অন্য দলের সমর্থক হলে, এমনকী, বাড়ির লোক অন্য কোন দলকে ভোট দেয় এমনটা এলাকায় জানাজানি থাকলেও নাকি, সেই বাড়িতে লক্ষ্মী ভান্ডার হয়নি! এমনকী, লক্ষ্মীর ভান্ডার কোথাও কোথাও আবার মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মিঠুন চক্রবর্তী।
মিঠুন চক্রবর্তী।

সম্প্রতি কোচবিহারের এক জনসভায় হাজির হয়েছিলেন মিঠুন। সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনেতা-বিজেপি নেতাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা গেল, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা’! মিঠুন বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার খারাপ নয়, যারা পাচ্ছেন তাঁরা নিশ্চয়ই নেবেন। কারণ এটা আপনাদের টাকা, আপনাদের ট্যাক্সের টাকা। আপনাকে নিতেই হবে সেই টাকা’।

আর এই ভিডিয়োতে একাধিক মানুষ ট্রোল করল মিঠুনকে। একজন লেখেন, ‘মিঠুন তো নিজের মুখে বলল লক্ষী ভান্ডার খারাপ না তাহলে তৃণমূল তো কোনো খারাপ করেনি। তৃণমূলই তো ভালো। তাহলে ছেড়ে বিজেপিতে কেন গেল!’ আরেকজন কমেন্ট করেন, ‘বিজেপি কী দিচ্ছে আমাদেরকে, শুধু বাঁশ দিচ্ছে’!

এখানেই শেষ নয়, মিঠুন সিউড়ির জনসভায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সবার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার আয়ুষ্মান ভারত করেছেন, কিন্তু এরা সেটা নিতে দিচ্ছে না। এমনকী যারা এক হাজার টাকার লক্ষ্মীর ভান্ডার করেছেন, তাঁরাও পাবেন পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সেটা হতে দিচ্ছেন না! কারণ তাতে তো প্রধানমন্ত্রীর নাম হবে।’ এমনকী তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ সংলাপকেও বদলে দেন তিনি এদিনের সভায়। বলেন, এক টিম নিয়ে খেলা হয় না। এবার দু’জনেই খেলব। আর ঠিক সময়ে পেনাল্টিতে বল বসিয়ে টুক করে গোল করে দেব।’

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, বারংবার নিজের রাজনৈতিক রং বদলেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তা সে লাল হোক বা সবুজ, আর এখন কমলা! মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর প্রথম জীবনে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালের লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের সুর চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। আর তাতে সামিল বিনোদন জগতও। এখনও বেশ অনেকটা সময় বাকি। দেখার রাজনৈতিক ময়দানে সংঘাত আরও কতটা তীব্র হয়।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More