Naseeruddin Shah: ‘SRFTI-র ছবি নির্মাতাদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা, ভয় দেখাচ্ছে BJP সরকার’, বিস্ফোরক নাসিরুদ্দিন শাহ
‘ব্লাডি ঝুটি পার্টি’ বিজেপি-কে তোপ নাসিরুদ্দিন শাহ-র। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের আন্দোলনরত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পাশে দাঁড়ালেন প্রবীণ অভিনেতা।
কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) চলমান পড়ুয়া আন্দোলন ও অশান্তির ঘটনায় এবার সরাসরি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তা জারি করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবির সমর্থনে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশের বিবেকবান নাগরিকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

‘প্রতিশোধ নিচ্ছে বিজেপি সরকার’—নাসিরুদ্দিনের কড়া বার্তা:
শনিবার প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার নিজেদের মতাদর্শের বাইরে থাকা মানুষের ওপর সরাসরি প্রতিশোধ নেওয়ার রাজনীতি করছে।
নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘নির্বাচনে হেরফের করে বাংলায় ক্ষমতায় আসা বিজেপি এখন তাদের মতামত না মানা মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। এর সাম্প্রতিক শিকার এসআরএফটিআই-এর উঠতি চলচ্চিত্র নির্মাতারা। প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার অপরাধে পড়ুয়াদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং হোস্টেল খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।’
অভিনেতা আরও অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি শুধু নিজের পক্ষে নির্লজ্জ প্রচার চালানোতেই সন্তুষ্ট নয়, তারা চায় দেশের ভবিষ্যৎ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মগজধোলাই করতে বা ভয় দেখাতে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করছি, তা কখনো সফল হবে না। এই তরুণেরাই আগামীদিনে দেশ ও সমাজের আসল সত্য আমাদের সামনে তুলে ধরবে।’
এসআরএফটিআই-তে অশান্তির প্রেক্ষাপট ও ছাত্র আন্দোলন:
আরএসএস ও বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ: সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাসে একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরএসএস (RSS) এবং এর শাখা সংগঠনের সদস্য-বহিরাগতদের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘর্ষ ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হিংসা ও তাণ্ডব চালিয়ে গ্রন্থাগার ও পড়ুয়াদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে এবং উপাচার্য (Vice-Chancellor) সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও অবস্থান চালাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
নাসিরুদ্দিন শাহের আগে অস্কার-মনোনীত ও কানজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালিকা পায়েল কাপাডিয়াও এসআরএফটিআই-এর শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বার্তা দিয়েছিলেন এবং ক্যাম্পাসের হিংসার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও হোস্টেল খালি করার নোটিশ:
প্রশাসনের অবস্থান: অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট প্রশাসনের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর কিছু বিক্ষোভকারী পড়ুয়া উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা ও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হেনস্তা চালিয়েছে। এর পরপরই কর্তৃপক্ষ ক্লাস স্থগিত রেখে হস্টেল খালি করার কড়া নির্দেশ দেয় এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে বরখাস্ত বা শোকজ নোটিশ জারি করে। উপাচার্য অবশ্য জানান যে, প্রতিষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু পড়ুয়াই, এবং ক্যাম্পাসে কোনো হিংসার স্থান নেই।
নাসিরুদ্দিন শাহের এই ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর কলকাতার এই কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও রাজনৈতিক তরজা দেশজুড়ে এক নতুন মোড় নিল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


