‘আমার পেট,আমার টাকা…’, বাংলাদেশের গোরুর মাংস পছন্দের বলায় ট্রোলড, পালটা জবাব দিলেন ‘হিন্দু ব্রাহ্মণ’ বিশ্বজিৎ

‘আমি কী খাব, আর কতটা খাব, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে? বললেই হলো নাকি?’, হিন্দু ব্রাহ্মণ হয়েও প্রকাশ্যে গো-মাংস খাওয়ার কথা জানানোয় কটাক্ষে জর্জরিত প্রবীণ অভিনেতা। অবস্থানে অনড় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। 

Published on: Sep 8, 2026, 21:00:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে গিয়ে পদ্মার ইলিশ এবং গোমাংস খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। বিশেষ করে একজন হিন্দু ব্রাহ্মণ হয়ে প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়ার কথা বলায় নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে যেমন 'ডিম ছোঁড়া' বা 'বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার' ট্রোলবাণে বিদ্ধ করেছেন, তেমনই তাঁর খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতাকে সমর্থনও জানিয়েছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন এই পুরো ঘটনা নিয়ে একেবারে খোশমেজাজে কিন্তু কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিনেতা।

‘আমার পেট,আমার টাকা…’, বাংলাদেশের গোরুর মাংস পছন্দের বলায় ট্রোলড, পালটা জবাব দিলেন ‘হিন্দু ব্রাহ্মণ’ বিশ্বজিৎ
‘আমার পেট,আমার টাকা…’, বাংলাদেশের গোরুর মাংস পছন্দের বলায় ট্রোলড, পালটা জবাব দিলেন ‘হিন্দু ব্রাহ্মণ’ বিশ্বজিৎ

‘আমার পেট, আমার মন, আমার টাকা!’

বাংলাদেশ সফর ও খাবারের জল্পনা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে একচোট হেসে হালকা মেজাজেই প্রবীণ অভিনেতা বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে সাফ জানিয়ে দেন, কারোর চোখরাঙানিতে তাঁর কিছু এসে যায় না। নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলকারীদের সোজা কথায় বিঁধে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার পেট, আমার মন, আমার হাত, আবার যে খাবার খাব তার জন্য যে টাকা খরচ হবে—সেটাও তো আমারই! তাহলে আমি কী খাব, আর কতটা খাব, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে? বললেই হলো নাকি?!’

মামলা দায়ের ও বাংলাদেশে আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা

এক বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ৪ তারিখ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন অভিনেতা এবং ৫ তারিখই দেশে ফিরে আসেন। ওপার বাংলার আতিথেয়তায় তিনি যে কতটা মুগ্ধ ও অভিভূত, তা আরও একবার স্পষ্ট করে জানান। তবে ট্রোলিং ও কটাক্ষের মাত্রা সীমা অতিক্রম করায় বিষয়টি এখন আর শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কাঁদা ছোড়াছুড়িতে আটকে রাখেননি প্রবীণ তারকা।

তিনি স্পষ্ট জানান, ইতিমধ্যেই এই বিতর্ক ও কটাক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এর থেকে বেশি কিছু মন্তব্য করতে চাননি অভিনেতা।

উল্লেখ্য, রণবীর কাপুর থেকে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার গোমাংস বিতর্কে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নাম জড়ালেও, নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় যে কোনো আপস করতে রাজি নন, তা তাঁর আইনি হুংকারেই স্পষ্ট!

ওদিকে প্রবীণ অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন মানসী সিনহা, সুরজিৎ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, আদৃত রায়রা। সুরজিৎ বাবু স্পষ্ট জানান, ‘বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দুই বাংলার একাত্মতা নিয়ে যে কথা বলেছেন এবং গো মাংস খাবার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, তার জন্য জুতোর মালা পরিয়ে তাঁর ছবি যারা পোস্ট করেছে তারা বাংলার কুলাঙ্গার। তাদের বিরুদ্ধে বাংলার সমস্ত অভিনেতা এবং অভিনেতা অভিনেত্রীরা যদি প্রতিবাদে মূখর না হয়, তাদের আমি ধিক্কার জানাই প্রসঙ্গত, বলে রাখি বার দুয়েক আমিও বিফ রোল খেয়েছি’।

মানসী সিনহা লেখেন, ‘বাংলার সম্মানীয় অভিনেতা শ্রী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে যে বা যারা নোংরা পোস্ট করছে, তাদের ধিক্কার জানাই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন.. এদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির বন্দোবস্ত করা হোক’।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More