Tota Roy Chowdhury-Netaji: ‘নেতারা থাকেন গদিতে, নেতাজি হৃদয়ে’, বুকে সুভাষ! অনন্ত মহারাজকে তোপ টোটার

 নেতাজিকে ‘ওয়ার ক্রিমিন্যাল’, ‘দেশদ্রোহী’ বলে অপমান করেছেন বিজেপি সাংসদ। অনন্ত মহারাজকে কড়া জবাব টোটার। 

Published on: Aug 15, 2026, 17:00:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের (নগেন্দ্র রায়) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যে বাংলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সর্বস্তরের বঙ্গবাসী ও বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি এই বিষয়ে সোচ্চার হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী।

‘নেতারা থাকেন গদিতে, নেতাজি হৃদয়ে’, বুকে সুভাষ! অনন্ত মহারাজকে তোপ টোটার
‘নেতারা থাকেন গদিতে, নেতাজি হৃদয়ে’, বুকে সুভাষ! অনন্ত মহারাজকে তোপ টোটার

অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের পাল্টা কড়া সমালোচনা করে নেতাজির পর্বতপ্রমাণ ব্যক্তিত্ব ও তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা মনে করিয়ে দেন এই অভিনেতা। প্রসঙ্গত, নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেছিলেন বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেছিলেন ‘নেতাজি একজন ওয়ার ক্রিমিনাল। যারা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, বন্দুক ধরে তারা কি দেশদ্রোহী নয়?’ পরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ক্ষমা চেয়ে নিলেও বিতর্কের আঁচ কমছে না।

‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলিও স্বীকার করে গেছেন…’

অনন্ত মহারাজের নাম না নিয়েই প্রশ্ন শুনে টোটা রায়চৌধুরী বলেন যে, গদির মোহে অন্ধ নেতাদের চেয়ে নেতাজির স্থান দেশবাসীর হৃদয়ে অনেক ওপরে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘নেতারা থাকেন গদিতে, আর নেতাজি থাকেন হৃদয়ে। নেতাজি ভারতমাতার শ্রেষ্ঠ সন্তান। এটা শুধু আমি বলছি না, ভারতের স্বাধীনতা যে মূলত তাঁর জন্যই এসেছে—তা ইতিহাস এবং খোদ কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।’

নিজের যুক্তির স্বপক্ষে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে টোটা উল্লেখ করেন, 'তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলিকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল—আপনারা এভাবে তড়িঘড়ি ভারত ছেড়ে পালিয়ে এলেন কেন? তিনি স্পষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন: 'Bose and his INA' (সুভাষ বসু এবং তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ)। তাই নেতাজির সম্পর্কে কে কী মন্তব্য করল, তাতে কিচ্ছু এসে যায় না।'

রাজ্যজুড়ে আইনি কোপ ও অনন্তর ক্ষমা ভিক্ষা

অনন্ত মহারাজের এই অবমাননাকর বক্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান কাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়।

অনভিপ্রেত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রকাশ: নিজের দলের ভেতরের চাপ ও সাধারণ মানুষের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অনভিপ্রেত মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন অনন্ত মহারাজ। বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলেন, 'আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'

সংহতি ও ঐতিহ্যের বার্তা

বিপ্লবী অনন্ত সিং-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত'-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন টোটা রায়চৌধুরী। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে নেতাজির এই অপমানকে মেনে নিতে পারেননি অভিনেতা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য বা পদ সাময়িক হতে পারে, কিন্তু নেতাজির ত্যাগ ও লড়াই চিরকাল ভারতের ইতিহাসে অমলীন হয়ে থাকবে।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More