Mouni-Disha: লেসবিয়ান কটাক্ষ ওড়ালেন ফুৎকারে! দিশার বার্থডে পার্টিতে জমিয়ে মজা বং বিউটি মৌনির
অভিনেত্রী মৌনি রায়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একাধিক ছবি ও ভিডিয়োতে দিশার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে আয়োজিত ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নানা আনন্দঘন মুহূর্ত ধরা পড়েছে। সমকামী কটাক্ষ ফুৎকারে ওড়ালেন এই বং বিউটি।
সম্প্রতি দিশা পাটানির জন্মদিন উদযাপনের কিছু বিশেষ মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী মৌনি রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একাধিক ছবি ও ভিডিয়োতে দিশার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে আয়োজিত ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নানা আনন্দঘন মুহূর্ত ধরা পড়েছে।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মৌনি বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দিশা পাটানিকে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দিতে দেখা যায়। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন গায়ক স্টেবিন বেন এবং কৃষ্ণা শ্রফও। ছবিগুলো দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
তবে এই ছবি প্রকাশ্যে আসার সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলা নানা জল্পনা-কল্পনা এবং বিশেষ করে যৌন অভিমুখ (Sexual Orientation) নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পর্কে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন মৌনি।
চলতি বছরের শুরুতে স্বামী সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা করে শিরোনামে এসেছিলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মৌনি ও সুরজ। একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। এই ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা শুরু হয় এবং বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে একাধিক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিতর্কের জেরে দিশা পাটানিকেও অকারণে ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়। এমনকী কিছু মানুষ অকারণে দাবি করতে থাকে, মৌনি ও দিশার ‘সমকামী-সম্পর্ক’ই বিচ্ছেদের কারণ। এমনকী, বাঙালি অভিনেত্রীকে ‘লেসবিয়ান’ বলে কটাক্ষ করা শুরু হয়।

বিচ্ছেদের কয়েক সপ্তাহ পর অবশেষে এই সমস্ত গুঞ্জন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মৌনি। সম্প্রতি মনিকা শর্মার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সম্পর্কে শোনা সবচেয়ে অদ্ভুত গুজব কোনটি। জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘যে আমি সমকামী।’
এরপর কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মৌনি জানান, জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে তিনি পরিবার এবং বন্ধুদের অটুট সমর্থন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে আমার সবসময় এমন বন্ধু এবং পরিবার ছিল যারা পাথরের মতো আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বিশেষভাবে নিজের ঘনিষ্ঠ নারী বন্ধুদের প্রশংসা করে মৌনি বলেন, তাঁর জীবনের ভালো-মন্দ সব সময়েই তাঁরা শক্তির উৎস হয়ে থেকেছেন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমাকে সমর্থন করার জন্য আমার সবসময় অসাধারণ বান্ধবীরা ছিল। আমার ভালো, মন্দ এবং কঠিন সময়ে তারা সবসময় পাশে থেকেছে। জীবনে এমন নারী থাকা খুব জরুরি, যারা আপনাকে উৎসাহিত করে। আমার বান্ধবীরা সত্যিই সেরা।’
শুধু তাই নয়, আজকের প্রজন্মের নারীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মৌনি। তিনি বলেন, নারীদের আর্থিক এবং মানসিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, জীবনে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন থাকতে হলে আবেগগত এবং আর্থিক—দুই দিক থেকেই শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা ও সমালোচনার মধ্যেও মৌনির এই স্পষ্ট বক্তব্য এবং বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে, দিশা পাটানির জন্মদিনের পার্টির ছবি প্রমাণ করে দিয়েছে যে কঠিন সময়েও বন্ধুত্ব এবং কাছের মানুষের সমর্থনই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


