Monali: ‘কিছু বললেই আমার যোনিতে পৌঁছে যাচ্ছে, মায়ের যোনিকেও ছাড়ছে না…’, সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় কটাক্ষে মোনালি ঠাকুর
জেন জি-র প্রতিবাদ ও সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ নিয়ে বহু তারকা মুখ খুলেছেন প্রকাশ্যে। যেই কারণে ট্রোলের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও একটা নাম, গায়িকা মোনালি ঠাকুর। তিনি জানালেন, নিজের মতামত তুলে ধরার জন্য শুধু তাঁকে নয়, তাঁর মাকেও আক্রমণ করা হচ্ছে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই বেশ টালমাটাল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, তা নিয়ে দেশের পড়ুয়াদের প্রতিবাদ, পুলিশের সঙ্গে বিরোধ, সরকারের সঙ্গে মতানৈক্য-- সব মিলিয়ে স্পষ্টতই দু ধরনের মতবাদ লক্ষ করা যাচ্ছে। বহু তারকা সরকারের বিরোধিতা করেছেন প্রকাশ্যে। যেই কারণে ট্রোলের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও একটা নাম, গায়িকা মোনালি ঠাকুর।

মোনালি একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে জানান যে, বিগত কয়েকদিন ধরে ভিতরে ভিতরে এতটাই অস্থির হয়েছিলেন যে, গান গাইতে অবধি পারছিলেন না ঠিক করে। বহুবার চেষ্টা করেছেন নিজের মনের কথা ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে অনুরাগীদের সামনে তুলে ধরবেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।
মোনালিকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম আমি একটা ভিডিয়ো বানাব, কিছু বলব। কিন্তু যতবার ক্যামেরা অন করছিলাম, বলার চেষ্টা করছিলাম, সব অপ্রীতিকর কথাই বের হচ্ছিল। ভিতরে অনেক রাগ, বিরক্তি, অস্বস্তি জমা হয়ে আছে। আমি নিশ্চিত আমাদের দেশের অনেকেই এরকমটাই অনুভব করছেন। এই দেশ যেন ক্রমাগত ভয়, ভীতি প্রদর্শন, অবহেলা, অসম্মান আর বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করে চলেছে। এসবই দিন দিন আরও বাড়ছে, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে যাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক এবং ভয়ঙ্কর।’
মোনালি তাঁর ভিডিয়োতে আরও বলেন, ‘আমি আমার নিজের মতামত প্রকাশ করতে শুরু করলাম, যেটা করা আমার মৌলিক অধিকার, তখন আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হলো। আমাকে আক্রমণ করা হলো। কিছু বললেই আমার যোনি-তে পৌঁছে যাচ্ছে, আমার মায়ের যোনিকেও ছাড়ছে না এরা। আর হ্যাঁ এদের ক্ষমা করার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই।’ একটি পর্যায়ে জেন জি-কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেও দেখা যায় তাঁকে।
আর ভিডিয়োটি শেয়ার করে ক্যাপশনে গায়িকা লেখেন, ‘আমি ভারতীয় নাগরিক, এই দেশেই আমার জন্ম’।
আর পোস্টটি আসার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ গায়িকার পক্ষে তো কেউ বিপক্ষে। একজন মোনালির উদ্দেশে লেখেন, ‘শত্রুরা দেশের বাইরে না, দেশের ভিতরে।’ তবে এই কমেন্টকারীকে উদ্দেশ্য করে পালটা একজন লেখেন, ‘ওহ! ওহ! অন্ধভক্ত! বিজেপির বিরুদ্ধে বললেই নাকি ভারতের বিরুদ্ধে বলা! আরে ভাই, হনুমানজিকে যখন নাচানো হয়েছিল, তখন কি তোমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি? ফেকুচাঁদের ছেলে!’
আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘আজ থেকে আপনি আমার অপছন্দের তালিকায়।’ আরেকজন আবার লেখেন, ‘আমার মনে হয় আমরা আলাদা দুই ভারতে বাস করি। বাঙালি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গই আমার কাছে ভারতের অন্য অনেক জায়গার চেয়ে এতদিন বেশি আতঙ্কের ছিল। তাই যারা বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতের বাইরে থাকেন, তাঁদের মুখে ভারতের বাস্তবতা নিয়ে জ্ঞান দিতে দেখলে একটু হাসিই পায়।’
মোনালি এই ভিডিয়োটি বানানোর মাঝে বার দুয়েক তাঁর বাড়ির কাছাকাথি চলা কোনো জায়গায় নির্মাণকাজ চলার আওয়াজও ভেসে আসে। যাতে বিরক্তি প্রকাশ করে গায়িকাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের দরকার গঠনমূলক চিন্তা, অর্থহীন কংক্রিটের জঙ্গল নয়। চারদিকে শুধু বিল্ডিং তৈরি করলেই উন্নয়ন হয় না। শহরগুলোর কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই, কোনো স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিও নেই।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


