Sushmita Sen: ‘সাইড রোলও জুটবে না, ২৪ বছরের মাকে কে কাজ দেবে?’ রেনেকে দত্তক নিতেই চম্পট দেয় সুস্মিতার ম্যানেজার!
সুস্মিতা সেন ছক ভাঙতে জানেন। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে সিদ্ধহস্ত এই বঙ্গতনয়া। তাই তো ২৬ বছর আগে সিঙ্গল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেননি। মাত্র ২৪ বছর বয়সে দত্তক নিয়েছিলেন ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানকে।
সালটা ২০০০। ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরীর মুকুট মাথায় নিয়ে তখন বলিউডের প্রথম সারিতে নিজের জমি শক্ত করছেন তিনি। বয়স মাত্র চব্বিশ। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চেনা ছক ভেঙে হুট করেই এক কন্যাসন্তানকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সুস্মিতা সেন। ব্যস! টলমল করে উঠেছিল ‘পুরুষতান্ত্রিক’ বলিউডের চেনা ভিত। এক চব্বিশ বছরের অবিবাহিতা তরুণী সিঙ্গল মাদার হতে চলেছেন— এই ‘পাপ’ যেন মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, খোদ সুস্মিতার ম্যানেজারই ভয়ে রণে ভঙ্গ দেন!

‘চরিত্রাভিনেত্রীর রোলও জুটবে না!’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর কথা মনে করে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁশ করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রী জানান, রেনিকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই তাঁর ম্যানেজার কার্যত চম্পট দেন। সুস্মিতার ভাষায়:
"আমার ম্যানেজার পালিয়ে গিয়েছিল। ও সোজা বলে দিয়েছিল— ‘তুমি নিজের কেরিয়ার নিয়ে বিন্দুমাত্র সিরিয়াস নও। ২৪ বছরের এক মায়ের ম্যানেজার হিসেবে আমি কাজ করতে পারব না। কেরিয়ার তো শেষ, এরপর চরিত্রাভিনেত্রীর (ক্যারেক্টার রোল) পার্টও জুটবে না তোমার কপালে!’
যদিও দমে যাওয়ার পাত্রী সুস্মিতা নন। নিজের চেনা মেজাজেই সেই ম্যানেজারকে বিঁধে সুস্মিতা বলেন, ‘ও পালিয়ে বাঁচল, আর আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম (গুড রিড্যান্স টু ব্যাড রাবিশ)। আমি খুব ভালোই ছিলাম ও চলে যাওয়াতে।’ মজার বিষয়, ম্যানেজার যে কেরিয়ার শেষের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মা হওয়ার পরেই নাকি কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট ছবিগুলো উপহার দিয়েছিলেন সুস্মিতা। শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ম্যায় হুঁ না’ (২০০৪) কিংবা সলমন-ক্যাটরিনার সঙ্গে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া’ (২০০৫)— সবটাই রেনির মা হওয়ার পর।
গডফাদারহীন ‘সেলফ-মেড’ সুন্দরীর নিজস্ব নিয়ম
সুস্মিতা জানান, সেই সময়ে পুরুষের চেয়েও নাকি অন্যান্য নারীদের থেকেই বেশি বাঁকা কথার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সুস্মিতা বরাবরই স্রোতের বিপরীতে হাঁটা এক ‘অ্যাঞ্জেল’। সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন:
‘আমি একজন সেলফ-মেড নারী। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো গডফাদার নেই। কেউ আমাকে রেডিমেড প্ল্যাটফর্ম দেয়নি। যা করেছি, নিজের দমে করেছি। তাই আপনাদের তৈরি করা নিয়ম আমার ওপর খাটবে না। আমার জীবনে নিয়ম আমিই তৈরি করব।’ ২৪ বছর বয়সে রেনেকে এবং পরবর্তীকালে ২০১০ সালে ছোট মেয়ে আলিশাকে দত্তক নিয়ে মাতৃত্বের এক অনন্য নজির গড়েছেন মিস ইউনিভার্স।
ওটিটি-র দুনিয়ায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
কেরিয়ারের মধ্যগগনে মাতৃত্বের জন্য কিছুটা বিরতি নিলেও ২০২০ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘আরিয়া’ সিরিজ দিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে সুস্মিতার। প্রথম সিজনেই আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা ড্রামা সিরিজের মনোনয়ন পেয়েছিল এই শো। এরপর রূপান্তরকামী সমাজকর্মী গৌরী সাওয়ান্তের বায়োপিক ‘তালি’-তেও সুস্মিতার অভিনয় সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে। বড় মেয়ে রেনিও ২০২১ সালে পা রেখেছেন অভিনয়ের দুনিয়ায়। যে ইন্ডাস্ট্রি একদিন সুস্মিতাকে ব্রাত্য করতে চেয়েছিল, আজ সেই ইন্ডাস্ট্রিই কুর্নিশ জানাচ্ছে এই ‘সিঙ্গল মাদার’-এর জেদকে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


