Subhashree Ganguly: ‘শিশু থেকে বৃদ্ধা—কেউই নিরাপদ নয়’, তিনিও মেয়ের মা, বারুইপুর খুন-ধর্ষণ কাণ্ডে সোচ্চার শুভশ্রী

Subhashree Ganguly:  ‘আর কত পরিবার ধ্বংস হবে?’ আড়াই বছরের মেয়ের মা শুভশ্রীর মনেও রক্তক্ষরণ, বারুইপুর কাণ্ডে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাজ-ঘরণীর।

Published on: Jul 7, 2026, 15:24:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আরজি কর কাণ্ডের ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি মেটেনি, এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় ফের উত্তাল গোটা বাংলা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টলিপাড়ার তারকাদের ক্ষোভের আগুনও এবার বাঁধ ভেঙেছে। এই নারকীয় অপরাধের বিরুদ্ধে এবার সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ করে গর্জে উঠলেন টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)।

‘শিশু থেকে বৃদ্ধা—কেউই নিরাপদ নয়’,তিনিও মেয়ের মা,বারুইপুর কাণ্ডে সোচ্চার শুভশ্রী
‘শিশু থেকে বৃদ্ধা—কেউই নিরাপদ নয়’,তিনিও মেয়ের মা,বারুইপুর কাণ্ডে সোচ্চার শুভশ্রী

ব্যক্তিগত জীবনে শুভশ্রী নিজে এক আড়াই বছরের কন্যাসন্তানের (ইয়ালিনি) মা। আর সেই কারণেই বারুইপুরের এই ঘটনা একজন মা হিসেবে তাঁর মনকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভেতরের সবটুকু ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

‘শিশু থেকে বৃদ্ধা— কোনও বয়সই আজ আর নিরাপদ নয়’

টলিউডের ‘ইন্দুবালা’ পর্দায় যতই দাপুটে চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, বাস্তবে সমাজের এই পচন তাঁকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের পোস্টে বিচার ব্যবস্থার খামতি এবং অপরাধীদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভশ্রী লিখেছেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধা— কোনও বয়সই আজ আর নিরাপদ নয়। এই বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলো থামছে না, আর থামবেও না, যতদিন না তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। শাস্তির অভাবই তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস জোগাচ্ছে।’

‘রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ— সবই হচ্ছে, কিন্তু বদলায় না কিছুই’

প্রতিবাদের চেনা ছক ও মোমবাতি মিছিলের পরও যে সমাজের বাস্তব চিত্রটা বিন্দুমাত্র বদলায়নি, তা নিয়ে নিজের তীব্র অসহায়তা প্রকাশ করেছেন রাজ-ঘরণী। একের পর এক ঘটে চলা নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ওঁর প্রশ্ন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ— সবই হচ্ছে। কিন্তু তারপরও যেন কিছুই বদলায় না। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পরিচিত কিংবা অচেনা কোনও নারী এমন নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। বারুইপুরের ঘটনাও আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, আমরা এখনও কতটা অসহায়। প্রশ্ন একটাই— এর শেষ কোথায়? আর কত নিরীহ নারীকে এই বর্বরতার শিকার হতে হবে? আর কত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে?

.ক্ষোভ নয়, মনে জমে আছে গভীর যন্ত্রণা

আজকের দিনে কন্যাসন্তানের মায়েরা যে কী ভয়ংকর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা শুভশ্রীর প্রতিটি লাইনে স্পষ্ট। তিনি জানান, এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু ক্ষোভ নয়, বরং এক গভীর যন্ত্রণা হয়ে ওঁর মনে জমে আছে। লেখার শেষে এক নিরাপদ সমাজের আকুতি জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি, যেখানে অপরাধীরা ভয় পাবে, আর নারীরা ভয়মুক্ত হবে।’

কয়েকদিন আগেই ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে দেবের সাপোর্টে হাজির হয়েছিলেন শুভশ্রী। কাজের ক্ষেত্রে আপতত দেশু৭ নিয়ে ব্যস্ত নায়িকা। কিন্তু সবকিছুর মাঝে খবরের কাগজের পাতায় বারুইপুরের এই পৈশাচিকতা দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না এই শুভশ্রী। ওঁর এই প্রতিবাদী পোস্ট ঘিরেও দ্বিধাবিভক্ত জনতা। অনেকেই শুভশ্রীকে কটাক্ষ করছেন। কেউ ‘সুবিধাবাদী’ তোপ দাগলেন, কেউ লিখলেন- ‘এতদিনে চোখ খুলল’। অনেকে আবার সাধুবাদ জানাচ্ছেন নায়িকার প্রয়াসকে। তবে সকলেই এখন অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More