Anwesha: ‘এখন পুরোটাই ব্যবসা, যে বেসুরো গাইছে…’, গানের রিয়ালিটি শো নিয়ে বিস্ফোরক অন্বেষা
''আগে অন্তত একটা ট্যালেন্ট হান্ট ফ্যাক্টর থাকত, এটা ১০০% ব্যবসা ছিল না। এখন তো এটা ইভেন্ট হয়ে গেছে, পুরোটাই মিথ্যা', রিয়ালিটি শো নিয়ে বিস্ফোরক অন্বেষা।
বয়স মাত্র ৩৩ কিন্তু, এই বয়সেই প্লে-ব্যাকের দুনিয়ায় তাঁর দু-দশকের অভিজ্ঞতা। মিউজিক রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চ থেকে উঠে এসেই সংগীত জগতে নিজের জায়গা পোক্ত করেছিলেন গায়িকা অন্বেষা দত্তগুপ্ত যিনি অন্বেষা নামেই পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে সেই রিয়ালিটি শোর আসল সত্য ও ভেতরের রূপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। সঞ্চালিকা শ্রীর পডকাস্ট ‘স্ট্রেট আপ উইথ শ্রী’-তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে রিয়ালিটি শোর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ব্যবসা’ ও ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ বলে তোপ দাগলেন গায়িকা।

পডকাস্টে আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে প্রতিযোগীদের সিলেকশন এবং গানের পিচ-টিউনিং সংক্রান্ত নানা বিস্ফোরক সত্য।
‘এখনকার রিয়ালিটি শো পুরোটাই ফেক ও ব্যবসা’:
পডকাস্ট চলাকালীন সঞ্চালিকা যখন প্রশ্ন তোলেন যে আজকাল রিয়ালিটি শোর প্রতিযোগীদের ব্যাকস্টোরি বিক্রি করার জন্য আগে থেকেই বেছে নেওয়া হয় কি না, তার জবাবে অন্বেষা সাফ জানান যে আগে ট্যালেন্ট খোঁজার একটা চেষ্টা অন্তত ছিল, কিন্তু এখন তা আর নেই।
মঞ্চের রিয়ালিটি নিয়ে মুখ খুলে অন্বেষা বলেন, 'আগে অন্তত একটা ট্যালেন্ট হান্ট ফ্যাক্টর থাকত, এটা ১০০% ব্যবসা ছিল না। এখন তো এটা ইভেন্ট হয়ে গেছে, পুরোটাই মিথ্যা! মানে যে খুব ভালো গাইছে সে-ও ভালো গাইছে, আর যে খুব বেসুরে গাইছে সে-ও খুব ভালো গাইছে! বিচারক যদি কাউকে বলেন যে 'এখানটা হলো না', দর্শক ভাবছে কেন বলল? কারণ পুরোটাই তো এডিট করে ঠিক করা থাকে! এই প্রতিযোগিতার কোনো মানেই হয় না, এটা স্রেফ ব্যবসা।'
অটো-টিউন এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা হ্রাস:
নিজের সময়ের রিয়ালিটি শোর স্মৃতি টেনে অন্বেষা জানান যে তাঁদের সময় লাইভ গাওয়ার পর কোনো ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সবটাই বদলে দেওয়া হয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অন্বেষা যোগ করেন, ‘আমাদের সময় একটা পর্বে খুব খারাপ গাইলে সেটা ট্যালিকাস্টের সময় বসে হজম করতে হতো। যে যেরকম গেয়েছে, অবিকল সেটাই শোনানো হতো, কিছুই ঠিক করা হতো না। কারণ ওটাই তো প্রতিযোগিতা! আমি যদি জানি যে ভুল গাইলেও পরে স্টুডিওতে রেকর্ড করে নেওয়া যাবে বা অটো-টিউন দিয়ে প্রসেস করে ঠিক করে দেবে, তাহলে তো আমার শেখার এবং এগোনোর গ্রোথটাই হারিয়ে যাবে। গাওয়ার যে টেনশনটা থাকে, সেটাই তো থাকবে না। আর সেই টেনশনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’
অন্বেষার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই সংগীতপ্রেমী ও অনুরাগীদের মধ্যে রিয়ালিটি শোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


