‘আমায় সস্তা-বাজারি প্রমাণ করার এত তাড়া…’! রাহুলের সঙ্গে ‘প্রেম’ সামনে আনায় বিতর্ক, ফেসবুকে খোলা চিঠি মৌমিতা পণ্ডিতের
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর চার মাস পর, আচমকাই মৌমিতা পণ্ডিত দাবি করেন যে, অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এমনকী, মৃত্যুর আগে শেষ শট দেওয়ার আগেও নাকি রাহুলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এমনকী, আগের রাতে দীর্ঘক্ষণ ভিডিয়ো কলে কথা বলেন দুজনে।
কদিন আগেই এক বিস্ফোরক দাবি করে বসেন অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত। তিনি দাবি করে বসেন যে, মৃত্যুর আগে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। এবার আইনত রাহুল সেই সময় প্রিয়াঙ্কা সরকারের স্বামী। অর্থাৎ, মৌমিতা পণ্ডিতের তরফে এই দাবি ওটা মানেই সেখানে ‘পরকীয়া’র গন্ধ। বিশেষ করে, যেখানে অন্য পক্ষ এই দুনিয়ায় নেই ব্যাপরটির সত্য না মিথ্যা তাতে সিলমোহর দিতে। ফলত রাহুলে বন্ধুরা রুখে দাঁড়ায়। প্রকাশ্যেই মৌমিতাকে নিয়ে সরব হন সুদীপ্তা, শ্রীলেখা, জয়জিৎ, মানসী সিনহারা। সকলেই প্রশ্ন তোলেন, মৌমিতা এমন বক্তব্য রাখার আগে কেন একবারও ভাবলেন না প্রিয়াঙ্কার কথা। বিশেষ করে সদ্য বাবাকে হারানো সহজের কথা! এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনে দীর্ঘ পোস্ট মৌমিতার। লিখলেন খোলা চিঠি।

মৌমিতার অভিযোগ, ‘সত্যি সামনে আনার কারণে’ শুধু অপরিচিতরা নয়, কটাক্ষ করেছেন পরিচিতরাও। যাতে রীতিমতো আঘাত পেয়েছেন, ভেঙে পড়েছেন মানসিক ভাবে। তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে চেনে না, তারা না হয় না বুঝে আক্রমণ করল। কিন্তু যারা আমাকে চেনে, জানে, এতদিন আমার কাজ দেখেছে—তারাও একবার আমাকে সত্যিটা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করল না! কারণ আমার বিরুদ্ধে পোস্ট লেখাটাই যেন আপনাদের কাছে সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল। আসল সত্য জানার আগেই পোস্টটা লিখে ফেলতে হবে, যাতে আমাকে 'সস্তা', 'বাজারি', 'মিথ্যাবাদী', 'ধন্দাবাজ', 'ফুটেজখোর', 'নোংরা মহিলা', 'জালি' কিংবা 'অসভ্য'—এরকম আরও কত কী বিশেষণ দেওয়া যায়! এসব বিশেষণ দেওয়ার পেছনে আমাদের ‘সিনিয়রদের’ অবদানও কিন্তু কম নয়। ধন্যবাদ আপনাদের। দাদা-দিদিরা, আপনারা নিজেদের ঠিক সেই ‘তিনটি বাঁদরের’ মতো বানিয়ে ফেললেন। কিন্তু কেন?’
মৌমিতার ক্ষোভ, যারা এতদিন তাঁকে সামলে এসেছেন, তারা এই ঘটনার পর তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, একবারও জানতে আসেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা আসল সত্যটা জানতেন, তারাও অন্যদের ভুল ভেঙে দিচ্ছেন না। বরং সবাই চুপ করে মজা দেখছেন। তাঁর মতে, তারা চাইলে এই নোংরামো থামাতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। এই পোস্টে আরও দাবি করা হয় যে, একজন মৃত মানুষকে সম্মান দিতে গিয়ে সকলে মিলে একজন জীবিত মানুষকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
মৌমিতা পণ্ডিত সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, এগিয়ে এসে কথা বলার, সামনাসামনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করার। লেখেন, ‘আপনারা সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আমি বয়সে ছোট এবং বিশাল কোনো বড় কাজ করে ফেলিনি বলেই কি আমাকে আক্রমণ করাটা এত সহজ হয়ে গেল? পাবলিকলি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করলে কারও সম্মান বাড়বে না, তাই সামনাসামনি এসে কথা বলুন। দেখি, আমি কতটা নিচু তা প্রমাণ করতে পারেন কি না! আপনারা ‘সিনিয়র’ হয়েও এতটুকু সেন্সিবলি বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে পারলেন না? সবকিছু আগে জেনে পরিষ্কার হয়ে তারপর মন্তব্য করা যেত না? আমাকে ‘নোংরা’ প্রমাণ করার এত তাড়া কিসের আপনাদের? একটু বুঝিয়ে বলবেন? তাই বলছি—আসুন, কথা বলুন, সত্যিটা জানুন, তারপর লিখবেন। অনেক সময় পাবেন।’
মৌমিতা তাঁর নিজের পোস্টের শেষে আরও লেখেন যে, ‘এই সিনিয়ররা একজন মৃত মানুষকে সম্মান জানাতে গিয়ে, বেঁচে থাকা অন্য একটি মানুষকে মেরে ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন! যাতে আমিও মরে গিয়ে প্রমাণ করি যে আমি কোনো অন্যায় করিনি। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার তরফ থেকে রইল তীব্র ধিক্কার ও একটি 'ছি'!’
(পাঠকের বোঝার স্বার্থে মৌমিতার পোস্ট কিছুটা গুছিয়ে তুলে ধরা হয়েছে লেখার অর্থ ও ভাষা অপরিবর্তিত রেখেই।)
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


