Kangana Ranaut: নারী শরীর 'ছেলে জন্ম দেওয়ার যন্ত্র'! ১০টা মেয়ের পর ছেলের জন্ম হিমাচলি মহিলার, ক্ষোভ কঙ্গনার
‘মেয়ে জন্মালে লোক সমবেদনা জানায়’, হিমাচলিদের পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে ক্ষোভ কঙ্গনার।
বলিউডের তারকা অভিনেত্রী তথা হিমাচল প্রদেশের মান্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut) বরাবরের মতোই স্পষ্টভাষী। সিনে ইন্ডাস্ট্রির নেপোটিজম হোক বা সামাজিক নানাবিধ ইস্যু— নিজের মতামত প্রকাশে তিনি কখনো পিছপা হন না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ (X) হিমাচল প্রদেশের কন্যাসন্তান জন্মদান সম্পর্কিত কট্টর পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এই তারকা-রাজনীতিবিদ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারীর পোস্টের প্রেক্ষিতে হিমাচলের নিজের কিছু পারিবারিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কঙ্গনা।
১১তম বারে পুত্রসন্তান! সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলকালাম
মূলত 'এক্স'-এ এক ব্যবহারকারী হিমাচল প্রদেশের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় বিয়ের পর এক মহিলা টানা ১১ বার গর্ভবতী হয়েছেন! প্রথম ১০ জনই ছিলেন কন্যাসন্তান, আর ১১ নম্বর বারে গিয়ে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে ওই নেটিজেন লেখেন, টভাবুন তো, স্রেফ একটা ছেলের আশায় একটা মেয়েকে জীবনের পুরো সময়টা জুড়ে একের পর এক গর্ভাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হলো! কন্যাসন্তানের জন্মকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে একটা মহিলার অস্তিত্বকে স্রেফ 'ছেলে জন্ম দেওয়ার যন্ত্র'-এ নামিয়ে আনা কতটা হৃদয়হীন কাজ!'
‘অন্যান্য রাজ্যের চেয়েও হিমাচলের অবস্থা খারাপ’— কঙ্গনার অভিজ্ঞতা
ওই পোস্টে সহমত পোষণ করে কঙ্গনা হিমাচল প্রদেশের সামাজিক বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করে লেখেন:
"আমার মনে হয় হিমাচলে এই মানসিকতা অন্যান্য যে কোনো রাজ্যের চেয়েও বেশি খারাপ। আমার মনে আছে, আমার এক তুতো বোনের যখন দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান হয়, তখন বাড়িতে লোকজন এমনভাবে শোক বা সমবেদনা জানাতে আসছিল, যেন পরিবারে কেউ মারা গিয়েছে! বোন আমাকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, ও এই পরিস্থিতি আর সহ্য করতে পারছে না। আমি অবাক না হলেও খুব অসহায় বোধ করেছিলাম।"
কঙ্গনা আরও একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে জানান, ওঁর অপর এক ভাইয়ের স্ত্রী দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ায় এতটাই মানসিক ট্রমার মধ্যে চলে গিয়েছিলেন যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এমনকি ডিপ্রেশনের কারণে ওই মা নিজের সদ্যজাত শিশুকন্যার মুখ দেখতে বা স্পর্শ করতেও রাজি ছিলেন না।
সাম্প্রতিক বিতর্ক ও কঙ্গনার সিনেমা
গত কয়েক সপ্তাহে জেন-জি (Gen Z) তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে 'জেনারেটর গটার' (Generation Gutter) মন্তব্য করে মারাত্মক বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা, যদিও পরে তিনি নিজের বক্তব্য থেকে কিছুটা পিছু হটে জেন-জি কে দেশের শক্তি বলে আখ্যা দেন।
কাজের জায়গায়, কঙ্গনার সাম্প্রতিক ছবি 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' (Bharat Bhhagya Viddhaata) প্রেক্ষাগৃহে আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে কামা হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের বীরত্বের সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভ (Zee5)-এ মুক্তি পেতে চলেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


